দর্জি দোকানের স্লিপ ধরে নবজাতক হত্যার রহস্য উন্মোচন

CNNWorld24
CNNWorld24 Dhaka
প্রকাশিত: 11:37 AM, February 1, 2021

সিলেট প্রতিনিধি: হত্যার পর নবজাতকের মরদেহ ভ্যানিটি ব্যাগে ঢুকিয়ে গুম করতে নদীতে ফেলা হয়েছিল। এ ঘটনার অদৃশ্য সাক্ষী হয়ে ছিল কেবল একটি কাগজ । আর সেইএক টুকরো কাগজের সূত্র ধরেই হত্যাকারীকে খুঁজে বের করেছে পুলিশ।

গত (২৮ জানুয়ারি) বৃহস্পতিবার সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার লক্ষ্মীপ্রসাদ গ্রামের পার্শ্ববর্তী বড়গাং নদী থেকে এই নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আলামত হিসেবে ভ্যানিটি ব্যাগে থাকা দর্জী দোকানের একটি স্লিপ ধরে স্বপ্রণোদিত হয়ে হত্যার রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা চালিয়েযান পুলিশ সদস্যরা।

এর একদিন পর শুক্রবার রাতে জৈন্তাপুর নিজপাট ইউনিয়নের নয়াবাড়ি থেকে ওই নবজাতকের হন্তারক জন্মদাতা গোলাপ মিয়াকে (২২) গ্রেফতার করা হয়। সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় গোলাপ মিয়ার গ্রামের বাড়ি। পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া নবজাতকের মরদেহের ময়না তদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষা করার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পাশা-পাশি ভ্যানিটি ব্যাগে পাওয়া দর্জি দোকানের একটি পুরনো স্লিপ ধরে তদন্ত চলে। সেই সঙ্গে নারী সোর্সের মাধ্যমে খবর নিয়ে গর্ভধারিণী কিশোরী মায়ের খোঁজ মেলে। এরপর আসামীকেও গ্রেফতার করতে সক্ষম হন তদন্তে নিয়োজিত জৈন্তাপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজিজ আহমদ।

জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসীন আলী জানান, বছর দুয়েক আগে জৈন্তাপুর উপজেলার রহিমাকে বিয়ে করেন গোলাপ মিয়া। বিয়ের পর স্ত্রীকে নিয়ে নয়াবাড়ি এলাকায় ভাড়া বাসায় উঠেন তারা। প্রতিবন্ধী কিশোরী শ্যালিকাকে তাদের বাড়িতে রেখে তার শাশুড়ী চলে যান সৌদি আরবে। তিনি দেশে ফেরেন ৭ মাস পর।

ইতোমধ্যে গোলাপ মিয়া প্রতিবন্ধী শ্যালিকাকে ধর্ষণ করেন। গোলাপ মিয়া শ্যালিকার গর্ভের বাচ্চা গোপনে প্রসব করাতে গত ২৫ জানুয়ারি অন্যত্র নিয়ে যান। জন্মের পর নবজাতককে হত্যা করেন তিনি। নবজাতকের মরদেহ গুম করতে ওই নারীর ব্যবহৃত ভ্যানিটি ব্যাগে ঢুকিয়ে বড়গাং নদীতে ফেলে দেন উল্লেখ করে ওসি আরোও বলেন, ব্যাগের ভেতরে পাওয়া দর্জির দোকানের স্লিপ ধরে তদন্তে নেমে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর শিশুটিকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন গোলাপ মিয়া।

এ ঘটনায় গোলাপ মিয়ার শাশুড়ি বাদী হয়ে থানায় ধর্ষণ, হত্যা ও মরদেহ গুম করার অপরাধে মামলা দায়ের করেন। ঘটনার শিকার ওই কিশোরী আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে তবে নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট আসামীর সঙ্গে মিলিয়ে দেখার অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।