নাগেশ্বরীর বাবলু চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মেম্বারদের দূর্নীতির অভিযোগ-ব্যবস্থা নেননি কর্তৃপক্ষ

CNNWorld24
CNNWorld24 Dhaka
প্রকাশিত: 4:24 PM, January 8, 2021

স্টাফ রিপোর্টারঃ
কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার (৮)হাসনাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মওলা আজাদ
বাবলুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন দূর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরেছেন মেম্বাররা ব্যবস্থা নেননি কর্তৃপক্ষ।

অত্র ইউনিয়ন পরিষদের অধিকাংশ সদস্যরা জানান, “চেয়ারম্য্যান গোলাম মওলা আজাদ বাবলু (৫০)
একনায়কতন্ত্র হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালনা করিয়া আসিতেছেন। তার হঠকারিতায় আমরা
কোন প্রকার মুখ খুলতে পারি না। এমন কি ইউনিয়নের উন্নয়নের কাজে সহয়োগিতা করিতে
পারি না। তার এই রূপ কার্যকলাপের বিবরন বার বার বললেও সে উপেক্ষা করিয়া নিজের মতই পরিষদ
পরিচালনা করিয়া আসিতেছে।

গোলাম মওলা আজাদ বাবলু গত ২৩-এপ্রিল ২০১৬ তারিখে ৮ নং হাসনাবাদ ইউপি নির্বাচনে
ধানেরশীষ প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। জানা যায় তিনি জাতীয়তাবাদী দল
(বি,এন,পি) নাগেশ্বরী উপজেলা শাখার সাধারন সম্পাদক পদে দায়িত্বরত আছেন।

তার কার্যকলারেপ কিছু উল্লেখযোগ্য আলামত তুলেধরা হলো:
১। উপজেলা কর্তৃক বরাদ্বকৃত চিঠিপত্র গোপন রাখিয়া ভুয়া রেজুলেশনের মাধ্যমে
বিভিন্ন অফিসে প্রকল্প দাখিল করিয়া সরকারী অর্থ আত্বসাৎ করিয়া আসিতেছে।
২। ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন রাস্তায় রোপনকৃত গাছ গোপনে নিলাম করিয়া ২০,০০০০০/-
(বিশ লক্ষ) টাকা আত্বসাৎ। ৩। ইউনিয়নের তথ্যসেবা হইতে জন্ম নিবন্ধন বাবদ প্রায় ২,৫০,০০০/-
(দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা পরিষদের একাউন্টে জমা না দিয়া আত্বসাৎ। ৪। বৎসরে ২ বার ১% এর
টাকা উত্তোলন করিয়া ইউনিয়নের উন্নয়ন না করিয়া আতœসাৎ। ৫। ইউনিয়নের বিভিন্ন
ওয়ার্ড হইতে ট্যাক্স আদায় করিয়া ইউনিয়নের উন্নয়ন না করিয়া আত্মসাৎ। ৬। ৪ নং ওয়ার্ডে
আজিুলের বাড়ি হইতে কুটিবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাস্তায় ৪০ দিনের কর্মসূচীর
লেবার দ্বারা রাস্তা ভরাট করিয়া কাবিটার টাকা আত্বসাৎ। ৭। গত মৌসুমে কৃষি পুনর্বাসন
সদস্য/সদস্যাগণকে অবগত না করিয়া ভুয়া রেজুলেশনের মাধ্যমে সঠিক লোককে না দিয়ে
বিতরনের তালিকা প্রস্তুত করিয়া উপজেলা কৃষি অফিসে জমা করেন।

অভিযোগের বিবরন(ঘটনাসহ) অত্র ইউনিয়নের নির্বাচিত চেয়ারম্যান গোলাম মওলা আজাদ বাবলু এবারের মত
ইতিপূর্বেও আরও তার নির্বাচিত এলাকার জনগনকে ঠকানোর জন্য মিটিং এর আয়োজন করেন।
মিটিং এ পাশ হয় একটা আর প্রকল্প বাস্তবায়ন হয় অন্যটা। ঘটনার দিন গত-৩১ জুলাই ২০১৯ ১১
ঘটিকায় অত্র ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এল,জি,এস,পি-৩ মিটিং এর আহবান করেন এবং
প্রতিটি ওয়ার্ডের সদস্যগনের নিকট কাজের লোকেশন সচিবের মারফত লিখে নেন।

পরবর্তিতে এলাকাবাসী সচিবের মারফত জানতে পারেন যে, মিটিং এ তারা যে এলাকার লোকেশনের
রেজুলেশনে স্বাক্ষর করেছে তা বাদ দিয়া শুধু মাত্র ৫ নং ওয়ার্ডে তার নিজ বাড়ি হইতে আশে পাশে
এল,জি,এস,পি বরাদ্বকৃত সম্পূর্ণ টাকার কাজ করবেন বলে রেজুলেশন তৈরি করেছেন, যাহা
সিদ্ধান্তের বা নিয়মের বাহিরে। উক্ত চেয়ারম্যান দ্বায়িত্ব হইতে অদ্যাবধী উন্নয়নমূলক কাজের
প্রায় আশি ভাগ নিজ ওয়ার্ডে করেছেন।যা বাকি ওয়ার্ডগুলো পায়নি।

১। ভিজিএফ বিতরনের অনিয়ম: পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে সরকার কর্তৃক গ্রামের
প্রতিাট হত দরিদ্রদের মাঝে ১৫ (পনের) কেজি করে চাল বিতরনের কথা থাকলেও প্রকৃত পক্ষে
তিনি ১০-১১ কেজি করে চাল বিতরন করেন। এতে ভিজিএফ কার্ডধারী মহিলা তাকে
(চেয়ারম্যাকে) অবহিত করলে তিনি তাদেরকে ধমক দেন এবং বিভিন্ন অকথ্য গালিগালাজ করেন। ১
নং ওয়ার্ডের ভিজিএফ কার্ডধারী রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজুল ইসলাম, পিতা- আব্দুল জব্বার,
গ্রাম- কাচুয়ারভিটা, ও ৩ নং ওয়ার্ডের ভিজিএফ কার্ডধারী মনছের আলী, পিতা- মৃত ঘুঘু
মামুদ, গ্রাম- মুন্সি পাড়াকে বিভিন্ন গালিগালাজ করেন ও গলা ধাক্কা দিয়ে পরিষদ থেকে বের
করে দেন। এ ব্যাপারে ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নুর মোহাম্মদ নুরু প্রতিবাদ করলে তাকে
জনসম্মুখে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চলে যেতে বলেন। এতে ইউপি সদস্যের সম্মানের ব্যাঘাত
ঘটে। ২। ইউপি সদস্যদের প্রতি অসাদচরন: ইতি পূর্বে ইউনিয়ন পরিষদের সমন্বয় সভার এক
পর্যায়ে চেয়ারম্যান উত্তেজিত হয়ে ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহজালাল কে সভা থেকে চলে
যাওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন এবং বিভিন্ন সময় ইউপি সদস্যদেরকে হয়রানী করে থাকেন। যাহা
পরিষদের নিয়ম পরিপন্থী। ৩। ত্রাণ বিতরনে অনিয়ম: ২০১৯-২০ অর্থ বছরে গ্রামের হত দরিদ্র
বন্যার্তদের মাঝে ত্রান বিতরন করার কথা থাকলেও উক্ত ত্রানের মাল পরিষদের সদস্যদের অবহিত না করে
নিজে আত্বসাৎ করেন। ইউপি সদস্যরা ত্রানের বিষয়টি উপজেলা পরিষদ থেকে জানতে পারলে পরে
বিষয়টি চেয়ারম্যান কে অবহিত করলে তিনি পুরোপুরি অস্বীকার করেন। ৪। গাছ উজার/কর্তন
প্রসঙ্গে: ইউনিয়ন পরিষদের সমন্বয় সভায় ইউনিয়ন পরিষদ হতে হোসেন আলী ব্যাপারীর বাড়ি
পর্যন্ত রাস্তার গাছ নিলামে বিক্রি করার কথা থাকলেও তিনি নিলামের কোটা অনুস্বরন না করে অত্র
ইউনিয়নের বিভিন্ন রাস্তার গাছ ক্ষমতার জোড়ে কর্তনকরেন।৫। কাবিটা টাকা আত্বসাৎ: ৪ নং
ওয়ার্ডে আজিুলের বাড়ি হইতে কুটিবাড়ীূ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাস্তায় ৪০ দিনের
কর্মসূচীর লেবার দ্বারা রাস্তা ভরাট করিয়া কাবিটার টাকা আতœসাৎ করেন। ৬। ইউনিয়নে ট্যাক্স
ও জন্মসনদ প্রসঙ্গে: সরকারী নিয়ম অনুসরন না করে বিভিন্ন ট্যাক্স ও জন্ম সনদের অতিরিক্ত টাকা
নিজের খেয়াল খুশি মত নিয়ে থাকেন। ৭। দক্ষিন ব্যাপারীর হাট গামী রাস্তার ১ টি লটে মরা ও
ঝুকিপূর্ণ ১৮ টি গাছ জেলা পরিষদ হতে টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রয় করা হয়।

গত ২২/১১/২০১৯ ইং তারিখে নাগেশ্বরী উপজেলার ফরেষ্টারে আদেশ মোতাবেক গাছ কর্তন শুরু করে উক্ত কাজের
ঠিকাদার। উক্ত কাজের ঠিকাদারের লেবার ঐ দিন নম্বর ব্যাতিত ৩ টি ইউক্লিপ্টাস এবং একটি নিম, মোট ০৪ টি জীবিত গাছ
কর্তন করে। এই অবৈধ গাছ কর্তনের সময় উক্ত এলাকার লোকজন উক্ত স্থানে অবৈধ গাছ ৪ টির
খন্ডগুলি ইউসুফ আলী রাসেল, পিতা- আলহাজ্ব আমিনুর ইসলাম, গ্রাম দক্ষিন ব্যাপারীরহাট,
নাগেশ্বরী, কুড়িগ্রাম এর নিকট জমা রাখেন।

অফিস হতে সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত, তার জিম্মায় থাকবে। নি¤েœাক্ত গাছের খন্ডগুলো অফিস চাওয়া মাত্র দিতে বাধ্য থাকিবে।
ইউক্লিপ্টাসঃ- ১। ৫ফিট ৩ ইঞ্চি ২। ১০ফিট ২৫ ইঞ্চি ৩। ৭ফিট ২ ইঞ্চি ৪। ৬ফিট ২.৪ ইঞ্চি ৫।
৭ফিট ১.৫ ইঞ্চি ৬। ৫ফিট ৩ ইঞ্চি ৭। ৫ফিট ১.৫ ইঞ্চি ৮। ৯ফিট ২.৯ ইঞ্চি ৯। ৮ফিট ২ ইঞ্চি ১০।
৭ফিট ২ ইঞ্চি ১১। ৬ফিট ২ ইঞ্চি ১২। ১০ফিট ১ ইঞ্চি ১৩। ১০ফিট ১.৫ ইঞ্চি ১৪। ৯ফিট ২.৫
ইঞ্চি ১৫। ৭ফিট ২ ইঞ্চি সর্বমোট ১৮ টি খন্ড নিম গাছঃ- ১। ৬ফিট ২.৫ ইঞ্চি ২। ৯ফিট ২
ইঞ্চি ৩। ৮ফিট ১.৪ ইঞ্চি উপরোক্ত অভিযোগ ও দূর্নিতির বিষয়গুলি অত্র ইউনিয়নের সম্মানিত সদস্য বৃন্দ নিজ দায়িত্বে
অভিযোগ দায়ের পূর্বক অনুলিপি উপর মহলে তথা- বিভাগীয় দূর্নীতি দমন কমিশন রংপুর,
চেয়ারম্যান জেলা পরিষদ কুড়িগ্রাম, পুলিশ সুপার কুড়িগ্রাম, জেলা দূর্নীতি দমন কমিশন কুড়িগ্রাম, জেলা বন বিভাগ কর্মকর্তা কুড়িগ্রাম, অফিসার ইনচার্য নাগেশ্বরী থানা,উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নাগেশ্বরী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাগেশ্বরী, উপজেলা
বন বিভাগ নাগেশ্বরী অনুলিপি প্রদান করেন। তাতেও কোন কাজ না হওয়ায় অত্র ইউনিয়ন
সদস্যবৃন্দ তথা- মোঃ তৈয়ব আলী ১ নং ওয়ার্ড, দুলাল মিয়া ২ নং ওয়ার্ড, মোঃ সোলায়মান
আলী ৩ নং ওয়ার্ড, মোঃ শাহজালাল হোসেন ৪ নং ওয়ার্ড, মোঃ আব্দুল্লাহ আল মতি ৫ নং
ওয়ার্ড, হরেন্দ্রনাথ বর্মন ৬ নং ওয়ার্ড, নুর সোহাম্মত ৭ নং ওয়ার্ড, মোছাঃ নুরুন্নাহার
বেগম , মোছাঃ সাজেদা বেগম ভীষন ক্ষুব্ধ। এই ব্যাপারে সিএনএনওয়ার্ল্ড ২৪ উপর মহলে বিষয়টি
সম্পর্র্কে জানতে চাইলে জেলা প্রশাষক কুড়িগ্রাম মহোদয় বলেন, গাছ কাটার বিষয়টির
তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাগেশ্বরীকে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা জানান, আমি বন বিভাগ নাগেশ্বরীকে অবহিত করেছি। তারপর বনবিভাগ কর্মকর্তা
সাহিনের কাছ থেকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি দুই তিন দিনের মধ্যে
গাছগুলো অফিসে নিয়ে আসব। তারপর দীর্ঘ দিন অতীবাহিত হওয়ার পরেও তিনি কোন ব্যাবস্থা
নেন নাই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সচেতন এলাকাবাসী (সিএনএনওয়ার্ল্ড২৪ কে বলেন,গোলাম মওলা আজাদ
বাবলু চেয়ারম্যানের অসংখ্য দূর্ণীতির বিরুদ্ধে প্রশাসন মহলে অভিযোগ দেওয়ার পওের কোন
বাব্যস্থা নেওয়া হয়নি।মনে হয় প্রশাসন কিছুই নয়,যারা দূর্ণীতি করে তারাই বড়।

এছাড়াও তারা আরো বলেন,এই উপজেলায় সরকারী গাছ কাটার যে কোন খবরাখবর নাগেশ্বরী উপজেলা বন
কর্মকর্তা শাহিনকে জানালে তিনি ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টা অপরাধীকে পরিচিত,সুভাকাঙ্খি
ইত্যাদী বলে কোন না কোন ভাবে তাকে বাচিয়ে দিবেন।তাতে মনে হয় এসবের সাথে তার কোন
না কোন যোগ সূত্র আছে বলে আমাদের ধরনা।তাই অপরাধী যেই হোক তাদের বিচার হওয়া
প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি