পিকে হালদারের আমানত সংগ্রহে অভিনব নীলনকশা তৈরী

Desk Reporter
Desk Reporter
প্রকাশিত: ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২১

নিউজ ডেস্ক: পিকে হালদারের আমানত সংগ্রহে অভিনব  নীলনকশা তৈরী। মাত্র ৩ বছরে অভিনব কায়দায় অর্থ লুটপাট ছাড়াও নীলনকশা তৈরী করা হয় আমানত সংগ্রহেও । হাজার কোটি টাকা ডিপোজিট সংগ্রহে এজেন্টদের দেওয়া হয় ৬৪ কোটি টাকা কমিশনের নামে ঘুষ।

১৬৪- ধারার ৮জনের জবানবন্দিতে লিজিং কোম্পানীগুলোর ব্যাংকিং নীতিমালা না মেনেই নিজের পছন্দের লোকদের উচ্চপর্যায়ে বসায়। আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের নামে নাম সর্বস্ব ভুয়া প্রতিষ্ঠান খুলে হাজার কোটি টাকা লুটপাটের মূল গড ফাদার  পিকে হালদার ও তার ৫ জনের সিন্ডিকেট।

“প্রশান্ত কুমার হালদার এবং তার চক্র উইন্টাল ইন্টারন্যাশনাল লি: নামে কাগুজে প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে তার আয়কর আইনজীবী হিসেবে সুকুমার মৃধা ও তার মেয়ে শিক্ষার্থী অনিন্দিতা মৃধার নামে।

নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য তাদের দুজনকেই কোম্পানীর পরিচালকও বানান। পরবর্তীতে ফাস ফাইন্যান্স থেকে পিকের সিন্ডিকেট এ কোম্পানীর নামে নেয়া হয়- ৬০ কোটি টাকা। সুকুমার মৃধার-১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে এমন সত্যটাই উঠে এসেছে।

ইন্টান্যাশনাল লিজিংয় এর এমডি রাশেদুল হক তার-১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে বলেন, তিনি২০১৫-সালে পিকে হালদারের অনুরোধেই ইন্টারন্যাশনাল লিজিং-এ এমডি হিসেবে যোগদান করেন ।

ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের বোর্ডের সদস্য না হয়েও কিন্তু পিকে হালদার সভায় উপস্থিত থেকে যে কোনো ব্যক্তির ঋণ পাস করে দিতেন। মজার বিষয় অনুমোদিত ঋণ গ্রাহকের ব্যাংক হিসাবে না গিয়ে পাঠানো হতো পিকের অ্যাকাউন্টে।

দুদকের সাবেক মহাপরিচালক মাইদুল ইসলাম জানান,তারা কল মানি বলছেন কিন্তু তারা এটা ব্যাংক ডিপোজিট রাখছেন যেমন করে একজন সাধারণ মানুষ ডিপোজিট রাখেন। সহজে প্রাপ্তির কারণেই কিন্তু তারা ঋণের আড়ালে বা ঋণের নামে নিজেরাই নিজেদের লোকের মাধ্যমে নিচ্ছেন।

অপরদিকে, আনান কেমিক্যাল প্রতিষ্ঠানের নামে-৭০ কোটি ৮২ লক্ষ টাকা ঋণ প্রদানে রাশেদুল হক নিজেই ঋণ ছাড় করে দেন বলেও জানান আরেক আসামি ভারপ্রাপ্ত এমডি সৈয়দ আবেদ।

এ পর্যন্ত ৮ জনের-১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে উঠে আসে হাজার কোটি টাকা লুপাটের মূল কাজ করেছেন পিকের-৫ জনের সিন্ডিকেট।লুটপাট হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর নাহিদা রুনাই-রাশেদুল হক- রাফসান চৌধুরী-আল মামুন সোহাগ।

দুদক আইনজীবী খুরশীদ আলম খান জানান, এ জবানবন্দিগুলো খুবই ইফেক্টিভ হবে । ইনভেস্টিগেশন শেষ হওয়ার জন্য। আবার যে মেজিস্ট্রেট এ- ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করছেন, যখন মামলার ট্রায়াল শুরু হবে বা বিচার শুরু হবে উনি সেখানেই আবার জবানবন্দি নেবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন বলছে, প্রতিষ্ঠানটি ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকে ৪- হাজার কোটি টাকা ঋণের বিপরীতে বন্দকি সম্পদের পরিমাণ মাত্র-৭০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ-৩ হাজার-৩শ কোটি টাকার ঋণ আদায় অনিশ্চিত। যার-১১০০ কোটি টাকা সরিয়ে নেয় এই পিকের সিন্ডিকেট।