ফরিদপুরে লীগ নেতার সামনে থেকে ছাত্রলীগের নেতা গ্রেপ্তার

CNNWorld24
CNNWorld24 Dhaka
প্রকাশিত: 8:20 AM, January 26, 2021

মিজানুর রহমান,ফরিদপুরঃ হত্যা মামলার আসামি হিসেবে ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক মো. সাজিদুল ইসলাম সজিদকে (২৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত রবিবার সন্ধা সাতটার দিকে শহরের ঝিলটুলী মহল্লাস্থ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এ কে আজাদের বাড়ির সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে সাজেদুলকে ছোটন বিশ্বাস (২৮) হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার তার ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে জেলার মূখ্য বিচারিক  হাকিমের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালত রিমান্ডের শুনানির দিন পরে ধাযর্য করার আদেশ নিয়ে সাজিদুলকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

২০১৬ সালের ১৩ জুলাই রাত ৯টার দিকে ৪০/৫০জনের একটি সন্ত্রাসী দল শহরের রাজবাড়ী রাস্তার মোড়ে অবস্থিত ঢাকা বাস কাউন্টারে হামলা চালায়। হামলাকারীরা গুলি ছুড়ে ও কুপিয়ে ওই কাউন্টারের চার কর্মী অম্বিকাপুর ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি মো. কামাল শেখ (২৭), ছোটন বিশ্বাস (৩২), লাবলু শেখ (২৫) ও নয়ন শেখ (২০) কে আহত করে। আহত ছোটনকে পরদিন দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজহাসপাতালে স্থনান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ জুলাইন দিবাগত রাত তিনটার দিকে মারা যায় ছোটন। ছোটন বিশ্বাস (৩২) যুবলীগ কর্মী ছিলেন। ছোটন ফরিদপুর সদরের রঘুনন্দনপুর খ্রীষ্টান মিশনমহল্লার মৃত বিরেন বিশ্বাসের ছেলে।

এ ঘটনায় ওই কাউন্টারের মালিক অম্বিকাপুর ইউনিয়নের উত্তর শোভারামপুর এলাকার বাসিন্দা মো. কামরুজ্জামান বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় আট জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত পঁাচ-ছয় জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলাদায়ের করেন। জেলা আওয়ামী লীগ সুত্রে জানা গেছে, গত রবিবার ছিল জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসানের ১১ তম মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষে শহরের অম্বিাক হল ময়দানে এক স্মরণ সভার আয়োজন করা হয় জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে।

ওই সভা শেষে নেতৃবৃন্দ শহরের ঝিলটুলীস্থ জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি একে আজাদের বাড়িতে যান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ওই বাড়ির দক্ষিণ পাশের গেট থেকে সাজিদুলকে আটক করে পুলিশ। এ খবর শুনে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা একে আজাদের বাড়ি থেকে বের হয়ে গেটের কাছে আসে। তখন সাজিদুলকে পুলিশের গাড়িতে উঠানো নিয়ে পুলিশের সাথে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে টানা হেঁচড়া চলছিল। এক পর্যায়ে পুলিশ সাজিদুলকে ছেড়ে দেয়।

তবে পুলিশ সাজিদুলকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য নেতৃবৃন্দকে তাগিদ দিতে থাকেন। পরে সন্ধা সাতটার দিকে সাজিদুলের বাবা শহরের গুহলক্ষ্মীপুর এলাকার বাসিন্দা জাকারিয়া খান এসে তার ছেলেকে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফরিদপুর কোতয়ালী থানার পরিদর্শক (অপারেশন) শহীদুল ইসলাম বলেন, সাজিদুল ছোটন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। তবে তিনি ভাড়া বাড়িতে থাকায় এবং এজাহারে তার বাবার নাম না থাকায় এতদিন তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সম্পাদক ও রাজেন্দ্র কলেজ ছাত্র সংসদের ছাত্র মিলনায়তন সম্পাদক নাভিদ আল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, সাজিদের নামে মামলা আছে তা এতদিন আমরা জানতাম না। সে এতোদিন দিব্যি শহর দিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছে।

কিন্তু নব গঠিত জেলা ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হলে সাজিদুল ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আসিফ ইমতিয়াজ সজলের ক্ষুব্ধ বিবৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পরই সাজিদকে গ্রেপ্তার করা হলো।

তিনি বলেন, এ গ্রেপ্তারের পিছনে কারো ইন্ধন থাকতে পারে। ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে বিবৃতি দেওয়ায় ওকে হয়রানী করার জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে।আরেক বিবৃতিদাতা সাবেক জেরা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসিফ ইমতিয়াজ সজল, আসিফের গ্রেপ্তারের ঘটনায় তিনি নিজেও শংকিত আছেন। তিনি শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, তাকেও কোন মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হতে পারে।