তিন ফসলি জমিতে রূপান্তরিত হচ্ছে এক ফসলি জমি: কৃষিমন্ত্রী

Desk Reporter
Desk Reporter
প্রকাশিত: ৭:০৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২১

কৃষিও প্রকৃতি:তিন ফসলি জমিতে রূপান্তরিত হচ্ছে এক ফসলি জমি বললেন কৃষিমন্ত্রী।ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, দেশের উপকূলীয় এবং  দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ত জমিতে কৃষি উৎপাদনের সম্ভাবনা অনেক বেশি। আর ইতোমধ্যে আমাদের কৃষি বিজ্ঞানীরা ধান- ডাল-তরমুজ-আলু-ভুট্টা-বার্লি- সূর্যমুখী- শাকসবজিসহ অনেক ফসলের লবণাক্ততা সহিষ্ণু উন্নত জাত উদ্ভাবনে সক্ষম হয়েছেন। আর এসব জাত ও উৎপাদন প্রযুক্তি উপকূলবর্তী বিপুল এলাকার সব চাষিদের মধ্যে দ্রুত সম্প্রসারণের জন্য কাজ করে  চলেছেন। আর এ লক্ষ্যে রোডম্যাপ প্রণয়নের কার্যক্রমও চলমান আছে। এখন চাষিরা এসব ফসলের চাষাবাদ করতে পারলেই দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ত এলাকায় নতুন করে ঘটবে কৃষি বিপ্লব।

১২ সেপ্টেম্বর রোববার সকালে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় মাছের ঘেরের আইলে আগাম শিম চাষ-অফ সিজন তরমুজ এবং মরিচ চাষ সরেজমিন পরিদর্শন শেষে আয়োজিত কৃষক সমাবেশে এসব কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের প্রায়-২৫ শতাংশই হচ্ছে উপকূলীয় এলাকা। লবণাক্ততার কারণে এসব এলাকায় বছর জুড়ে একটি মাত্র ফসল হতো। আর আমন ধান তোলার পর বছরের বাকি সময়টা মাঠের পর মাঠ,দীগন্তজোড়া এই ফসলের মাঠ অলস পড়ে থাকত। এ প্রতিকূল ও বিরূপ পরিবেশে কীভাবে বছরে দুবার অথবা তিনবার ফসল চাষাবাদ করা যায়- সে লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করে চলেছি।আর ইতোমধ্যেই অনেক সাফল্যও এসেছে। এটিকে আরও সম্প্রসারিত করা হবে,যাতে করে এসব এলাকায় বছর জুড়ে ধ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করা যায়।

সেচ পানির সমস্যা দূর করতে খুলনা- বাগেরহাটে-৬০০’রও বেশি খাল খনন ও পুনঃখনন করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলেও  জানান কৃষিমন্ত্রী।

পরিদর্শনের সময় স্থানীয় সাংসদ ও সাবেক মন্ত্রী নায়ায়ণ চন্দ্র -কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মেসবাহুল ইসলাম-অতি: সচিব ওয়াহিদা আক্তার-কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আসাদুল্লাহ-বিএডিসি’র চেয়ারম্যান ড. অমিতাভ সরকার- বিএআরসি’র নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ  বখতিয়ার- ব্রির ডিজি ড. শাহজাহান কবীর-বারির ডিজি নাজিরুল ইসলাম- কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনার উপ-পরিচালক হাফিজুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য,কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে- উপকূলীয় এলাকায় মোট জমির পরিমাণ-২৮ লক্ষ-৩০ হাজার হেক্টর- এর মধ্যে চাষবাদযোগ্য-২১ লক্ষ-৬২ হাজার হেক্টর। আর লবণাক্ত এলাকার পরিমাণ-১০ লক্ষ- ৫৬ হাজার হেক্টর। এ ছাড়াও লবণপানির ভয়াবহতার কারণে প্রতিবছরই শুষ্ক মৌসুমে উপকূলীয় এলাকায়-৫ লক্ষাধিক হেক্টর ফসলি জমি অনাবাদিই থেকে যায়।