খুলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যেসব শর্ত মানতে হবে

Desk Reporter
Desk Reporter
প্রকাশিত: ৫:০৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৭, ২০২১

শিক্ষা ডেস্ক: কোভিড-১৯ মহামারি নোভেল করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিম্নমুখী হওয়ায় দীর্ঘ-১৭ মাস পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে বেশ কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি।

 

৭ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি এপরামর্শক কমিটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তীতে এ শর্তের কথা  জানান হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তীতে বলা হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ কখন এবং কিভাবে পুনরায় চালু করা হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় যে সব বিষয় বিবেচনা করতে হবে তা হলো:-

সব শিক্ষার্থী, শিক্ষক/কর্মচারী এবং সমাজের মঙ্গল ও স্বাস্থ্য নিশ্চিত করে তাদের সব ধরনের ঝুঁকি কমানোর যথাযথ ব্যবস্থাপনা করা, স্কুল বন্ধ থাকার ফলে শিক্ষার্থীরা যে সব ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন এবং তাদের যে মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে তা কমানোর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এলাকায় কোভিড-১৯ ভাইরাসের পরবর্তী সংক্রমণ প্রতিরোধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

আর সরকার যদি স্কুল এবং অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনরায় খুলে দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন সেক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখা আবশ্যক বলেও জানিয়েছেন জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। আর সেগুলো হল:-

১/ নিম্নোক্ত বিষয়গুলো মেনে চলে, প্রি-স্কুল ব্যতীত সব স্কুল এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ পুনরায় খুলে দেয়া যেতে পারে।

২/ সব স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে সবার জন্য মাস্ক পরা নিশ্চিত করা এবং আর এর বিপরিত কিছু হলে সে বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা। কেন্দ্রীয়ভাবে সব শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত, মানসম্পন্ন ও সঠিক মাপের মাস্কের ব্যবস্থা এবং বিতরণ করা।একি সাথে অন্যান্য জনস্বাস্থ্য ও জনসচেতনতামূলক পদক্ষেপসমূহ যেমন: হাত পরিষ্কার রাখা বা হাত ধোয়া- হাত জীবাণুমুক্তকরণ স্টেশন স্থাপন করা-এবং সাধারণ পরিষ্কার/পরিচ্ছন্নতা মেনে চলা।

 

৩/ স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে অন্তত- ৮০ শতাংশ শিক্ষক এবং কর্মচারীদেরকে কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন নেয়া থাকতে হবে- এবং তারা দ্বিতীয় ডোজের-১৪ দিন পার হবার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যোগ দিতে পারবেন। কিন্তু ক্ষেত্র বিশেষে-১ম ডোজের-১৪ দিন পরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যোগদানের জন্য অনুমতি প্রদান করা যেতে পারে।

৪/ উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে-১৮ বছরের অধিক বয়সী শিক্ষার্থীদের দ্রুত ভ্যাকসিন  নেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

৫/ শ্রেণীকক্ষে ও শিক্ষাপ্রিতিষ্ঠানসমূহে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য নির্দিষ্ট ক্লাস কোনটি, সপ্তাহের কোনদিন হবে তা বিভক্ত করে দেয়া যেতে পারে। যেমন:প্রথমদিকে পরীক্ষার্থীদের ক্লাস প্রতিদিন খোলা রাখা ছাড়া-বাকি সব ক্লাস সপ্তাহের-১-২ দিন খোলা রাখা। আর এতে করে একটি নির্দিষ্ট দিনে যেই ক্লাসটি খোলা থাকবে তার জন্য শিক্ষার্থীরা অন্যান্য খালি শ্রেণীকক্ষগুলোন ব্যবহার করে তাতে নির্দিষ্ট দুরত্ব মেনে বসতে পারবে।

৬/ আবাসিক সুবিধা আছে এমন স্কুল ও  শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নিম্নোক্ত পরামর্শসমূহ মেনে চলা মাদ্রাসা সহ-:

 

ক/সব সমাবেশের স্থানসমূহ –ক্যাফেটেরিয়া-ডাইনিং- টিভি-স্পোর্টস রুম- ইত্যাদি বন্ধ রাখা। রান্নাঘর-রুম সমূহে সরাসরি খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা থাকা।

খ- একাধিক শিক্ষার্থী একি বিছানা ব্যবহার না করা।

গ/মাদ্রাসায় একসাথে নামাজ- সমাবেশ ইত্যাদির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নির্দেশনা মেনে চলা।

 

৮/ স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অন্যান্য কর্মচারীদের মধ্যে সংক্রমণ পর্যবেক্ষণ এবং দৈনিক রিপোর্ট তৈরী করতে হবে। নির্বচিত কিছু স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক- শিক্ষার্থী এবং অন্যান্য কর্মচারীদের নমুনা পরীক্ষা ও  সার্ভেইলেন্সের প্রোটোকল তৈরী এবং বাস্তবায়ন করতে হবে। যে সব জেলায় আরটিপিসিআর ল্যাব আছে সে সব জেলার স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই সার্ভিল্যান্সের জন্য নির্বাচন করা যেতে পারে। যে সব জেলায় সংক্রমণের হার-২০ শতাংশের বেশী সেই জেলাগুলোতে আরও নিবিড় সার্ভেইলেন্সের ব্যবস্থা করা।

৯/সব বিধিনিষেধ সুষ্ঠুভাবে পালন নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে মনিটরিং টিম গঠন করে দৈনিক মনিটরিং এর ব্যবস্থা করতে হবে।