জয়পুরহাট জেলা সমাজসেবা অফিসারের বিরুদ্ধে সীমাহীন দূর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

CNNWorld24
CNNWorld24 Dhaka
প্রকাশিত: 4:54 PM, February 7, 2021

জয়পুরহাট জেলা সমাজসেবা অফিসারের বিরুদ্ধে সীমাহীন দূর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ,তিনি অফিস কক্ষ থেকে তোলেন নিয়মিত বাড়ী বাড়া

মোঃ আবু মুসা,জয়পুরহাট:
জয়পুরহাট জেলা সমাজসেবা অফিসারের বিরুদ্ধে সীমাহীন দূর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অফিস কক্ষ থেকে তোলেন নিয়মিত বাড়ী বাড়া তার অফিস জয়পুরহাটে। বাসা বগুড়ায়। রাত্রিযাপন করেন অফিসের কক্ষে। ব্যবহার করেন সরকারি এতিমখানার খাট, বালিশ, চাদর ও অফিসের চেয়ার টেবিল। সরকারি গাড়ি নিয়ে যাতায়াত করেন বগুড়া থেকে। তিনি হলেন,জয়পুরহাট জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ইমাম হাসিম।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহা-পরিচালকের আদেশও তিনি মানেন না। বদলীর এখতিয়ার না থাকলেও তার নির্দেশেই চলছে কর্মচারীদের বদলী।এছাড়া অনিয়ম,স্বেচ্ছাচারীতা ও দুর্নীতির জয়পুরহাটে যোগদানের পর তার রোষানল থেকে রেহায় পেতে
ইতোমধ্যে জেলা ৬জন কর্মকর্তা স্বেচ্ছায় বদলি নিয়ে চলে গেছেন অন্যত্র।

অভিযোগে জানা গেছে, জয়পুরহাট জেলা সমাজসেবা অফিসে উপ-পরিচালক পদে গত বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারী যোগদানের পর থেকে সরকারি এতিমখানার জন্য বরাদ্দ হওয়া খাট,চাদর ও বিছানাপত্র দিয়ে সাজানো অফিসের একটি কক্ষ আবাসিক হিসেবে ব্যবহার করে নিয়মিত তিনি সরকারি বাসা ভাড়া তুলছেন।

সরেজমিনে তার অফিসে গিয়েও অফিস কক্ষ আবাসিক হিসেবে ব্যবহার করার সত্যতা মিলেছে। সেখানে এতিমখানার খাট এবং বিছানাপত্র ছাড়াও তার ব্যবহৃত কয়েকটি শার্ট লুঙ্গি এবং খাবার প্লেট-গ্লাসসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র দেখে সহজেই বোঝা যায়,তিনি অফিসের ওই কক্ষটি আবাসিক হিসেবে নিয়মিত ব্যবহার করছেন।

 

 

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলা সদরে তার বাড়ি হলেও তিনি থাকেন বগুড়া সদরের বারোপুর আবাসিক এলাকায় নিজস্ব বাড়ীতে। যোগদানের পর খারাপ আচরণ ও তার স্বেচ্ছাচারিতায় ক্ষুব্ধ হয়ে বদলী নিয়ে জয়পুরহাট ছেড়ে চলে গেছেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক সহ বিভিন্ন পদের ৬জন সমাজসেবা কর্মকর্তা। জয়পুরহাটে যাদের চাকুরিকালীন অবস্থান দেড় বছরের বেশি নয়।

বর্তমানে সহকারি পরিচালক পদে একজন নারী কর্মকর্তা যোগদান করলেও অন্য পদগুলো শুন্যই রয়েছে। অফিসের তিনজন কর্মকর্তা বর্তমানে ওইসব শুন্য পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।ফলে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে সমাজসেবা কার্যক্রম।

সমাজসেবা অধিদফতর হতে গত বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারী ইস্যু করা এক আদেশ পত্রে জানা গেছে,নীতিমালা প্রনীত না হওয়া পর্যন্ত সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ৫নভেম্বর ২০১৭ অনুযায়ী সমাজসেবা অধিদফতরের আওতাধীন সকল কর্মচারীর সংস্থাপন বিষয়ক যাবতীয় কার্যক্রম মহাপরিচালক সমাজসেবা অধিদফতর কর্তৃক নিষ্পন্ন করা হবে। পত্র জারীর তারিখ হতে এ আদেশ কার্যকর হবে। ওই আদেশ এখনও বলবৎ আছে। কিন্তু জয়পুরহাট সমাজসেবা বিভাগের উপ-পরিচালক ওই আদেশ অমান্য করে একের পর এক কর্মকর্তা কর্মচারী বদলী আদেশ জারী করছেন।

সুত্র আরো জানায় সমাজসেবা অধিদফতরের মহাপরিচালক শেখ রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে গত বছরের ১২ নভেম্বর জয়পুরহাট সমাজসেবা অফিসের প্রবেশন অফিসার সাদিকুর রহমান মন্ডলকে সমাজসেবার জয়পুরহাট সদর কার্যালয়ে বদলীর আদেশ দেন। কিন্তু মহাপরিচালকের ওই আদেশ অমান্য করে উপ-পরিচালক গত ২৩ নভেম্বর নিজ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে জয়পুরহাট শহর সমাজসেবা অফিসার শারমিন সুলতানাকে জয়পুরহাট সদরে সমাজসেবা অফিসারের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের
নির্দেশ দেন।

এ ছাড়া গত ২০ জুলাই তিনি জয়পুরহাট সদর, কালাই ও আক্কেলপুর উপজেলায় বিভিন্নপদে কর্মরত চারজন কর্মচারীকে কোন অভিযোগ বা আবেদন ছাড়াই জেলার অন্য উপজেলায় তাৎক্ষণিক বদলি (ষ্ট্যান্ড রিলিজ) করেন। যাদের মধ্যে কালাই উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে বদলী করা

ফিল্ড সুপার ভাইজার রফিকুল ইসলাম এবং কারিগরি প্রশিক্ষক মুনজের আলী নামের দু’জন কর্মচারীর চাকুরী আছে মাত্র এক বছর। চাকুরির শেষ মুহুর্তে এসে কোন কারণ ছাড়াই বাড়ি থেকে দুরে বদলী করায় চরম সমস্যায় পড়েছেন তারা জেলা সমাজসেবা অফিসের প্রবেশন কর্মকর্তা সাদেকুর রহমান বলেন,‘প্রবেশন কর্মকর্তা এছাড়াও উপ-পরিচালক মহোদয়ের নির্দেশে বর্তমানে তিনি রেজিষ্ট্রেশন ও শিশু পরিবার কর্মকর্তা হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।

এরপর সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক তাকে জয়পুরহাট সদরের সমাজসেবা কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে চিঠি ইস্যু করলেও উপ-পরিচালক সেই দায়িত্ব দিয়েছেন শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা শারমিন সুলতানাকে। এছাড়া ২০১৯-২০ অর্থ বছরে দূরারোগ্য রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অনুদান বিতরণেও তার বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ রয়েছে।

জয়পুরহাট সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ইমাম হাসিম তারি বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন বিষয়গুলো সঠিক নয়, করোনার মধ্যে আমি কিছুদিন অফিসে থেকেছি। তাছাড়া অফিসের প্রয়োজনেই আমি মাঝে মধ্যে গাড়ী নিয়ে বগুড়াতে যাতায়াত করেছি।