ধরলা নদীর তীরে কলা চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে

CNNWorld24
CNNWorld24 Dhaka
প্রকাশিত: 2:20 PM, December 8, 2020

মামুনুর রশিদ মিঠু, লালমনিরহাট সংবাদদাতা: লালমনিরহাটে ধরলা নদীর তীরে কলা চাষ এখন একটি
জনপ্রিয় ফসল হয়ে উঠেছে।জেলায় অন্যান্য ফসলের চেয়ে লাভজনক হওয়ায় কলা চাষিদের সংখ্যা দিন দিন
বাড়ছে। জেলার সদর উপজেলার মুঘলহাট ইউনিয়নে ধরলা নদীর চরএলাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চল পরিদর্শন করে
জানা গেছে কৃষকরা কলা চাষে সাফল্যের মুখ দেখেছেন। ফলস্বরূপ, অনেকে অন্য জমিতেও কলা চাষ করছেন।
অনেকে তাদের বাড়ির আশ-পাশের পতিত জমিতে পরীক্ষামুলক কলা বাগানের চাষ করছেন।

যেখানে স্থানীয় কৃষকরা অন্যান্য ফসলে উপকৃত হতে পারছেন না, সেখানে তারা কলা চাষে সফল হচ্ছেন।
ফলস্বরূপ, কলা বাগানের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। নতুন কৃষকরাও এতে জড়িত হচ্ছেন। একরের পর একর কলা
চাষ করে তারা প্রচুর অর্থাপার্জন করতে পারায় অনেক স্থানীয় যুবকরাও তারা তাদের পেশা পরিবর্তন করে
কলা চাষবাদ করে চলেছেন।

জেলার সদর উপজেলার মুঘলহাট ইউনিয়নের বিভিন্ন অঞ্চল বিস্তীর্ণ জমিতে কলার বাগান ঘুরে দেখা গেছে।
উদ্যানের মালিক-কর্মচারীরা যত্নের সাথে এ চাষাবাদে জড়িত। উপজেলার মুঘলহাট ইউনিয়ন ধরলা নদী দ্বারা
বেষ্টিত। এই ইউনিয়নের বেশিরভাগ পতিত জমি বালু দিয়ে আবৃত। অন্যান্য ফসল যেখানে ভাল হচ্ছে না, সেখানে
কলা রোপণ করে অনেকে আর্থিক সমৃদ্ধি এনেছে। ইউনিয়নের কলা চাষিদের কয়েকজন জানিয়েছেন, অন্যান্য
ফসলের উৎপাদন তুলনায় কলা চাষের ব্যয় কম এবং লাভও বেশি। যেসব অঞ্চলে আগে ধানের চাষ হত,
সেখানে এখন কলার বাগান তৈরি করা হচ্ছে। তারা বলেছে যে তারা গত মৌসুমে কলা বিক্রি করে প্রচুর
অর্থাপার্জন করেছে। সব মিলিয়ে লাভের মার্জিন অন্যান্য ফসলের তুলনায় কিছুটা বেশি হওয়ায় কলা চাষ
জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

জানা গেছে, ধরলা ঘেরা মোঘলহাট ইউনিয়নের চর অঞ্চলে বিপুল সংখ্যক স্থানীয় যুবক বে-সরকারী জমি ছাড়া
অন্য জমি ইজারা নিয়ে কলা চাষ করছেন। বিঘা প্রতি বছর ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার চুক্তিতে জমি লিজ দেয়।
কলা চাষের জন্য প্রতি বিঘায় কমপক্ষে ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রতি বিঘা জমিতে প্রায়
৪শ কলা গাছ রোপণ করা হয়। মৌসুম শেষে প্রতিটি বিঘা বাগান থেকে কমপক্ষে দেড় থেকে দুই লাখ টাকার কলা
বিক্রি করা যায়। তবে, বাগানটি যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ হয়, তবে লাভের পরিমাণটি কিছুটা ভিন্ন
হয়। চর ফালিমারী, গোরাকমণ্ডল, কুরুল, খাতামারী, মাঝের চর, খড়ুয়ার চর, চর কুলাঘাট, শিবেরকুটি, মন্ডল
চর ও উজানের চরগুলিতেও কলা চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অনেক বেকার যুবক তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের
চেষ্টা করছে।

কলা চাষীরা জানান,নানা কারনে দেশে দিন দিন বেকারের সংখ্যা বাড়ছে।জীবন জীবিকার তাগিদে মানুষ
প্রতি নিয়ত পেশা পরিবর্তন করছে।সেক্ষেত্রে যদি কম খরচে বেশী লাভ হয় তবে তো কথায় নেই উল্লেখ
করে তারা আরো বলেন,স্থানীয় কৃষি বিভাগের সহযোগিতা পেলে আরো ভাল কিছু করা সম্ভব বলে মনে
করেন তারা।
মামুনুর রশিদ মিঠু
লালমনিরহাট।