মধুখালীতে রাজু হত্যার উদঘাটন-লাশ নিয়ে বিপাকে পুলিশ

CNNWorld24
CNNWorld24 Dhaka
প্রকাশিত: 11:25 PM, January 5, 2021

মিজানুর রহমান,ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি: ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়নের মাঝকান্দির দাসপাড়া গ্রামের রাজু সাহা (২২) হত্যার রহস্য উদঘাটিত হয়েছে।

তাদের নির্মানাধীন ভবনের রাজ মিস্ত্রি জসিম মোল্যা (২১) রাজুকে হত্যা করে মিস্ত্রিদের জন্য নির্মিত টয়লেটের ট্যাংকির মধ্যে ফেলে দেয়।এদিকে রাজুর মৃত্যুর পর আড়পাড়া গ্রামের এক মুসলিম তরুণী (২০) দাবি করেছেন রাজু ধর্মান্তরিত হয়ে তাকে বিয়ে করেছেন। তাদের ছয়মাস বয়সী একটি সন্তানও আছে।

এ প্রেক্ষাপটে ময়না তদন্তের পর রাজুর মৃতদেহ কার হাতে তুলে দেওয়া হবে এ নিয়ে বিপাকে পড়েছে পুলিশ।আজ ৫ জানুয়ারী ২০২১ ফরিদপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ কথা জানান ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) জামাল পাশা।

মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রাজু এবং রাজমিস্ত্রী জসীম ওই এলাকার এক তরুণীকে ভালোবাসতেন।

পাশাপাশি জসীমের স্ত্রী আট মাসের সন্তান সম্ভবা। এ সময় তার অনেক টাকা প্রয়োজন। এ দুটি কারনে জসীম হত্যা করে রাজুকে। হত্যার পর রাজুর হাতের দুটি আংটি, একটি বেসলেট ও দুটি মুঠোফোন হাতিয়ে নেয় জসীম।

জসীমকে তার শ্বশুরবাড়ী তেকে গ্রেপ্তার করা হলে তিনি পুলিশের কাছে ১৬১ ধারায় এ হত্যার দায় স্বীকার করেন। জসিমের বাড়ি রাজবাড়ির বালিয়াকান্দি উপজেলার বামুন্দি গ্রামে। মঙ্গলবার ভোররাতে তাকে বোয়ালমারী উপজেলার দিরদি চরপাড়া হতে পুলিশের একটি দল গ্রেপ্তার করে।

এসময় তার দেখানো তথ্য অনুযায়ী হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত একটি রড সহ নিহতের দুটি সোনার আংটি, একটি বেসলেট ও মোবাইল ফান উদ্ধার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরো জানান, জসিম রাজুদের নির্মিতব্য দ্বিতল ভবনের রাজমিস্ত্রীর কাজ করছিল।

সেই সুবাদে সে রাতের বেলায় নির্মিতব্য ওই ভবনেই থাকতো। আর রাজুর মা অরুনা রানী সাহা ও বোন তৃষা রাণী সাহা কিছু দুরে একটি বাসায় থাকতো।
গত শনিবার দিবাগত রাতে রাজু জসীমের সাথে নব নির্মিত ভবনে রাত কাটান।

ওই রাতে জসীম তাকে রোহার এঙ্গেল দিয়ে হত্যা করে পরে টয়লেটের ট্যাংকির মধ্যে লুকিয়ে রাখেন। এদিকে নিহত রাজুকে স্বামী দাবি করে তাকে মুসলিম রীতিতে দাফনের জন্য পুলিশের নিকট আবেদন করেছে ৬ মাসের শিশু সন্তানের মা জাকিয়া খান (২০)।

তার দাবি, ঢাকার সিএমএম কোর্টে নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে ২০১৮ সালের ৫ জুন রাজু ধর্মান্তরীত হয়ে মুসলমান হয়। রাজু সাহা হতে নিজের নাম পরিবর্তন করে মাহমুদ আহমেদ রাখেন। ওই বছরের ৭ জুন নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়।

৬ মাসের শিশু সন্তানটিও তাদের। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে জাকিয়ার দেয়া তথ্যের সত্যতা যাচাই করার জন্যে মধুখালী থানার একজন এসআই সাইফুদ্দিনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। জাকিয়ার বাড়ি মধুখালরি আড়পাড়া গ্রামে। পিতার নাম জাকির খান।

পুলিশ সুপার জামাল পাশা বলেন, রাজু ধর্মান্তরিত হয়েছিল কিনা এবং জাকিয়ার সাথে তার বিয়ে হয়েছে কিনা তা যাচাই বাছই করার পর রাজুর লাশ হস্তান্তর করা হবে।

তিনি বলেন অবশ্য রাজুর মা দাবি করেছেন তার ছেলে অবিবাহিত ছিল। তিনি বলেন, বর্তমানে রাজুর লাশ ফরিদপুর ডায়াবেটিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে।

এ ঘটনায় নিহত রাজুর মা অনিমা রানী সাহা অজ্ঞাত ব্যাক্তিদের আসামি করে গত সোমবার মধুখালী থানায় একটি হত্যা মামলাদায়ের করেছেন।জসীমকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেকিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে জেলার মূখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতেসোপর্দ করা হবে।