আমতলীতে যৌতুকের বলি রাবেয়া-শিশুর সামনেই মাকে পিটিয়ে হত্যা

CNNWorld24
CNNWorld24 Dhaka
প্রকাশিত: 10:00 PM, February 1, 2021

আমতলী, বরগুনা প্রতিনিধিঃ আমতলীতে যৌতুকের বলি হলেন দুই সন্তানের জননী রাবেয়া আক্তার। শিশু কন্যার সামনেই স্ত্রীকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করলো ঘাতক স্বামী মোঃ অলি উল্লাহ হাওলাদার। ঘাতক স্বামী এনজিও কমর্ী অলি উল্লাহকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনার এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনা ঘটেছে আমতলী পৌর শহরের সিকদার বাড়ী সড়কে সোমবার সকাল সোয়া নয়টার দিকে।

জানাগেছে, ২০০৮ সালে উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের ডালাচারা গ্রামের আব্দুস ছত্তার হাওলাদারের ছেলে মোঃ অলি উল্লাহ সাথে চাওড়া ইউনিয়নের চন্দ্রা গ্রামের আব্দুল আজিজ মোল্লার কন্যা রায়েরা আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই রাবেয়াকে যৌতুকের জন্য বিভিন্ন সময়ে শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন করে আসছে স্বামী অলি উল্লাহ।

ঠুনকো ঘটনায় অলি উল্লাহ মা রাবেয়া বেগমের (৫৮) প্ররোচনায় স্ত্রী রাবেয়াকে মারধর করতো। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে রাবেয়া কয়েকবার বাবার বাড়ীতে চলে যায়। বিয়ের দুই বছরের মাথায় শিশু কন্যা সানজিদার জন্ম হয়। মেয়ের মুখের দিতে তাকিয়ে রাবেয়া ঘাতক স্বামী অলি উল্লাহ’র নির্যাতন সহ্য করে আসছে। ঘাতক স্বামী অলি উল্লাহ বে-সরকারী সংস্থা কোডেক বরগুনার পুরাকাটা শাখায় ব্যবস্থাপক পদে চাকুরী করে।

বর্তমান আমতলী পৌর শহরে শিকদার বাড়ী সড়কে জমি কিনে বাসা নিমার্ণ করে বসবাস করে আসছে। ওই বাসা সংলগ্ন আরো জমি ক্রয়ের জন্য দুই লক্ষ টাকার প্রয়োজন হয়। ওই টাকা স্ত্রী রাবেয়াকে তার বাবার বাড়ী থেকে এনে দিতে বলে। কিন্তু রায়েবা বাবার বাড়ী থেকে টাকা এনে দিতে অস্বীকার করে। এ নিয়ে স্বামী অলি উল্লাহ গত দুই মাসে কয়েক দফায় স্ত্রী রাবেয়াকে মারধর করেছে।

রবিবার রাতে স্ত্রী রাবেয়াকে তার ভাই বশির উদ্দিনের কাছ থেকে দুই লক্ষ টাকা এনে দিতে বলে। এ নিয়ে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায় স্বামী অলি উল্লাহ স্ত্রী রাবেয়াকে বেধরক মারধর করে।

সোমবার সকালে অলি উল্লাহ’র মা রাবেয়া বেগম (৫৮) ছেলের বাসায় এসে পুত্র বধুকে গালাগাল করে। এতে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে অলি উল্লাহ লোহার এঙ্গেল দিয়ে শিশু কন্যা সানজিদা ও পুত্র সাজিদের সামনে স্ত্রী রাবেয়াকে পিটিয়ে বাম হাত ভেঙ্গে দেয়।

শিশু কন্যা বাবার নির্মম নির্যাতন থেকে মাকে রক্ষায় এগিয়ে গেলেও রক্ষা করতে পারেনি। এদিকে স্বাশুড়ী রাবেয়া বেগম পুত্র বধুকে রক্ষা না করে তিনিও ছেলের সাথে পুত্রবধুকে মারধরে মেতে উঠেন। শিশু কন্যা সানজিদা বাবার হাত থেকে লোহার এঙ্গেল নিয়ে যায়। এ সময় মা রাবেয়া বেগম ইট এনে ছেলের হাতে তুলে দেয়।

ওই ইট দিয়ে পিটিয়ে মাথা থেতলে স্ত্রী রাবেয়ার মৃত্যু নিশ্চিত করেন। শিশু কন্যার সামনেই স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা করে তার শ্যালক বশির উদ্দিন মোল্লাকে মুঠোফোনে জানায় তোর বোনকে আমি পিটিয়ে হত্যা করেছি। তুই এসে লাশ নিয়ে যা। শিশু কন্যার ডাক চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে ঘাতক স্বামী অলি উল্লাহকে আটকে রাখে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে আমতলী থানায় নিয়ে আসে এবং ওই সময়েই ঘাতক স্বামী অলি উল্লাহকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মোঃ বশির উদ্দিন বাদী হয়ে ওই দিন দুপুরে ঘাতক স্বামী অলি উল্লাহ ও তার মা রাবেয়া বেগমকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেছে।

পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে প্রেরন করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রতিবেশী বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই অলি উল্লাহ ও তার মা রাবেয়া বেগম পুত্রবধু রাবেয়াকে নির্যাতন করে আসছে। এ নিয়ে কয়েক দফায় শালিস বৈঠক হয়েছে। তারা আরো বলেন, প্রায়ই স্বামী অলি উল্লাহ স্ত্রীকে মারধর করতো।

নিহতের শিশু কন্যা সানজিদা (১০) জানান, বাবার অত্যাচারে মা সকালের খাবার খেতে পারেনি। বাবা দাদীর সহযোগীতায় মাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমি বাবার হাত থেকে লোহার এঙ্গেল নিয়ে গেলে দাদী বাবার হাতে ইট তুলে দেয়। ওই ইট দিয়েই পিটিয়ে মায়ের মাথা থেতলে দিয়েছে। এরপর মা মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।

নিহত রাবেয়া আক্তারের ভাই স্কুল শিক্ষক মোঃ বশির উদ্দিন বলেন, সোমবার খুব সকালে আমার বোন আমাকে মুঠোফোনে জানায় ভাইয়া দুই লক্ষ টাকা দিতে আমি অস্বীকার করায় আমাকে অলি রাতে মারধর করেছে। আমি আর নির্যাতন সহ্য করতে পারছি না। আমাকে ভাইয়া রক্ষা কর। তিনি আরো বলেন, ওই দিন সকাল সাড়ে নয়টার দিকে আমার ভগ্নিপতি অলি উল্লাহ আমাকে মুঠোফোনে বলেন, তোর বোনকে আমি পিটিয়ে হত্যা করেছি। তুই এসে তোর বোনের লাশ নিয়ে যা। আমতলী থানায় এসআই নাসরিন আক্তার বলেন, নিহত রাবেয়া আক্তারের বাম হাত ভাঙ্গা, ডান হাতের আঙ্গুল থেতলানো, বাম চোখ রক্তাক্ত, মাথা থেতলানো, কোমড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানের আঘাতের চিহৃ রয়েছে।

আমতলী থানার ওসি মোঃ শাহ আলম হাওলাদার বলেন, ঘাতক স্বামী অলি উল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে প্রেরন করা হয়। তিনি আরো বলেন, এ ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।