ক্রয়কৃত নতুন পণ্য সামগ্রীর দেখা নেই, রোগীরা ব্যবহার করছে পুরানো বালিশ,চাদর,ছেড়া ম্যাট্রেস ও রেক্সিন

Desk Reporter
Desk Reporter
প্রকাশিত: ৮:৫৪ অপরাহ্ণ, মে ২২, ২০২১

কাজী রাশেদ,চান্দিনা,কুমিল্লাঃ তথ্য অধিকার আইন ২০০৯এর ৮(১) এর ধারা অনুযায়ী আবেদন করে আপীল ও বার বার তাগাদা দিয়ে অবশেষে মালামাল ক্রয়ের পরিমান ও ভাউচার পাওয়া গেলেও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নতুন ক্রয়কৃত সামগ্রী গুলো দেখাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য কুমিল্লার চান্দিনায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে ৮৩ লক্ষ৬৫ হাজার ৯শত টাকার চিকিৎসা ও শৈল্য
চিকিৎসা সরঞ্জামাদি(এম এস আর) বরাদ্ধ হয়।

উক্ত টাকা থেকে ঠিকাদার কর্তৃক ইডিসিএল বর্হিভূত ক্রয়কৃত ঔষধ,আসবাবপত্র, লিলেন সামগ্রী,কেমিক্যাল/রিয়েজেন্ট (গজ,ব্যান্ডেজ,তুলা) এবং যন্ত্রপাতি বাবদ ৩৯ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়। এর মধ্যে দৃশ্যমান পণ্য গুলো হচ্ছে বিছানার চাদর সরকারি সম্পদ লেখা যুক্ত ২৮৮টি,কম্বল ৪০টি,বালিশ ৫০টি এবং কভার ৪৯টি, রাবার ক্লথ ৩৫মিটার, রেক্সিন ৭২মিটার, ফোম ম্যাট্রেস( স্ট্যান্ডার্ড সাইজ)২০টিএবং এর কভার ২০টি, আয়রন কট ৬টি,বেড সাইড লকার ৫টি,স্যালাইন স্ট্যান্ড(এস এস) ৫টি,গেষ্ট চেয়ার ১০টি, ৪ড্রয়ার বিশি্ষ্ট ফাইল কেবিনেট ৫টি , প্লাস্টিক গামলা(২০লিঃ) ২৭টি, ষ্টিলের আলমারি ৫টি,সার্জিক্যাল গজ(২০গজের)৪০০থান,সার্জিক্যাল ব্যান্ডেজ(১৮গজের)৪০০থান,কন রোল (৪৫০ গ্রামের)৪০০রোল, মাইক্রো পেপার (২ইঞ্চিসাইজ)২৩৮ রোল, সফট তুলা ১০০১রোল, যন্ত্রপাতির মধ্যে উল্লেখ যোগ্য নেবুলাইজার মেশিন ১০টি, ওয়েট মেশিন ৫টি।

 

 

হাসপাতালের ওয়ার্ডে সরেজমিনে ঘুরে কোথাও নতুন মালমাল দেখা যায়নি।দেখা মিলেছে ময়লা কভারহীন বালিশ,ময়লা চাদর,ছেড়া ও বটা রেক্সিন ।দৃশ্যমান পণ্য সামগ্রীর এ অবস্থা হলে ঔষধের কী অবস্থা অনুমেয়।

তৎকালীন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আনোয়ার উল্লাহর( ০৮-০৬-২০২০থেকে ০৫-১১-২০২০পর্যন্ত)কাছে
জানতে চাইলে জানান,২০১৯-২০অর্থ বছরের এমএস আর ক্রয়ের প্রশাসনিক অনুমোদন পান জুনের শেষ সপ্তাহে।এতে ওয়ার্ক ওর্ডার দিয়ে মালামাল বুঝে নেয়ার সময় ছিল মাত্র ৪/৫দিন।কিন্তু এতো অল্প সময়ে টেন্ডার কোম্পানী মালামাল সরবরাহ করা সম্ভব না।তাই বিল পাশ করে না রাখলে টোটাল বরাদ্ধের টাকাটা ৩০ জুনের মধ্যে ফেরত চলে যাবে।

তাই টেন্ডার কোম্পানীর অনুরোধে বিল পাশ করে মালামাল বুঝে পেয়ে টাকা পরিশোধ করা হবে।তিনি আরো জানান ঔষধের প্রথম চালান বুঝে পান ২০২০সালের ১২জুলাই। অথচ প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায় সকল মালামাল ঠিকাদার থেকে বুঝে রাখেন ২০২০ সালের ২৮ জুন। এখানে তার বক্তব্যে মিথাচার করেছেন।

 

 

এছাড়া অন্যদিকে এ্যাম্বুলেন্স এর জ্বালানী তেলের ভুয়া রশিদের প্রমান মিলেছে। ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে এ্যাম্বুলেন্সের হিসাবে দেখা যায় ৫লক্ষ ৯০হাজার৯৫৬ টাকার জ্বালানী খরচের বিপরীতে আয় হয়েছে ৪লক্ষ ২হাজার টাকা।সরকারি দর এ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া ১০টাকা কিলোমিটার হিসাবে চান্দিনা থেকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভাড়া ৫৫০টাকা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে এ্যাম্বুলেন্স চালক নাসির ১১০০টাকা করে নেন বলে মুঠো ফোনে স্বীকার করেন।এছাড়া ২০১৭-১৮ইং সালের ২বছরের জ্বালানী খরচের ধারাবাহিক রশিদ নাম্বারে ভুয়া ভাউচার দিয়ে টাকা আত্মসাৎ এর প্রমাণ মিলেছে।

এসব ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ তানভীর হাসান এসব ব্যাপারে কোন কথা বলবেন না জানান।