জয়পুরহাটে ৪২হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ, বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

CNNWorld24
CNNWorld24 Dhaka
প্রকাশিত: 1:03 PM, February 13, 2021

আবু মুসা,জয়পুরহাট: দেশে দ্বিতীয় বৃহত্তম আলু উৎপাদনকারী জেলা হিসেবে পরিচিত জয়পুরহাট জেলায় এবার রেকর্ড পরিমাণ জমিতে আলু চাষ হয়েছে।আলুতে বাম্পার ফলনও বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ।

জয়পুরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে জেলায় ৪২ হাজার ৪শত ২৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে। এরমধ্যে জয়পুরহাট সদর উপজেলায় ৭ হাজার ১শত ৫০ হেক্টর পাঁচবিবি উপজেলায় ৭ হাজার ৫০ হেক্টর আক্কেলপুর উপজেলায় ৬ হাজার ৩শ হেক্টর ক্ষেতলাল উপজেলা ৮ হাজার ৮০ হেক্টর এবং কালাই উপজেলায় ১৩ হাজার ২ শ ৩০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ
হয়েছে।

গত বছর আলুর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৯ লাখ ৫০ হাজার ৬৮৩ মেট্রিক টন।এবার ধরা হয়েছে ১১ লাখ মেট্রিক টন। ভালো ফলন ও লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কৃষকরা এবার উন্নত জাতের- এ্যারিস্ট্রিক, কার্ডিনাল, ডায়ামন্ড, লরা, ক্যারেজ, গ্যানোলা, মিউজিকা, রোমানা,লাল পাকরি, এবং দেশি জাতের- পাকরি, পাহারি পাকরি, বট পাকরি, তেল পাকরি, ফাটা পাকরি,জাম আলু ও আগাম জাতের-ফ্রেস আলু সহ অন্যান্য জাতের আলু চাষ করেছে।

রোপন মৌসুমী আলু বীজে উচ্চমূল্য হওয়ায় বিঘা প্রতি আলুতে এবার খরচ হয়েছে ১৫-২০হাজার টাকা এবং বিঘা প্রতি এবার উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ৯০-১০০ মন। বাম্পার ফলন এবং বাজার দরে বেশ আনন্দিত আলু চাষীরা।এ অঞ্চলেএখন আলু তোলা উৎসবে মেতে উঠেছে আলু চাষীরা।জমি থেকে আলু সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রির করে যার পর নাই খুশি কৃষকের।

বর্তমানে জাত ভেদে মন প্রতি আলুর বাজার দর চলছে ৪০০থেকে ৫০০ টাকা। জেলার কালাই উপজেলার আহম্মেদাবাদ, মাত্রাই, উদয়পুর, পুনট ও জিন্দারপুর ইউনিয়নের কৃষকরা এখন আলু তোলা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় কৃষকরা জানান জেলায় আলু তোলা শুরু হয়েছে, গত বারের মতো এবারও এই জেলায় আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে।উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে কৃষকরা বিঘাপ্রতি লাভ করছেন ১৫থেকে ২৫ হাজার টাকা। ফলন ভালো হওয়ায় এবার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

উপজেলার খোসালপুর নওপাড়ার কৃষক তাজুল ইসলাম, থুপসাড়ার আব্দুল মোমিন, হাজীপাড়ার মোশাররফ, বালাইটের আব্দুল বাসেদসহ অনেকে জানান, ভালো ফলন ও ভালো দাম পাওয়ার আশায় এবার তারা আলু চাষ করেছেন। তাদের দাবি, কৃষকদের স্বার্থে সরকার আলুর ভালো দাম নিশ্চিত করবেন।এজন্য সংশ্লিষ্টরা বিদেশ থেকে আলু আমদানী বন্ধ করবেন এবং বিদেশে আলু রপ্তানির
জন্য এখন থেকেই উদ্যোগ নিবেন।

শিবসমুদ্র গ্রামের কৃষক আজিজুল ইসলাম বলেন, প্রথমে আলু বিক্রি করেছি ৭০০ টাকা মণে।পড়ে ৬০০ টাকা। আর এখন বিক্রি করলাম ৪শ থেকে ৫শ টাকায়। এতেও আমি লাভবান হয়েছি।

আটিদাসরা গ্রামের বেলাল হোসেন বলেন, গত বছর ২ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছিলাম। এবার করেছি ৫ বিঘাতে। এর মধ্যে ৩বিঘার আলু তোলা শেষ। প্রতি বিঘায় ১৮ হাজার টাকা করে লাভ হয়েছে। ক্ষেতলালের কুড়লগাড়ি গ্রামের কৃষক মজিবর রহমান বলেন, ৬বিঘা জমিতে আলুর চাষ করেছি। প্রতি বিঘায় ৮৫-১০০ মণ আলু হয়েছে।৪৩০ টাকা মণ দরে আলু বিক্রি করেছি। এতেই আমি খুশি।

জয়পুরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক স. ম. মেফতহুল বারি জানান,আলুর বাম্পার ফলন নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগ কৃষকদের মাঝে নিয়মিত ও ব্যক্তিগত যোগাযোগ এবং উঠান বৈঠক মাঠ সভা করেছে। এছাড়া কৃষকদের সচেতনতা বাড়াতে জেলার পাঁচটি উপজেলায় লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। এবার আবহাওয়াও ছিল অনুকূলে,কৃষি বিভাগের পরামর্শে কৃষকরা বাম্পার ফলন পেয়েছে।