বদলগাছীতে হাঁড় কাঁপানো শীতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষকরা

CNNWorld24
CNNWorld24 Dhaka
প্রকাশিত: 2:36 PM, January 27, 2021

সানজাদ রয়েল সাগর;বদলগাছী,নওগাঁঃ দীর্ঘদিন থেকে ধানের ন্যায্য মূল্য পায়নি কৃষকরা কিন্তু এবার কৃষকরা আমন ধান ও খড়ের দাম ভালো পাওয়ায় নওগাঁর বদলগাছীর কৃষকরা এই হাঁড় কাঁপানো শীতের মধ্যেও বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে ইরি-বোরো ধান চাষাবাদ শুরু করেছে। জমি প্রস্তুত,চারা উত্তোলন ও রোপন করতে মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছে এই উপজেণলা কৃষকরা।

জমিতে পানি সেচ, হালচাষ, সার প্রয়োগ, বীজতলা থেকে চারা উঠানো, ও প্রস্তুতকৃত জমিতে চারা রোপণ করার প্রতিযোগিতায় নেমেছে এলাকার কৃষকরা।

গত আমন মৌসুমে ধানের ফলন হয়েছে একরে মাত্র ৪৫ মণ। ধানের প্রতিমণের মূল্য ছিলো ১ হাজার থেকে ১১শ টাকা । সেই ধান বিক্রয় করে কিছুটা লাভবান হলেও বেশি লাভবান হয়েছে খড় বিক্রয় করে।তাই ধান ও খড়ের ভালো দাম পেয়ে কৃষকদের বোরো চাষাবাদে এবার আগ্রহ বেড়েগেছে।

এদিকে হাঁড় কাঁপানো শীতকে উপেক্ষা করে সকাল থেকে সন্ধ্যা অবাধি ইরি-বোরোর জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণ কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। আবার কেউ কেউ জমিতে হাল চাষ করছেন।কেউ জমির আইলে কোদাল পাড়া কিংবা জৈব সার ছিটানো কাজে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। কেউবা জমিতে সেচের জন্য ড্রেন নির্মাণ কিংবা পাম্প বা শ্যালো মেশিনের জন্য ঘর তৈরি করছেন।আবার অনেকে তৈরিকৃত জমিতে পানি সেচ দিয়ে ভিজিয়ে রাখছেন। আনুষাঙ্গিক কাজ শেষ করে কেউ বা বীজতলা থেকে চারা তুলে তা রোপণ করছেন।

বদলগাছী উপজেলার কৃষি স¤প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানাগেছে, চলতি মৌসুমে এই উপজেলায় ১০ হাজার ৯ শত ৯০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।গত বছর এই উপজেলায় ১১ হাজার ৩ শত ৭৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আর অর্জিত হয়েছিলো ১১ হাজার ৪ শত ৫০ হেক্টর।

বদলগাছী উপজেলার সদর ইউনিয়নের কৃষক হামিদ বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় লোকসান গুনতে হয়েছে আমাদের। এবার আমন চাষে করে আমরা কিছুটা লাভবান হয়েছি। সেই আশায় আবার ইরি-বোরো ধান চাষাবাদ শুরু করেছি।

মিঠাপুর ইউনিয়নের জামসের, বকুল, হেলাল সহ বেশ কিছু কৃষক জানান, চলতি বোরো মৌসুমে জিরা শাইল, ২৮, ২৯, ব্রি ৮১ ও ৬৩
জাতের ধান চাষাবাদ করতে বেশি আগ্রহী এলাকার কৃষকরা। অন্যান্য বছর কোল্ড ইনজুরিতে পচন লেগে বীজতলার চারা নষ্ট হয়ে যেতো।কিন্তু এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বোরো চারা বেশ ভালো রয়েছে।

কোলা ইউনিয়নের বাসিন্দা সেলিম ও ফজলু জানান, বোরো ধান লাগাতে দিন-রাত পরিশ্রম করতে হয়। এছাড়া বোরো চাষাবাদে খরচও অনেক বেশি হয়। বোরো ধান জমিতে লাগানোর পর থেকে তিন-চার দিন পরপর সেচ দিতে হয়। আশা রাখি বোরো আবাদ ভালো হলে আমরা বেশি লাভবান হবো।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ হাসান আলী বলেন, এই উপজেলায় কিছু দিন আগে থেকে বোরো ধান রোপণ শুরু হয়েছে।উপজেলা সব গভীর নলকূপগুলো সচল হলে খুব শিগগিরই বোরো ধান রোপণ শেষ হবে। আমরা কৃষি অফিস থেকে সর্বক্ষণ কৃষকদের সঠিক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।