ফসলি জমিতে অবৈধ ইট ভাটা নির্মান কাজ বন্ধের দ্বাবিতে মানববন্ধন

CNNWorld24
CNNWorld24 Dhaka
প্রকাশিত: 4:23 PM, November 30, 2020

লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় কোন ধরনের অনুমোদন ছাড়াই ফসলি জমির উপর গড়ে তোলা হচ্ছে অবৈধ ইটভাটা। এই ইটভাটা বন্ধের দাবিতে মানব বন্ধন করেছে এলাকাবাসী। ৩০ নভেম্বর (রবিবার) বেলা ১২টার দিকে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করার পর, প্রশাসন কর্তৃক ঐ ইট ভাটার কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ০৫-০১-২০২০ ইং তারিখে জেলা প্রশাসক বরাবর দায়ের করা ঐ অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের নামুড়ি চন্দ্রপুর গ্রামের বারবিষার দোলায় বছরে তিনটি বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ করে জিবিকা নির্বাহ করে  কয়েকটি স্থানীয় গ্রাম থেকে প্রায় শতাধিক কৃষক পরিবার। বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কৃষকদের সেচ সুবিধার্থে বার্বিশার দোলায় কয়েকটি সেচ পাম্প স্থাপন করেছে।

প্রতি বছর বাড়িতে তিনটি ফসল কাটা হয়।সুখেই ছিলেন কৃষকরা। কিন্তু আবারও চলতি মাসে সেই বারবিষার দোলার নামুড়ি চন্দ্রপুর গ্রামের দুলাল, মান্নান, সালামের নিকট ১৮ দোন ও কেরামত আলীর নিকট থেকে ৬ দোন ( এক দোন= ২৭ শতক) জমি চুক্তিতে লিজ নিয়ে একটি ইটভাটা নির্মাণের কাজ শুরু করেন লালমনিরহাট শহরের নামাটারী এলাকার ইট ব্যবসায়ী এন্তাজ আলী। পাশ্ববর্তি জমির মালিকদের না জানিয়ে কৃষকদের জমির উপর ভাটার মাটি ফেলে স্তুপ করেন। ফলে এসব কৃষক চলতি ইরি বোরো চাষাবাদ করতে পারছেন না। ফসলি জমির উপর ইটভাটা নির্মাণের প্রতিবাদে এবং ভাটাটি বন্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে স্থানীয় কৃষকরা এ মানব বন্ধন করেন ।

নির্মানাধীন ইট ভাটার পাশের জমির মালিক আব্দুস সালাম (৪০) জানান, তার ৩১.৫ শতক জমির উপরে জোড় পূর্বক ঐ ভাটার মাটি ফেলা হয়েছে। তাই ইচ্ছা থাকলেও জমিতে চাষাবাদ করতে পারছেন না। অপর দিকে ভাটা নির্মাণ কাজ চলমান থাকায় চলতি ইরিবোরো চাষাবাদসহ আগামী দিনে ভাল ফসল পাওয়া নিয়েও শ্বঙ্কিত অন্যান্য কৃষকরা ভাটার আশ পাশের গ্রামের কৃষক সাইদুল ইসলাম, মোস্তাফিজার রহমান, আফরোজা বেওয়া, মোহাম্মদ আলীসহ অনেকেই দাবী করেন বারবিষার দোলার জমির ফসল দিয়েই চলে তাদের পুরো পরিবার। ইরি বোরোতে প্রতি শতাংশে এক মণের অধিক ধান ফলে। এমন জমিতে ইটভাটা করায় ভবিষ্যতে ফসলহানীর আশংকাও করেন তারা। অথচ ভাটা মালিক বীরদর্পে আবারও ঐ ভাটার নির্মাণ কাজ শুরু করেছেন।

কৃষকরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন ফসলি জমি নষ্ট করে কোন কারখানা গড়ে তোলা যাবে না। নির্মানাধীন ঐ ভাটার মালিক এন্তাজ আলী জানান, সবেমাত্র ভাটা নির্মাণ করা হচ্ছে। আগুন দেয়ার আগে পরিবেশ অধিদফতরসহ সকল বিভাগের অনুমোদন নেয়া হবে।

এ বিষয়ে লালমনিরহাট জেলা প্রষাসক মোঃ আবু জাফর এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মামুনুর রশিদ (মিঠু), লালমনিরহাট।

কয়েকটি স্থানীয় গ্রাম থেকে প্রায় শতাধিক কৃষক পরিবার। বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কৃষকদের সেচ সুবিধার্থে বার্বিশার দোলায় কয়েকটি সেচ পাম্প স্থাপন করেছে। প্রতি বছর বাড়িতে তিনটি ফসল কাটা হয়।