বদলগাছীর নহেলা কাষ্টগাড়ী আশ্রয়ন প্রকল্পের পুকুরটি জল মহাল দেখিয়ে লীজ প্রদান

CNNWorld24
CNNWorld24 Dhaka
প্রকাশিত: 2:53 PM, December 28, 2020

সানজাদ রয়েল সাগরঃ বদলগাছী, নওগাঁঃ

** পুকুরটি লীজ দেওয়ার কারণে ফাঁকা হচ্ছে ব্যারাক

*** ১ম ও ২য় ফেইজে ৩১ টি ব্যারাক নির্মাণ করে ১৫৫টি পরিবারকে পূর্নবাসিত করা হলেও এখন রয়েছে প্রায় ৮৫ থেকে ৯৫টি পরিবার।

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নহেলা কাষ্টগাড়ী বিলে আশ্রয়ন প্রকল্পে ভুমিহীনদের পূনর্বাসনের পূর্বে ভুমি মন্ত্রনালয়ের আদেশক্রমে ৫২ একর বিলের খাস জমি শ্রেণি পরিবর্তন করে ভিটা জমিতে রূপান্তর করে ভুমিহীনদের পুনবার্সন করা হয়। পরবর্তীতে ঐ ৫২ একর বিলের মধ্যে ৩৬ একর এখনও জলাশয় বিদ্যামান রয়েছে দেখিয়ে  নীতিমালা উপেক্ষা করে লীজ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে আশ্রয়ন প্রকল্পের সুবিধাভোগি মানুষরা।
আবাসন প্রকল্পে বসবাসকৃত লোকজনের সাথে কথা বলে জানাযায়,  আবাসানে পূর্নবাসিত করার আগে সরকারী নানা সুযোগ সুবিধার কথা বলা হয়েছিল আবাসনে বসবাসকৃত লোকজনদের। এ পর্যন্ত তারা আবাসনে বসবাস করে কোন সুযোগ সুবিধা পায়নি।

সবচেয়ে মজার বিষয় হল নিয়ম নীতিকে উপেক্ষা করে  বিল বা জলাশয়ে আবাসন প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছে। কিন্তু জলাশয়ে বসবাস যোগ্য নয় এজন্যই তৎকালীন ইউএনওর  আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১২ সালের ৫ নভেম্বর সাবেক জেলা প্রশাসক  মোছাঃ নাজমানারা খানম এর স্বাক্ষর জনিত চিঠির মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী নহেলাকাষ্টগারী ,পূর্ববনগ্রাম হাস্তা বিল সহ উপজেলার কিসমত পাঁচ ঘড়িয়া বিল ও মাহমুদ বিলা বিল সম্পূর্ন রূপে বিলের শ্রেণী পরিবর্তন করে ভিটা জমিতে রূপান্তর করা হয় বলে উপজেলা ভূমি অফিস সুত্রে জানা যায় । উপজেলার নহেলাকাষ্টগারী একটি ঐতিহ্যবাহী বিল যা ভিটা মাটিতে রূপান্তর করা হয়েছে।

আশ্রয়ন প্রকল্পের পূর্নবাসিত আজিজুল, সফির, আসমা, আলমগীর , সেফালি, সাত্তার, রাশেদা অভিযোগ করে বলেন, এই আশ্রয়ন প্রকল্পে আমাদের নেই কোন কর্মসংস্থান। আশ্রয়ন প্রকল্পে আমরা প্রায় শতাধীক পরিবার বসবাস করে মানবেতর জীবন যাপন করছি। আমরা মানবেতর জীবন যাপন করলেও সংশ্লিষ্ট কতর্ৃপক্ষের কোন সুদৃষ্টি নেই আমাদের প্রতি।

তারা বলেন, বিলের ৫২ একর  সম্পত্তি  কাগজ পত্রে এখন ভিটাজমি। সেই আলোকে খাস খতিয়ান রেকর্ড সংশোধন করা হয় এবং বিলটি এই আশ্রয়ন প্রকল্পে বসবাসরত লোকজনদের পুকুর হিসাবে দেওয়ার কথা থাকলেও। পুকুরটি আমাদের না দিয়ে মন্ত্রনালয় থেকে অবৈধভাবে লীজ দিয়ে আমাদের বঞ্চিত করেছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সুত্রে জানা যায়, ২০১২ সালে নহেলা কাষ্টগাড়ী আশ্রয়ন প্রকল্পে ১ম ফেইজে ১৯টি টিনের ব্যারাক নির্মাণ করা হয় সেখানে  ৯৫ টি পরিবারকে  ২য় ফেইজে ইটের ১২টি ব্যারাক নির্মাণ করে আরোও ৬০টি ভুমিহীন পরিবার কে বসবাসের জন্য দেওয়া হয়। ২০১২ সালের ৫ই নভেম্বর নহেলা কাষ্টগাড়ীসহ উপজেলোর ৪টি বিল মন্ত্রনালয়ের আদেশক্রমে তৎকালিন জেলা প্রশাসক বিলের শ্রেণি পরিবর্তন করে ভিটা জমিতে রূপান্তরিত করেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত আশ্রয়নের ঐ পুকুরটি বসবাসকৃত সুবিধা ভোগিদের মাঝে হস্তান্তর করা হয়নি।

ভুমি মন্ত্রনালয় থেকে কাষ্টগাড়ী মৎসজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি ফরহাদ হোসেনের নামে বাংলা ১৪২৪ সাল হইতে ১৪২৯ সাল পর্যন্ত ৬ বছর মেয়াদে আশ্রয়নের পুকুরটি লীজ দেওয়া হয়েছে।

আশ্রয়নের সুবিধাভোগিরা অভিযোগ করে বলেন, লীজ দেওয়ার পূর্বে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিভিন্ন মহলে লিখিতভাবে আবেদন দিয়ে কোন সহযোগিতা পায়নি তারা। কারণ হিসেবে তারা জানায় লীজ গ্রহিতা বৃত্তশালী তাদের হাত অনেক লম্বা। আশ্রয়নের পুকুরটি কাগজ পত্রে এখন ভিটা জমি তার পরেও কিভাবে নীতিমালা উপেক্ষা করে জল মহাল দেখিয়ে লীজ দেওয়া হলো এমন প্রশ্ন করেন আশ্রয়নের সুবিধাভোগিরা সংশ্লিষ্ট ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখে ও শুণে জানা যায়, আবাসন প্রকল্পে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ভূমিহীনদের তালিকা প্রনয়ন করে প্রথমে ঐ ১৯টি টিনের ব্যারাকে ৯৫ টি পরিবারকে প্রাথমিক পযার্য়ে ঘর বরাদ্দ করে ৯৫টি পরিবারকে এই আবাসনে পূনর্বাসন করা হয়। পরে ২য় ফেইজে আবারো ১২টি ইটের ব্যারাক নির্মাণ করে ৬০টি পরিবারকে পূর্নবাসিত করা হয়। পূনর্বাসিত পরিবাররা প্রথম দিকে আনন্দের সংগে ওই ঘরগুলোতে বসবাস শুরু করলেও ১ থেকে ২ বছরের মধ্যে প্রায় ৫০% ব্যারাক যেন ফাঁকা হয়ে যায়। তারা তাঁদের বরাদ্ধকৃত আবাসন ঘরে তালা ঝুলিয়ে গ্রামের বাড়ী চলে যায়। বর্তমানে ওই আবাসন প্রকল্পে মাত্র ৮৫ থেকে ৯৫টি পরিবার বসবাস করছে যা শুরু থেকেই আছে।

আরো দেখা যায়, আশ্রয়ন প্রকল্পের জায়গা বেগতিক হারে ভেঙ্গে পড়ছে পুকুরে। ভাঙ্গন ঠেকাতে পুকুরের পাড় স্থায়ীভাবে প্রটেকশান না দিলে আশ্রয়নের অস্তিত্ব বিলিন হয়ে যাবে । সুবিধাভোগিরা অবিলম্বে লীজ বাতিল করে আশ্রয়ন প্রকল্পের পুকুরটি বুঝিয়ে দিতে সংশ্লিষ্ট ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষসহ মাননীয় প্রধান মন্ত্রীরর সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

আশ্রয়ন প্রকল্পের সভাপতি মান্নান বলেন, পূর্নবাসিত করার সময় আমাদের বলা হয়েছিল যে আপনাদের সরকারি ভাবে সব রকম সুযোগ সুবিধা দেওয়া হবে। এবং আশ্রয়ণের যে পুকুরটি রয়েছে তা এখানে বসবাসরত ব্যক্তিদের দেওয়া হবে তা থেকে আপনাদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।

কিন্তু বসবাসের প্রায় ৮ বছর পূর্ণ হলেও এখনো পর্যন্ত সেই পুকুরটি আমাদেরকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। বরং মন্ত্রনালয় থেকে এষানকার প্রভাবশালী ব্যাক্তিকে লিজ দেওয়া হয়েছে। আমরা বারবার জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে এই পুকুর লীজ না দেওয়ার জন্য অভিযোগ করলেও কোন লাভ হয়নি। এখানে কর্মসংস্থান না থাকায় পূর্ণবাসিত লোকজনরা অনেকেই এখান থেকে চলে গেছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাঃ আবু তাহির বলেন, জল মহাল ভুমি মন্ত্রনালয় থেকে লীজ দেওয়া হয়েছে। এখানে আমার কিছু বলার থাকেনা । তবে আর যেন লীজ দেওয়া না হয় সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোঃ হারুন-অর-রশীদ এর সংঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিলোনা যে আশ্রয়নের পুকুরটি মন্ত্রনালয় থেকে লীজ দিয়েছে। তবে খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।