প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঘরে আমতলী-তালতলী উপকূলের হতদরিদ্ররা-আনন্দে আত্নহারা

CNNWorld24
CNNWorld24 Dhaka
প্রকাশিত: 8:36 PM, February 6, 2021

রেজাউল করিম,আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি :প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঘর পেয়ে উপকুলের দের শতাধীক পরিবার এর মাঝে আনন্দেও বন্যা বইছে।উপকারভোগি কয়েকজন তাদেও অনুভুতি ব্যাক্ত করতে গিয়ে বলেন ”শেখের বেটির উছিলায় মুই বুড়া বয়সে একখানা ঘর পাইছি। হেই ঘরে মুই পোলা-বউ ও নাতি লইয়্যা থাহা শুরু হরছি। মুই হারা জীবন ভাঙ্গা নারার ঘরে রইছি। বইন্ন্যা আর দেউইতে মুই ভিজজি। এ্যাহন শেখের বেটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মোরে থাহার লইগ্যা একটা ইডের ঘর দেছে। মুই হেই ইডের ঘরে পোলা- বউ ও দুইডা নাতি লইয়্যা থাহি। এ্যাহন আর মোর দেওইয় আর শীতের ডর নাই। মোর দেওইতে-শীতে আর কষ্ট হরতে অইবে না।

মুই শেখের বেটির জন্য ভগবানের দ্বারে দোয়া হরি যেন হ্যারে অনেক বচ্ছর বাচাঁইয়্যা রাহে।মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়ের আশ্রায়ণ প্রকল্প-২ এর ঘর পেয়ে আনন্দে এ কথা বলেছেন, তালতলী উপজেলার বড় অংকুজানপাড়া গ্রামের ৮০ বছর বয়সি বৃদ্ধা বিধবা অতুলরানী।

প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানাগেছে, মুজিব শত বর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়ের আশ্রায়ণ প্রকল্প-২ এ আওতাধীন আমতলী ও তালতলীতে দুই কোটি ৫৯ লক্ষ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে ১’শ ৫২টি গৃহ নির্মাণের বরাদ্দ দেয় সরকার। এর মধ্যে উপকুলীয় তালতলী উপজেলায় এক’শ এবং আমতলীতে ৫২ টি।

দুই উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের এক’শ ৫২ টি হতদরিদ্র ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে এ ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়।তিটি গৃহ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে এক লক্ষ ৭১ হাজার টাকা। পাকা টিন শেডের এ ঘরে রয়েছে দুইটি থাকার কক্ষ, রান্নাঘর, স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট, গোসলখানা ও বেলকুনি। একটি ছোট পরিবারের জন্য উপযুক্ত থাকার ঘর।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভালো উদ্যোগের ফলে দুই উপজেলার ১’শ ৫২ টি হতদরিদ্র ও গৃহহীন পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাই পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে উপজেলার সমুদয় হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে এ গৃহ নির্মাণের আওতায় আনার দাবী জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।

শনিবার সরেজমিন দেখাগেছে, হতদরিদ্র মানুষগুলো প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঘর পেয়ে খুবই আনন্দিত। তারা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে শান্তিতে বসবাস করছে। উৎসবমুখর আশ্রায়ণ প্রকল্প এলাকাগুলো।

তালতলী উপজেলার কড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের কালাম মিয়া ও শাহিনুর বেগম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঘর পাইছি।খুব ভালো ঘর। আরাম আয়েশেই দিন কাটছে। রাখাইন মাখেন বলেন, উহ প্রধাণমন্ত্রী ঘর দিছে। ভালাই অইছে। ঘর পেয়ে শান্তি লাগছে।

আমতলী সদর ইউনিয়নের বিধবা রওশন আরা বেগম বলেন,মুই বিধরা মানু মোরে সরহার একটা ঘর দেছে। মুই প্রেধানমন্ত্রীর লইগ্যা দোয়া হরি।

তালতলীর পচাকোড়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ নজির হোসেন কালু পাটোয়ারী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া ১০ টি ঘর পেয়েছি।নির্মাণ শেষে ওই ঘরে হত দরিদ্র পরিবারগুলো বসবাস করছে। তিনি আরো বলেন, গৃহ নির্মাণ কাজ ভালোই হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রুনু বেগম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রায়ণ প্রকল্প-২ এর তালতলীতে এক’শ ঘর পেয়েছে।ওই ঘর ইউএনও স্যারের তদারকিতে নির্মিত হয়েছে।

আমতলী ও তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসাদুজ্জামান বলেন, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের আশ্রায়ণ প্রকল্প-২ এর দুই উপজেলার এক’শ ৫২টি ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়।ওই ঘরের নির্মাণ কাজ শেষ।শতাধিক পরিবার ইতিমধ্যে ঘরে বসবাস করছে।

তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনা অনুযায়ী উপজেলার সকল হতদরিদ্র ও গৃহহীন পরিবারগুলোকে গৃহ নির্মাণের আওতায় আনা হবে।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সেই ঘোষনা বাস্তবায়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রীর পক্ষথেকে সহায় সম্বলহীন মানুষের জন্য ঘর উপহার সর্ম্পকে এক বিশেষ সাক্ষাতকারে(সিএনএনওয়ার্ল্ড২৪) কে অত্র এলাকার সচেতমহল, ইমাম, শিক্ষক, সুধীজন, সমাজ সেবকসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার সাধারন মানুষ বলেন, যে সরকার ক্ষমতায় আছে ,সে কোন দলের বা কোন মতের বা সে কতদিন ক্ষমতায় থাকবে এটা আমাদের কাছে এই মুহুর্তে বিবেচ্য বিষয় নয় বরং দেখার এবং ভাববার বিষয় হলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অসহায়,ভূমিহীন,গৃহহীন এবং অসচ্ছল মানুসের জন্য যা করেছে এবং করছে এটা নজীরবিহিন আমরা তাকে সাধুবাদ জানায়।