কুড়িগ্রামে তিন বছরেও নির্মাণ হয়নি কুড়িগ্রাম সদরের শুলকুর বাজার সেতু

CNNWorld24
CNNWorld24 Dhaka
প্রকাশিত: 4:08 PM, February 11, 2021

শাহীন আহমেদ, কুড়িগ্রামঃ দীর্ঘ ৩ বছরেও শেষ হয়নি কুড়িগ্রাম  এলজিইডির শুলকুর বাজার নির্মাণাধীন সেতু। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পাঁচ ইউনিয়ের প্রায় ২ লক্ষাধিক মানুষ। আসন্ন বন্যা মৌসুমেও সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় উদ্বেগে রয়েছেন দুর্ভোগে থাকা মানুষজন।

স্থানীদের অভিযোগ নামমাত্র কিছু কাজ দেখিয়ে এলজিইডির কিছু সুযোগ সন্ধানী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এলজিইডির সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। এলাকাসীর দুর্ভোগ নিরসনে কুড়িগ্রাম-২ আসনের এমপি আলহাজ পনির উদ্দিন আহমেদ একাধিকবার এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীকে কাজটি সমাপ্তির জন্য তাগাদা দিলেও কাজ হয়নি কর্তৃপক্ষের।

জানা যায়, ২০১৮ সালে কাজটি টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজ পান কুড়িগ্রাম উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা এ্যান্ড আবু বকর জেবি। ৯০ মিটার দৈর্ঘ্যরে কাজটির নির্মাণ ব্যয় ছিল ৫ কোটি ৫২ লাখ ৯০ হাজার। কাজটি শুরু হয় ২০১৮ সালের ১ নবেম্বর। এই কাজের নির্ধারিত মেয়াদ ছিল ২০২০ সালে ৪ ফেব্রুয়ারি। মেয়াদ শেষ হলেও সেতুর অধিকাংশ কাজ এখনও অসম্পন্ন।

অথচ ঠিকাদার গোলাম রব্বানী এলজিইডির সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন।

কাজ না করে কিভাবে বিপুল অংকের টাকার বিল উত্তোলন করল ওই ঠিকাদার এ প্রশ্ন এখন সর্বমহলের।

অপরদিকে এলাকাবাসীর দাবি, পরিবহন এবং মানুষের যাতায়াতের জন্য পার্শ্ব রাস্তাটি হেরিং করলেও ওই ঠিকাদার হেরিং রাস্তাটির প্রায় ৫ হাজার ইট তুলে বিক্রি করেছেন।

ফলে গত বন্যায় রাস্তাটি ভেঙে যেয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষের চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। সেই সঙ্গে সেতুটি না থাকায় উত্তরবঙ্গের বৃহৎ যাত্রাপুর গরুর হাট, সদর উপজেলার পাঁচগাছী, যাত্রাপুর, ঘোগাদহ, উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ, সাহেবের আলগাসহ সীমান্তবর্তী অসংখ্য হাট-বাজারে পরিবহন যাতায়াত সম্পূর্ণরূপে বন্ধ থাকায় রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

এলজিইডির এক কর্মকর্তা বলেন, ওই কাজের ঠিকাদার মূলত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা এ্যান্ড আবু বকর জেবির নামে। গোলাম রব্বানী সাব নিয়ে কাজটি করছেন। এর দায় মূলত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আলতাফ সাহেবের।

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মাসুদুর রহমান জানান, কাজটি বন্ধ ছিল। আমি নতুন এসেই বন্ধ কাজটি চালু করেছি। আশা করছি আগামী ২ মাসের মধ্যে সেতুর কাজ শেষ হবে।

এ ব্যাপারে সাব-ঠিকাদার মোঃ গোলাম রব্বানী বলেন, চাহিদা অনুযায়ী বিল না দেয়ায় কাজটি যথাসময়ে শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে কথা হলে কুড়িগ্রাম-২ আসনের এমপি আলহাজ পনির উদ্দিন আহমেদ বলেন, সদ্য যোগদানকৃত নতুন প্রকৌশলীকে কাজটি শেষ করতে বলেছি। তিনি কাজটি দ্রুত শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আমি আশাবাদী তিনি কাজটি দ্রুত শেষ করার সার্বিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন।