রাত পোহালেই ভোটঃ কে হচ্ছেন গুরুদাসপুরের পৌর পিতা?

CNNWorld24
CNNWorld24 Dhaka
প্রকাশিত: 9:14 PM, January 15, 2021

আববুল কালাম আজাদঃ  রাত পোহালেই ১৬ জানুয়ারি শনিবার নাটোরের গরুদাসপুর পৌরসভার ভোট। কে হচ্ছেন পৌর পিতা ? এই নিয়ে চলছে চুল চেড়া জল্পনা কল্পনা। বিগত পরপর  দুইবার নির্বাচিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মোঃ শাহনেওয়াজ আলী মোল্লা, না কী নতুন কোন মুখ? দুইবার নির্বাচিত বর্তমান মেয়র শ্হনেওয়াজ এবারেও আওয়ামীলীগ মনোনীত  হয়ে নৌকা প্রতিক নিয়ে তৃতীয় বারে ভোট করছেন।

পৌর নির্বাচনে ২য় দফায় নাটোর জেলার গুরুদাসপুর পৌরসভার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে শেষ সময়ের প্রচার প্রচারনা। পৌরসভার সবকয়টি রাস্তা, অলি-গলি ভরে গেছে প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যানার,পোষ্টার ও ফেষ্টুনে। মাইকে মাইকে সুমিষ্ট কন্ঠে ছন্দে ছন্দে গানে গানে বিভিন্ন প্রর্থীর গুনগান গেয়ে,নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে  চাওয়া হচ্ছে ভোট।

প্রার্থীরা কোভিড-১৯ করোনার ভয়কে পায়ে দলে জয় করে বিরামহীনভাবে পায়ে হেটে, মটর সাইকেলে শোডাউন করে , পথসভা করে,দ্বারে দ্বারে গিয়ে প্রচারনা চালাচ্ছেন এবং ভোট প্রার্থনা করছেন। ভোটারদের তাৎক্ষনিক চাহিদামত নানা প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন। ছোট-বড় মিছিল মিটিং, পথসভা, উঠান বৈঠক এবং শোভাযাত্রা, শোডাউনে মুখরিত হয়ে উঠেছে পৌরসভাজুড়ে। বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।

সোস্যাল মিডিয়া প্লাটফরমেও নির্বচনে প্রার্থীদের প্রচারনাও চলছে একই তালে। মিছিল, মিটিং, শোডাউন, পথসভা, উঠান বৈঠকের লাইভ কভারেজ দেওয়া হচ্ছে ফেসবুকে,ষ্টীলথ পিকসারে আকর্ষনীয় শব্দগুচ্ছে ছড়ানো হচ্ছে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়ি। একদম শেষ সময়ে নির্বাচনী গড়ম হাওয়া বইছে পৌরসভা জুড়ে। পাড়া-মহল্লা ও বাজারের প্রতিটি চা ষ্টলে , দোকানে, আড্ডায়,বৈঠকে গল্পে চলছে প্রার্থীদের চুলচেড়া বিশ্লেষন, আঞ্চলিক বাকভঙ্গিতে ও বাচন ভ্িঙতে খুব সহজ সাবলিলভাবে বয়ান করা হচ্ছে সম্ভাব্য মেয়র , কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীদের আগাম ফলাফল।

গুরুদাসপুর পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুড়ে পৌরবাসির বিশ্লেষনে জানা যায় , নির্বাচনী প্রচার প্রচারনায় সবদিকে এগিয়ে আছেন সরকারি দল আওয়ামীলীগের মনোনীত নৌকা প্রতিকের মেয়র  প্রার্থী মোঃ শাহনেওয়াজ আলী মোল্লা,দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন,স্বতন্ত্র প্রার্থী-সাবেক পেীর চেয়ারম্যান, মোঃ আমজাদ হোসেন ( মোবাইল), তৃতীয় অবস্থানে আছেন, আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী স্থানীয় সংসদ সদস্যের সমর্থনপুষ্ট মোঃ আরিফুল ইসলাম বিপ্লব ( নারিকেল গাছ) এ ছাড়াও আওয়ামীলীগ ঘরনার স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আলী ( জগ) কেও অনেকে ২য় অথবা ৩য় অবস্থানে ভাবছেন।

ঘুষ, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, মাদক, চঁাদাবাজিসহ নেতিবাচক যা কিছু আছে সবকিছু পৌরসভা থেকে নির্মুল করে একটিস্বচ্ছ আদর্শ ও মডেল পৌরসভা উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। রাস্তা-ঘাট, ব্রীজ-কালভার্ট,ড্রেন, ডাষ্টবিন,শতভাগ বিদ্যুতায়ন, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ পৌরসভার সার্বিক উন্নয়নে ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষন করে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন প্রার্থীরা।

পুনরায় তৃতীয়বার মেয়র হলে গুরুদাসপুর পৌরসভাকে কিভাবে দেখতে চান জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ,বর্তমান মেয়র শানেওয়াজ আলী মোল্লা  সিএনএন ওয়ার্ল্ড ২৪ কে বলেন, ‘ বিগত সময়ে গুরুদাসপুর পৌরসভার অনেক উন্নয়ন করেছি,জনসেবায় জনকল্যানে  কাজ করেছি। তাই পৌরবাসি আমাকে ভালবাসেন।আমার প্রতিশ্রুতি ছিল ও আছে, এবার নির্বাচিত হলে পৌরসভায় কমিউনিটি সেন্টার, অডিটরিয়াম, মিনি ষ্টেডিয়াম, পৌর সুপার-মর্কেট, ময়লা- আবর্জনা নিস্কাশনের জন্য ডিস্পোজাল এড়িয়া,সড়কপথের শতভাগ উন্নয়ন,চিত্তবিনোদনের জন্য পার্কসহ সাংস্কৃতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উন্নয়ন করে গুরুদাসপুর পৌরসভাকে একটি মডেল পৌরসভা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবো।’
নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘ আমি পরপর দুইবার মেয়র নির্বাচিত হয়েছি জনগনের ভোটে। প্রথমবারের চেয়ে দ্বিতীয়বা আরো বেশী ভোট পেয়েছি।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ,আওয়ামীলীগের সভাপতি, প্রিয় নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সেই বিশ্বাসেই আমাকে নৌকা দিয়েছেন। আমার বিশ্বাস, গুরুদাসপুরে আওয়ামীলীগের ভিতরে কোন দ্বিধা-দ্বন্দ্ব নেই। সকল আওয়ামীলীগ একদিকে , শুধু আমাদের এমপি সাহেব (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস নৌকার বিরুদ্ধে।গত দুই নির্বাচনেও আমার বিরুদ্ধে ছিলেন, এখনও আমার বিরুদ্ধে।

তিনি সবসময় জননেত্রী শেখ হাসিনার ও বঙ্গবন্ধুর নৌকার বিরুদ্ধে থাকেন।ইউনিয়ন পরিষদ এবং উপজেলা পরিষদের নির্বাচনেও নৌকার বিরোধীতা করেছেন। তিনি ও তার পরিবার বিভিন্নভাবে প্রার্থী দিয়ে নৌকার বিরুদ্ধে ভোট করেছেন।

মেয়রপ্রাথী শাহনেওয়াজ আলী অত্যন্ত ক্ষোভর সাথে সিএনএন ওয়ার্ল্ড২৪কে আরো বলেন, ্ ‘ আগামিতে আমি চা্ইবো, প্রিয় জননেত্রী শেখ হাসিনা নৌকার বিরোধিতাকারী আব্দুল কুদ্দুসকে নাটোর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতির পদ এবং সংসদ সদস্য পদ থেকে বহিস্কার করুক। উনি যদি না থাকেন তাহলে এই এলাকার আওয়ামীলীগ আরো শক্তিশালী এবং আরো ঐক্যবদ্ধ ও ইস্পাতকঠিন আওয়ামীলীগ তৈরী হবে। তাহলে পৌরসভার নির্বাচনী মাঠে কোন অপশক্তি থাকতোনা। চারটি প্রার্থীই এমপি সাহেবের। উনারা চাচ্ছেন, যে কোনভাবে নৌকাকে পরাজিত করতে।

কিন্তু জনগন এতটাই ঐক্যবদ্ধ যে, পৌরসভার মানুষ নৌকার পক্ষে। তাই নৌকাকে কেউ হারাতে পারবেনা। যারা এখনও ষঢ়যন্ত্রের পক্ষে কাজ করছেন, এখনও সময় আছে,আপনারা আসেন নৌকায় উঠেন। এই নৌকাতে যদি না উঠেন,তাহলে, জীবনেও আর নৌকাতে উঠতে পারবেননা।প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সকল ভেদাভেদ ভুলে নৌকার পক্ষে কাজ করার ও ভোট দেওয়ার উদাত্ব আহবান জানাই’।

আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোঃ আরিফুল ইসলাম বিপ্লব ( নারিকেল গাছ) নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশবাদী। নির্বাচনী মাঠে প্রচারনা করছেন বেশ জোড়ালোভাবে। তিনি বলেন, জনগন ভালোবেসে তাকে নির্বাচিত করলে, জনসেবা করার সুযোগ দিলে, পৌরসভার সার্বিক উন্নয়ন করবো।

মেয়র হলে কেমন পৌরসভা উপহার দিবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘ জনগনের সার্বিক সামগ্রিক কল্যান করে,পৌর এলাকার সর্বত্র উন্নয়ন করে একটি আদর্শ পৌরসভা গুরুদাসপুরের মানুষকে উপহার দিতে চাই। কাজ করতে চাই মানুষের সেবায়,এলাকার উন্নয়নে।

বর্তমান নির্বাচনী পরিস্থিতি জানতে চাইলে তিনি বলেন,নির্বাচনী প্রচার-প্রচারনায় চরমভাবে বাধার সম্মুখিন হচ্ছি। বিভিন্নভাবে  হুমকি-ধামকি ও ভয় দেখানো হচ্ছে আমার সমর্থকদের। মৌখিকভাবে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়েছি।

ভোটের মাঠে আছেন বিএনপি প্রার্থী এ্যাড. মোঃ আজমুল হক বুলবুল(ধানের শীষ) । তিনি   সুষ্ঠ নিরপেখ্স ও অবাধ নির্বাচন হলে শতভাগ বিজয়ী হওয়ার আশাবাদী। তিনি জোর দিয়ে বলেন , পৌরসভায় বিএনপির ভোট সবসময়ই বেশী। বিএনপির প্রার্থী আজমুল হক বুলবুল বলেন, ভোটারদের অদৃশ্য ভীতির কারনে তাদের নিয়ে নির্বাচনী প্রচারনা করতে পারছিনা। এখন পর্যন্ত নির্বাচনী পরিস্থিতি স্থিতিশীল আছে বলে মনে করেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক পোৗর চেয়ারম্যান মোঃ আমজাদ হোসেন( মোবাইল ফোন) প্রচার-প্রচারনা ও প্রতিশ্রুতিতেও পিছিয়ে নাই। তার কর্মী ও সমর্থক নিয়ে শক্তভাবে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ভোট হলে কাল ১৬ জানুয়ারির ভোটে জয়ের মালা তার গলাতেই শোভা পাবে বলে আমজাদ হোসেন শতভাগ আশাবাদী।

তিনি বলেন , নির্বাচনী প্রচার প্রচারনায় সরকারি দলের ক্যাডাররা বিভিন্নভাবে ভয় ভীতি আর হুমকি দিচ্ছে\ তিনি নির্বাচিত হলে পৌরবাসির সার্বিক উন্নয়নে আত্মনিয়োগ করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
স্বতন্ত্র মেয়র প্রাথর্ী হিসেবে  নির্বাচনী মাঠে লড়ছেন  ডাঃ মোহাম্মদ আলী (পানির জগ)।

জনসেবা ও পৌর সভার উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচার প্রচারনা চালাচ্ছেন।নির্বাচনী প্রচারনায় কিছু বাধার সম্মুখীন হলে প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে তিনি জানান।আইন শৃংখলা পরিস্থিতি ভাল আছে বলে মোহাম্মদ আলী মন্তব্য করেন। জয়ের ব্যাপারে তিনিও শতভাগ আশাবাদী।

নির্বাচনী প্রচারে বেশ পিছিয়ে থাকলেও জয়ের ব্যপারে শতভাগ প্রত্যাশী স্বতন্ত্র মেয়র  প্রাথী মোঃ আব্দুস সালাম রনি( কেরামবোর্ড)।

পৌর নির্বচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হবে কিনা  জানতে চাইলে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস বলেন,নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে কিনা সেটা নির্ভর করছে নির্বাচন কমিশনের ওপর। তবে, অবশ্যই আমি চাই গুরুদাসপুর পৌরসভার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হোক। সকল ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করুক।

গুরুদাসপুর উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন,গুরুদাসপুর পৌরসভার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। আইন শৃংখলা বাহিনীর সকল সদস্য নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। সকল প্রাথর্ী আচরনবিধি ও আইন মেনে প্রচার প্রচারনা চালিয়েছেন।

১১,৪৩ বর্গকিলেমিটার আয়তনের  পৌরসভার মোট ভোটার সংখ্যা ২৫ হাজার ৪ জন।এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১২হাজার ১৬৫ জন এবং মহিলা ভোটার ১২ হাজার ৮৩৯ জন।

সবশেষে দেখা যাক, আগামী কাল ১৬ জানুয়ারির ভোটে কে হাসবে শেষ হাসি। কে পড়বেন জয়ের মালা, কে হবেন ৭ম পৌর পিতা?