সাঁথিয়ায় এলজিইডির সড়ক নির্মাণ কাজে অনিয়ম

CNNWorld24
CNNWorld24 Dhaka
প্রকাশিত: 9:24 PM, January 21, 2021

মনসুর আলম খোকন;সাঁথিয়া,পাবনাঃ পাবনার সাঁথিয়ায় এলজিইডির আরসিসি সড়ক নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সড়কের নিম্নমানের রড দেয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের সাথে বিতর্ক হয়  ঠিকাদারের।

জানা যায়, পাবনার সঁাথিয়ায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে জিওবি মেইনটেনেন্স প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে আজাহার-আফসার আলী সড়কের সাঁথিয়া পৌরসভার তিনমাথা মোর থেকে পোস্ট অফিস হয়ে  ডাঃ আবুল হোসেনের বাড়ির মোর পর্যন্ত প্রায় ২৫০ মিটার আরসিসি সড়কের নির্মাণকাজের দায়িত্ব পান আহম্মেদ এন্টারপ্রাইজ নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। শুরু থেকেই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সাঁথিয়া উপজেলা প্রকৌশল অফিসের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বরত অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজসে অনিয়ম করে আসছেন।

প্রথমত: সড়কের নিম্নমানের রড দেয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের সাথে বিতর্ক হয়  ঠিকাদারের। পরে বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলীর নিকট অভিযোগ করলে নিম্নমানের রড সরিয়ে নেয়া হয়। সরজমিনে দেখা যায়, ঢালাই মিক্সিংয়ে ব্যাপক অনিয়ম।

একদিকে নিম্নমানের পাথর তা আবার ১ বস্তা সিমেন্টে ৫ কড়াইয়ের পরিবর্তে ৭ কড়াই পাথর ও ২ কাড়াই বালির পরিবর্তে সেখানে ৩ টুকড়ি বালি দিয়ে ঢালাই মিক্সিং করা হয়েছে। কারাইয়ের পরিবর্তে টুকড়ি ব্যবহারের কারণ হিসাবে জানা গেছে, টুকড়িতে বেশী পরিমাণ বালি দেয়া যায়। নিম্নমানের পাথর ও ময়লা আবর্জনা মিশ্রিত বালির ব্যবহার হওয়ায় কাজের মান নিম্নমানের হয়েছে। অপরদিকে ৮ইঞ্চি ঢালাইয়ের ক্ষেত্রে ৭ ইঞ্চি ঢালাই করা হয়েছে।

বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলী ও দায়িত্বরত কর্মকর্তাকে বললে তারা কোন কর্ণপাত না করেই ঢালাইয়ের কাজ শেষ করেন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রকৌশল অফিসের এক কর্মচারী জানান, তদন্ত হলে আজহার-আফসার আলী সড়কের প্রথম অংশের ১২ মিটারের মধ্যে থেকে স্যাম্পল নিয়ে ল্যাবে পাঠানো হবে। কারণ, এই ১২ মিটার কাজ সিডিউল অনুযায়ী করা হয়েছে। তবে পুরো কাজই নয়ছয় হয়েছে কিন্তু  ভিডিও করার বিষয়টি টের পেয়ে মাধপুর সাঁথিয়া সড়কের সাথে লাগানো প্রথম অংশের মাত্র ১২ মিটার কাজ সিডিউল মোতাবেক করেন।

কাজের অনিয়ম প্রসঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, পুরো কাজেই অনিয়ম হয়েছে। সড়ক নির্মাণকাজে এক বস্তা সিমেন্টের সাথে ৭ থেকে ৯ কাড়াই পাথর ও ৩/৪ টুকড়ি বালি দিয়ে ঢালাই মিক্সিং করা হয়েছে। তারা আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট দায়িত্বরত কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি আমাদের উপর রেগে উঠেন এবং অশালীন কথাবার্তা বলেন।এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ শহিদুল্লাহ বলেন, কাজের মান খুব ভাল হয়েছে। কোন প্রকার অনিয়ম করা হয়নি। তিনি বলেন,এক বস্তা সিমেন্টে ২ টুকড়ি বালি ও ৫ কাড়াই পাথর দিয়েই ঢালাই মিক্সিং হয়েছে।