এটিএম শামসুজ্জামান না ফেরার দেশে-ফিরে দেখি বর্ণঢ়্য কর্মময় জীবন

CNNWorld24
CNNWorld24 Dhaka
প্রকাশিত: 2:21 PM, February 20, 2021

বিনোদন ডেস্ক:এটিএম শামসুজ্জামান শুধুমাত্র  একটি নামই নয়,বাংলাদেশের চলচ্চিত্র তথা অবিনয় জগতের  একটি দুর্দান্ত হাসজ্জল ইতিহাস বটে। যে মানুষটি  একাধারে একজন অভিনেতা, পরিচালক, কাহিনীকার, চিত্রনাট্যকার, সংলাপকার  এবং গল্পকার তিনি এটিএম শামসুজ্জামান।

অভিনেতা হিসেবেই শুরুতে মঞ্চে কাজ করতেন, আর চলচ্চিত্র জীবন শুরু করেন কৌতুক অভিনেতা হিসেবে।  এরপর আসেন খল অভিনয়ে। অসংখ্য চলচ্চিত্রে এটিএম শামসুজ্জামানের খল চরিত্রগুলো মনে যেন  আজও জীবন্ত।

এটিএম শামসুজ্জামান- ১০ সেপ্টেম্বর ১৯৪১ সালে নোয়াখালীর দৌলতপুরে নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। গ্রামের বাড়ি লক্ষীপুর জেলার ভোলাকোটের বড় বাড়ি আর ঢাকায় থাকতেন দেবেন্দ্রনাথ দাস লেনে। পড়াশোনা করেছেন ঢাকার পগোজ স্কুল, কলেজিয়েট স্কুল, রাজশাহীর লোকনাথ হাই-স্কুলে। পগোজ স্কুলে তার বন্ধু ছিল আরেক অভিনেতা প্রবীর মিত্র। ম্যাট্রিক পাশ করেন ময়মনসিংহ সিটি কলেজিয়েট হাই-স্কুল থেকে। তারপর জগন্নাথ কলেজে ভর্তি হন। তার পিতা নূরুজ্জামান ছিলেন একজন নামকরা উকিল এবং শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের সঙ্গে রাজনীতি করতেন। মাতা নুরুন্নেসা বেগম। পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে শামসুজ্জামান ছিলেন বড়।

হাসির ছলে কূটচালে মানুষের ক্ষতি করতে সিনেমার পর্দায় এটিএমথর জুড়ি মেলা ভার। তার চরিত্রগুলো চিত্রনাট্যে সেভাবেই লেখা হতো। দীর্ঘ একটা সময় খল চরিত্রে সিনেমা নির্মাতাদের কাছে সেরা ভরসা হিসেবে ছিলেন তিনি।

পরে তিনি ঝুঁকে পড়েন কৌতুক প্রধান চরিত্রের অভিনয়ে। বেশরিভাগ সময়ই তাকে দেখা যেতে লাগলো হাস্যরসের সংলাপে। ধীরে ধীরে তিনি কমেডি চরিত্রে দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেন ।

সিনেমার পাশা-পাশি টিভি নাটক ও টেলিফিল্মেও নতুন করে সারা দেশের মানুষকে বিনোদিত করতে শুরু করেন এটিএম শামসুজ্জামান। চলচ্চিত্র ‘টক ঝাল মিষ্টিথ, ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদথ, ‘জামাই শ্বশুরথ, ‘মোল্লাবাড়ির বউথ, নাটক ‘পত্র মিতালীথসহ অনেক অভিনয় কর্মই  তার জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে আছে।

১৯৬১ সালে পরিচালক উদয়ন চৌধুরীর বিষকন্যা চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালক হিসেবে প্রথম কাহিনী ও চিত্রনাট্য লিখেছেন ‘জলছবিথ চলচ্চিত্রের জন্য। ছবির পরিচালক ছিলেন নারায়ণ ঘোষ মিতা, এ ছবির মাধ্যমেই অভিনেতা ফারুকের চলচ্চিত্রে অভিষেক। এ পর্যন্ত শতাধিক চিত্রনাট্য ও কাহিনী লিখেছেন তিনি।

অভিনেতা হিসেবে সিনে পর্দায় তার আগমন ১৯৬৫ সালের দিকে। ১৯৭৬ সালে চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনের ‘নয়নমণিথ চলচ্চিত্রে খলনায়কের চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে আলোচনা আসেন এটিএম শামসুজ্জামান।

১৯৮৭ সালে কাজী হায়াত পরিচালিত ‘দায়ী কেথ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে পেয়েছিলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার । তিনি রেদওয়ান রনি পরিচালিত ‘চোরাবালিথতে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব-চরিত্রে অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিলেন।

সহকারী পরিচালক হিসেবে ১৯৬১ সালে পরিচালক উদয়ন চৌধূরির ‘বিষকন্যাথ চলচ্চিত্রে কাজ করেন। এরপর খান আতাউর রহমান, কাজী জহির, সুভাষ দত্তদের সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন। তবে শাবনূর-রিয়াজ জুটিকে নিয়ে ২০০৯ সালে প্রথম পরিচালনা করেন ‘এবাদতথ নামের একটি ছবি।

অভিনয়-নির্মাতার পাশা-পাশি একজন লেখক হিসেবেও এটিএম শামসুজ্জামানও নন্দিত। কাহিনীকার হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। একুশে পদক ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান গল্প, কবিতা লেখারও চর্চা করেগেছেন নিরবে  নিভৃতে।

অভিনয় জীবনের শুরুটা ষাটের দশকে টিভি নাটকে অংশগ্রহণের  মধ্যদিয়ে। তার উল্লেখযোগ্য টিভি নাটকসমূহ – রঙের মানুষ, ভবের হাট, ঘর কুটুম, বউ চুরি, নোয়াশাল, শতবর্ষে দাদাজান।

এছাড়া তার উল্লেখ যোগ্য সিনেমাগুলোর মধ্যে-মলুয়া, বড় বউ, অবুঝ মন, ওরা ১১ জন, শ্লোগান, স্বপ্ন দিয়ে ঘেরা, সংগ্রাম, ভুল যখন ভাঙ্গলো, চোখের জলে, লাঠিয়াল, অভাগী, নয়নমনি, যাদুর বাঁশি, গোলাপী এখন ট্রেনে, অশিক্ষিত, সূর্য দীঘল বাড়ী, ছুটির ঘণ্টা, লাল কাজল, পুরস্কার, প্রিন্সেস টিনা খান, রামের সুমতি, ঢাকা ৮৬, দায়ী কে?, রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত, দোলনা, পদ্মা মেঘনা যমুনা, অজান্তে, স্বপ্নের নায়ক, তোমার জন্য পাগল, ম্যাডাম ফুলি, চুড়িওয়ালা, শ্বশুরবাড়ী জিন্দাবাদ, জামাই শ্বশুর, আধিয়ার, শাস্তি, মোল্লা বাড়ির বউ, হাজার বছর ধরে, আমার স্বপ্ন তুমি, দাদীমা, আয়না, ডাক্তার বাড়ী, চাঁদের মতো বউ, মন বসেনা পড়ার টেবিলে, এবাদাত এবং বিশ্বাসসহ অসংখ্য ছবি।

২০ ফেব্রুয়ারী শনিবার সকালে বরেণ্য অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান পাড়ি জমালেন না ফেরার দেশে। তিনি সূত্রাপুরের নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মেয়ে কোয়েল আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।