৬ ফিলিস্তিনি বন্দি পালালেন ইসরাইলি কারারক্ষীদের ঘুমের সুযোগে

Desk Reporter
Desk Reporter
প্রকাশিত: ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরাইলের সবচেয়ে নিরাপদ ও সুরক্ষিতকারাগার গিলবোয়া থেকে পালিয়েছে ছয় ফিলিস্তিনি বন্দি; স্থানীয় সময় রবিবার মধ্যরাতে তারা পালাতে সক্ষম হয়। আল জাজিরা থেকে খবর।

ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী বলছে, পলাতক ছয়জনের মধ্যে চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের একজন জাকারিয়া জুবাইদি (৪৬)। তিনি ফাতাহ আন্দোলনের শীর্ষ নেতা। অন্য পাঁচজন ফিলিস্তিনি ইসলামী জিহাদের সদস্য।

বিষয়টিকে ইসরায়েলি নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার জন্য দায়ী করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মধ্যে তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে।

কেননা জেনিন শহরে অবস্থিত এই কারাগারটিকে ইসরাইলের ‘সিন্দুক’ বলা হয়। যেখান থেকে বন্দীদের পালানো অসম্ভব বলে মনে করা হয়।

ইসরায়েলি প্রশাসন এখনও ছয় ফিলিস্তিনি বন্দীর পালানোর ঘটনায় হতবাক।

ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর প্রাথমিক তদন্তে বলা হয়েছে, কারারক্ষীরা তাদের দায়িত্ব পালন না করেই ঘুমিয়ে ছিলেন। সেই সুযোগে ৬ বন্দি পালিয়ে যায়।

আল জাজিরা জানিয়েছে, কারাগারের ভেতরে টয়লেট দিয়ে বন্দীরা একটি সুড়ঙ্গ খনন করে। কয়েক মাসের চেষ্টার পর খোঁড়া টানেলটি কারাগারের দেয়ালের বাইরে পর্যন্ত প্রসারিত করেছিলেন । টানেলের প্রবেশদ্বারের কাছে ওয়াচ টাওয়ারের নিরাপত্তারক্ষীরা রবিবার মধ্যরাতে ঘুমিয়ে ছিলেন।

সেই সুযোগে, ছয়জন বন্দী নির্বিঘ্নে অক্ষত অবস্থায় পালিয়ে দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়। শুধু ওয়াচ টাওয়ারের নিরাপত্তারক্ষীরা নয়, কারা নিয়ন্ত্রণ কক্ষের নিরাপত্তারক্ষীরাও একই সময়ে ঘুমাচ্ছিলেন।

কারণ ছয়জন ফিলিস্তিনির পালানোর পুরো ঘটনা সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে। কিন্তু নিরাপত্তা কর্মীরা খেয়াল করেনি।

তদন্তকারীরা বলছেন, ওয়াচ টাওয়ার এবং কন্ট্রোল রুমের নিরাপত্তারক্ষীরা একসঙ্গে ঘুমিয়েছিলেন তা সন্দেহজনক।

বন্দীরা পালিয়ে যাওয়ার পর, তারা দেখেছিল যে কিছু কৃষক খুব ভোরে কারাগারের পাশের মাঠে কাজ করতে ছুটে আসা কৃষকরা কয়েকজনকে দ্রুতগতিতে দৌড়ে পালিয়ে যেতে দেখেন।

যখন কৃষকরা এসে জেল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালেন, তখন তারা বন্দীদের সংখ্যা ছয়জন কম বলে গণনা করলেন।