বোরো চাষ নিয়ে চিরিরবন্দরের গ্রামে গ্রামে ব্যস্ত কৃষক

CNNWorld24
CNNWorld24 Dhaka
প্রকাশিত: 7:26 PM, January 28, 2021

মোরশেদ উল আলম;চিরিরবন্দর, দিনাজপুরঃ দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে বোরো লাগানো নিয়ে গ্রামে গ্রামে এখন চলছে উৎসবের আমেজ। ব্যস্ত সময় কাটছে কৃষক-কৃষাণিদের। কেউ বীজতলা থেকে ধানের চারা তুলছেন। কেউ পরিষ্কার করেছেন। কেউ জমিতে ধানের চারা পৌঁছে দিচ্ছেন। এই দৃশ্য দেখা যাচ্ছে উপজেলার ধান চাষের এলাকাগুলোতে। কৃষি অফিসের সূত্র মতে, এবার উপজেলায় ২০ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তার মধ্যে উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান চাষ হবে ১৭ হাজার ১১৫ হেক্টর জমিতে। হাইব্রিড জাতের ধান চাষ করা হবে ৩ হাজার ১৩৫ হেক্টর জমিতে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুয়াশা ঢাকা ভোর। দৃষ্টি আটকে যায় কয়েক হাত সামনের কুয়াশায়। বাড়ি সংলগ্ন জমিতে ধানের চারা তুলছেন অনেক কৃষক ও পরিবারের শিশু-কিশোররা। পুরুষরা ঝুঁড়িতে ভরে মাথায় তুলে আবার কেউবা ভার-বাকুয়ায় করে ধানের চারা নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন। মাঠে শ্রমিকরা সার ছিটাচ্ছেন। কেউ চাষ দেয়া জমির ঘাস পরিষ্কার করছেন। ঘাষ পরিষ্কার শেষে সারিতে লাগানো হচ্ছে ধানের চারা। হালকা হিমেল বাতাসে দুলছে সদ্য লাগানো ধানের চারা। দোল খাওয়া ধানের চারায় কৃষক দেখছেন আগামীর রঙিন স্বপ্ন। চারা বড় হবে, ফসলে ভরে উঠবে তার গোলা।

উপজেলার নশরতপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ রানীপুর গ্রামের মহছেনা বেগম নামের একজন কৃষাণি জানান, আমাদের মাঠে এই ফসল দিয়ে পরিবারের খাবারের যোগান দিতে হয়। তাই বোরো মৌসুম এলে সময় মতো রান্না, খাবারের কথা ভুলে যেতে হয়। শুকনো খাবার চিড়া-মুড়ি খেয়ে ভোরে কাজে নামতে হয়। পরিবারের পুরুষরা শ্রমিকদের সাহায্য করতে মাঠে চলে যান। কাজ শেষে নারীরা সকালের রান্না দুপুরে করেন। উপজেলার পুনট্টি ইউনিয়নের হরনন্দপুর গ্রামের আফছার আলী খান এবং নশরতপুর ইউনিয়নের নুর মোহাম্মদ বলেন, বীজ, সার সবকিছুর দাম বেশি।  শ্রমিকের মজুরিও বেশি। সার ও বীজের দাম সহনীয় হলে ধান চাষ করে ভালো লাভ পাওয়া যায়। 

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, এখন বোরো লাগানোতে ব্যস্ত সময় কাটছে কৃষক-কৃষাণিদের। কোনো সমস্যা না হলে হাইব্রিড ৪.৮১ মেট্রিক টন এবং উচ্চ ফলনশীল ৪.২৪ মেট্রিক টন ধান প্রতি হেক্টরে উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।