বেনাপোল বন্দর দিয়ে কমে গেছে উচ্চ শুল্ক হারের গাড়ির চেচিস ও মোটরপার্টস আমদানি : প্রভাব পড়েছে রাজস্ব আদায়েও

CNNWorld24
CNNWorld24 Dhaka
প্রকাশিত: 6:31 PM, February 4, 2021

মহসিন মিলন,বেনাপোল প্রতিনিধিঃ
বেনাপোল বন্দর দিয়ে কমে গেছে উচ্চ শুল্ক হারের গাড়ির চেচিস ও মোটরপার্টস আমদানি। কাস্টমের রাজস্ব আদয়ের সিংহভাগ আসে উচ্চ শুল্কযুক্ত এ জাতীয় পন্য আমদানি থেকে।

করোনায় গাড়ি ও মোটরপার্টসের চাহিদা কমে যাওয়ায় সরকারের রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের প্রভাব পড়েতে শুরু করেছে।

বেনাপোল কাস্টম হাউজে ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রথম ৬ মাসে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল দুই হাজার ৯৯৬ কোটি ১৪ লাখ টাকা কিন্ত আদায় হয়েছে ১ হাজার ৮৮৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। রাজস্ব  ঘাটতি ১ হাজার ১০৬ কোটি ৪১ লাখ টাকা।

২০১৯-২০ অর্থবছরের একই সময়ে ৩৪২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা রাজস্ব বৃদ্ধি পেয়েছে।  প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ২৪ দশমিক ১২ শতাংশ।বেনাপোল কাস্টমস হাউসে একই সময়ে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব ঘাটতি হয়েছিল ৩ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৬ হাজার ২৪৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা।

বেনাপোল কাস্টম অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ৫ বছরে বেনাপোল বন্দর দিয়ে গাড়ির চেচিস আমদানি হয়েছে ১৭ হাজার ২৯৫ কোটি ৯৯ লাখ ৩৭ হাজার ৯৩৬ টাকা। যার সংখ্যা ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৭২৮ দশমিক দশ পিস।

২০১৯ সালে মোটরপার্টস আমদানি হয়েছে  ২১৯ কোটি ৫৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৫৫ টাকা, যার সংখ্যা  ৮ কোটি ৪৩ লাখ ৭৮২ দশমিক ৯৭ কেজি। ২০২০ সালে চেচিস আমদানি হয়েছে ২৮ হাজার ২৪২ পিস, মোটরপার্টস আমদানি করা হয়েছে এক কোটি ৫৪ লাখ ৬৫ হাজার ৫৬৭ দশমিক ১৬ কেজি।

২০১৯-২০ অর্থবছরে সংশোধিত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা। সেখানে আদায় হয়েছে ৪ হাজার ৪০ কোটি টাকা। রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে এক হাজার ১৪৫ কোটি টাকা।

বেনাপোল কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক এমদাদুল হত লতা জানান, গাড়ির চেচিস ও মোটরপার্টস বেশী আমদানি হলে রাজস্ব অদায় বেশীহয়। কম শুল্কযুক্ত পণ্য আমদানি হলে রাজস্ব আদায় কমে যাবে।
যশোর চেম্বার অব কমাসের্র সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান খান জানান, করোনার কারণে সব ব্যবসায় ধস নেমেছে। বেশি নেমেছে গাড়ির ব্যবসায়। কারণ মানুষের কাছে নগদ টাকার প্রবাহ বেশি থাকলে তখন তারা গাড়ি কিনতে ও পার্টস বদলাতে উৎসাহী হন।

বেনাপোল কাস্টম হাউজের কমিশনার মো. আজিজুর রহমান জানান, করোনার কারণে সারা দেশেই  ব্যবসায় মন্দা চলছে। সে কারনে গাড়ির চেচিস ও মোটরপার্টস আমদানি কিছুটা কমেছে। রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি ২৪ দশমিক ১২ শতাংশ।

বেনাপোল বন্দর উপপরিচালক  আ: জলিল জানান, বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন জায়গা অধিগ্রহনের কাজ চলছে। গোটা বন্দর এলাকায় পণ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে  সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ প্রক্রিয়াধীন। বন্দরে উন্নয়ন কর্মকান্ড সম্পন্ন হলে এ বন্দর দিয়ে আমদানি বাড়বে।