তিস্তা ও ধরলা সেতু তিন জেলার এসেছে জীবনমানের উন্নয়ন

CNNWorld24
CNNWorld24 Dhaka
প্রকাশিত: 5:05 PM, January 30, 2021

মোস্তাফিজুর রহমান, লালমনিরহাট:
লালমনিরহাটসহ উত্তরাঞ্চলের তিন জেলা কুড়িগ্রাম ও রংপুরের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে পরিবর্তন এনেছে দ্বিতীয় তিস্তা এবং ধরলা সেতু। উম্মোচিত হয়েছে পিছিয়ে যাওয়া এ অঞ্চলের সম্ভাবনার নতুন দ্বার।পাশাপাশি অবস্থান হলেও এই তিন জেলার আন্তঃ যোগাযোগে বাঁধা ছিল তিস্তা ও ধরলা নদী। সেই বাঁধা কাটাতে ২০১২ সালে ১২ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১২১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে তিস্তা নদীর উপর ৮৫০ মিটার দীর্ঘ লালমনিরহাটের কাকিনা ও রংপুরের মহিপুরে দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু নির্মাণকাজের ভিত্তি ফলক উম্মোচন করেন।

একই বছরের ২০ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী লালমনিরহাট জেলা শহরের সাথে ও কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ধরলা নদীর ওপর ২৯১ কোটি ৬৩ লাখ ২২৩ টাকা ব্যয়ে ৯৫০ মিটার দ্বিতীয় ধরলা সেতুর ভিত্তি ফলক উম্মোচন করেন।গত বছরের ২০১৯ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। একই বছরে ধরলা নদী উপর নবনির্মিত ২য় ধরলা সেতুটিরও উদ্বোধন করা হয়।সেতু দুইটি যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির সাথে সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ পুরো অঞ্চলের অর্ধকোটি মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থা ও জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে। দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক রুট বুড়িমারী স্থলবন্দরের সঙ্গে রাজধানী ঢাকা ও বিভাগীয় শহর রংপুরের দূরত্ব প্রায় ৬০ কিলোমিটার কমিয়ে এসেছে। কম সময়ে ও কম খরচে কাঁচামালসহ কৃষিজাত পণ্য পরিবহন সম্ভব হচ্ছে। এছাড়া অল্প সময়ের মধ্যেই রংপুর শহরের সঙ্গে লালমনিরহাটের আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলার লোকজন যোগাযোগ করতে পারছেন। এর সুফল পাচ্ছে রংপুরের পিছিয়ে থাকা গঙ্গাচড়া উপজেলার মানুষও।

বুড়িমারী স্থলবন্দর ব্যবহারকারী মেসার্স সায়েদ এন্টারপ্রাইজ সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও আমদানিকারক ব্যবসায়ী সায়েদুজ্জামান সাঈদ বলেন, কাকিনা-মহিপুর দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু চালুর ফলে বুড়িমারী-লালমনিরহাট-বড়বাড়ী হয়ে ঘুরে আর ঢাকা যেতে হচ্ছে না। কলেজ ছাত্র সোহানুর রহমান বলেন, সেতুটি চালুর ফলে লালমনিরহাটের ৪টি উপজেলার শিক্ষার্থীরা বাড়ি থেকে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ রংপুরের উন্নত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশুনার সুযোগ পাচ্ছে।অপরদিকে, দ্বিতীয় ধরলা সেতু দিয়ে চলাচলের সুযোগ সৃষ্টির ফলে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি, নাগেশ্বরী ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলার সাথে লালমনিরহাট জেলা সদরসহ রংপুরের যোগাযোগের দুরুত্ব কমে এসেছে ৩০ কিলোমিটার।

এতে কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট স্থলবন্দরের গুরুত্ব কমে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বাণিজ্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা।এছাড়া সেতুটি কুড়িগ্রামের তিন উপজেলার সাথে রাজধানী ঢাকা, রংপুর, লালমনিরহাট কুড়িগ্রামের দূরত্ব প্রায় ১০০ কিলোমিটার কমিয়ে এসেছে।সেতুটি কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী, ফুলবাড়ি ও ভূরুঙ্গামারী উপজেলার ৩০টিইউনিয়নের প্রায় ১০ লাখ মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা পালন করছে।বেড়েছে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান।২য় তিস্তা সেতু তথা ‘গঙ্গাচড়া শেখ হাসিনা তিস্তা সেতু’ নির্মিত হওয়ায় লালমনিরহাটের উন্নয়ন চিত্র পাল্টে যাবার পাশাপাশি এখন দাবি উঠেছে সেতুটিকে ঘিরে পর্যটন/বিনোদন কেন্দ্র স্থাপনেরও। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০১৮ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রংপুরের গঙ্গাচড়ায় তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত এ সেতুটি উদ্বোধন করেন। লালমনিরহাটের সচেতন মহলের লোকেরা জানান, সেতু দুটি পিছিয়ে থাকা রংপুর অঞ্চলের ইতিবাচক আর্থসামাজিক পরিবর্তনের সুযোগ এনেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান ও বাণিজ্য সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।