ময়মনসিংহের গৌরীপুরে কালবৈশাখী ঝড়ে লন্ড-ভন্ড ফসল

Desk Reporter
Desk Reporter
প্রকাশিত: ১:৫১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৭, ২০২১

জুবায়ের খন্দকার, ময়মনসিংহঃগেল ৪ঠা এপ্রিল রবিবার সন্ধ্যায় ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ে লন্ড-ভন্ড হয়ে গেছে সোনালী ফসলের মাঠ। সেই সাথে প্রবাহিত গরম বাতাসে পুড়ে গেছে উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের শতশত কৃষকের সোনালী ফসলের মাঠ।

উপজেলা কৃষি অফিসার লুৎফুন্নাহার চ্যানেল সিক্সকে বলেন-ইরি এবং বোরো মৌসুমের ধান ক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে ১৫ হেক্টর জমি সেই সাথে শাক-সবজির ক্ষেতও নষ্ট হয়েছে প্রায় ২ হেক্টর জমি।

সরোজমিনে গিয়ে স্থানীয় কৃষক ভাইদের সাথে কথা বলে জানা গেছে যে, এ ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি।
উপজেলার সহনাটী ইউনিয়নের কৃষক আঃ মান্নান বলেন-গরম বাতাস যেই দিক দিয়ে বয়ে গেছে সেদিক দিয়ে ধানের সবুজ ক্ষেত পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে।

উপজেলার মাওহা ইউনিয়নের কৃষক জাহাঙ্গীর বলেন-অচিন্তপুর ইউনিয়নের শাহগঞ্জ এলাকা থেকে গরম বাতাসে মাওহা ইউনিয়নের বিশাল এলাকাজুড়ে সমস্ত ধানক্ষেত পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে।

গৌরীপুর উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের রামগোপালপুর গ্রামের কৃষক কালাম মিয়া বলেন-রবিবার
বিকালে থেকে শুরু হওয়া কালবৈশাখী ঝড়ের গরম বাতাসে জমির ধান পুড়ে সাদা হয়ে গেছে। কান্না জড়িত
কন্ঠে তিনি বলেন, এখন বউ-বাচ্চা নিয়ে মরন ছাড়া আর উপাই নাই।

একই গ্রামের আরেক কৃষক বাদশা বলেন-এর আগে গরম বাতাসে এভাবে ধান কখনো নষ্ট হওয়ার নজির নাই। ঋণ করে ধান চাষ করে এখন আমরা বিপদে আছি। শুধু ঋণের টাকার ব্যবস্থাও যদি সরকার করে দিত তাহলে কিছুটা হলেও রক্ষা পেতাম।

একই এলাকার মোঃ সবুর আলী বলেন-ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ৫৫ শতাংশ জমিতে ধান চাষ করেছিলাম। ধান এমনভাবেই নষ্ট হয়ে গেল। দেখে মনে হয় এবার পাঁচ মণ ধানও পাব না। এখন খাব কি আর ঋণ কোথা থেকে দেব? তাই আমি ভেবে পাচ্ছি না। যদি সরকার আমারদের দিকে মুখ তুলে তাকাত তাহলে এ যাত্রায় হয়তো বেঁচে যেতাম।’

গসহনাটী ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মোঃ শরিফুল ইসলাম চ্যানেল সিক্সকে বলেন-তিনি
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেছেন। আর ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের সাথে তিনি কথাও বলেছেন।