খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে শত শত পরিবার সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চলের বরাদ্দকৃত টাকা না পাওয়ায় প্রকল্প এলাকায় মাটি ভরাটের কাজ বন্ধ করেছে জমির মালিকরা

Desk Reporter
Desk Reporter
প্রকাশিত: ১০:০২ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০২২

আমিনুল ইসলাম,সিরাজগঞ্জ ঃ নির্মাণাধীন বেসরকারি সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্পে বরাদ্দকৃত
ঘরবাড়ি গাছপালা ও আবাসনের টাকা পাচ্ছেনা ১২’শ ৩ পরিবার। এতে ফুঁসে উঠেছে ঐ এলাকায় বসবাসকারীরা। প্রশাসনের আন্তরিকতার অভাব মন্তব্য জোন কর্তৃপক্ষের। তবে টাকা ফেরত পাবে ভূমি মন্ত্রনালয় বলছে জেলা
প্রশাসন । আর টাকা না পাওয়াতে মাটি ভরাটের কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন এলাকাবাসি।

জানাগেছে,সিরাজগঞ্জ সদর ও বেলকুচি উপজেলার ৭টি মৌজায় প্রায় ১ হাজার বিয়াল্লিশ একর জায়গায় তৈরি হচ্ছে বেসরকারি সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল। ইতোমধ্যে যমুনা নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে বালি তুলে ভরাট করা হয়েছে এর অধিকাংশ এলাকা। এতে, সেখানে বসত বাড়ির চারপাশে ছড়িয়ে পড়েছে বালি। এঅবস্থায় খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে শত শত পরিবার।

চরম ক্ষতির সন্মুখিন হয়েও এলাকাবাসি বলছে, জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে জমির জন্য টাকা দেয়া হয়েছে। তবে, ঘরবাড়ি গাছপালা ও আবাসনের ক্ষতিপুরণ বাবদ প্রায় ৪৭ কোটি টাকা এখনো বিতরণ হয়নি। সরকারি দপ্তরে ঘুরতে ঘুরতে তারা এখন ক্লান্ত। তাদের পাওনা পরিশোধ না করা পর্যন্ত মাটি ভরাটের কাজ চালু করতে দেবেনা। এতে যদি জীবনও দিতে হয় তাতেও তারা প্রস্তুত। জমির মালিকরা আরো জানান,এখানে এই ইকোনমিক জোনকে কেন্দ্র করে সরকারি দপ্তর এবং স্থানীয় ভাবে একাধিক সিন্ডিকেট তৈরী হয়েছে।

এরা নিজেদের পকেট ভারি করলেও পাওনা পরিশোধে অনিহা। শুধু জমির মালিকদের  কোন ভাবে সরাতে পারলেই তাদের স্বর্থ হাসিল হবে। আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি স্থানীয় প্রশাসন জেনেও না জানার ভান করছে। তাদের এখানে কি স্বার্থ আছে সেটা তদন্ত করলেই আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে।

স্থানীয় জমির মালিক আলতাফ হোসেন জানান,পরিবার প্রতি ২০ হাজার টাকা করে অনুদান দিয়ে উচ্ছেদ নিশ্চিত করার চেষ্টাও করা হয়েছে। এমন দায়িত্ব নিয়ে এলাকায় একাধিক কনসোডিয়াম গ্রæপ তৈরী হলেও প্রকৃত
জমির মালিকরা এখনও টাকা না পাওয়াতে তারা কাজ বন্ধ করে দিয়েছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সোনিয়া সবুর আকন্দ গণমাধ্যমকে জানান,দীর্ঘদিন ধরে জোন কর্তৃপক্ষের সাথে, আলোচনা করা হলেও ক্ষতিগ্রস্থ জমির মালিকদের পাওনা পরিশোধ করা করা সম্ভব হয়নি। জোন কর্তৃপক্ষ বলছে

তারা সকল টাকা জেলা প্রশাসনের নিকট দিয়েছেন। কিন্ত প্রশাসনের  আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় এলাকার মানুষ ওই পাওনা থেকে বঞ্চিত হবার পথে। তাই দ্রæত এর সমাধান হওয়া দরকার বলেও তিনি মনে করেন।

অপরদিকে অর্থনৈতিক অঞ্চলের পরিচালক শেখ মনোয়ার হোসেন,জানান,আমরা সমস্ত পাওনা জেলা প্রশাসনকে বুঝিয়ে দিয়েছি। কিন্তু কি কারণে জেলা প্রশাসন ওই টাকা জমির মালিকদের দিচ্ছেননা তা আমাদের বোধগম্যনয়।
বেলকুচি উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যার মোহাম্মদ আলী জানান,এ কল্পের কারণে যারা বসতবাড়ি হারাচ্ছেন, তাদের জীবনে যেন অন্ধকার নেমে না আসে সেটি নিশ্চিত করতে দ্রæত ক্ষতিপুরণ দেওয়ার দাবি জানান।

সাবেক মন্ত্রী ও সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ বিশ্বাস জানান,সম্প্রতি ইকোনমিক জোন কর্তৃপক্ষের সাথে জমির মালিকদের নিয়ে সরাসরি কথা হয়েছে। তারা জমির টাকা পরিশোধ করেছেন বলে সাফ জানালেও স্থানীয় সিন্ডিকেট ও জেলা প্রশাসনের জটিলতায় জমির মালিকরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন বিধায় তারা মাটি ভরাটের কাজ বন্ধ রেখেছেন। আশাকরি দ্রæত এ্রকটি সমোঝোতা আলোচনা হবে। সেখানেই চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহিত
হবে।

অপরদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো.মোবারক হোসেন সংক্ষেপে বলেন, ঘরবাড়ি গাছপালা ও আবাসনের অনুদান বিতরণের অনুমোদন পাওয়া যায়নি। তাই টাকা ফেরত যাচ্ছে ভূমি মন্ত্রনালয়ে।

এদিকে স্থানীয় জমি মালিকদের দাবি একটাই তারা জমির ওপর স্থাপনা সরানোর দাবিকৃত অর্থ পাওয়া মাত্র তাদের ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নেবে। অন্যথায় তারা কোন ভাবেই কাজ করেেত দেবেনা। তাই সচেতন মহল মনে করেন দ্রæত তাদের পাওনা পরিশোধ করে পুনরায় কাজ শুরু করা হোক। অন্যথায় কাজের গতিতে আরো ভাটা পরাসহ ক্ষতিগ্রস্থ হবে সরকারের এই মহতি উদ্যোগ।