টুইন টাওয়ারে হামলার ২০ বছর: সেদিন কী ঘটেছিল?

Desk Reporter
Desk Reporter
প্রকাশিত: ২:৩৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২১

অনলাইন ডেস্ক: টুইন টাওয়ারে হামলা ২০ বছর: সেদিন কী ঘটেছিল? আজ আমেরিকার নিউইয়র্কে টুইন টাওয়ার হামলার ২০ বছর । ২০ বছর আগে ২০০১-সালের-১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকায় ৪-টি যাত্রীবাহী জেট বিমান ছিনতাই করে সেগুলো দিয়েই আঘাত হানা হয়েছিল নিউইয়র্কের দুটি আকাশচুম্বী ভবনে, যে ঘটনায় কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়। যাদের মধ্যে অন্তত-৭জন ছিলেন বাংলাদেশি।

ছিনতাইকারীরা ছোট ছোট দলে বিভক্ত পূর্ব আমেরিকার আকাশপথে দিয়ে ওড়া ৪-টি বিমান একসাথে ছিনতাই করে। তারপর ওই বিমানগুলি তারা ব্যবহার করে নিউইয়র্ক আর ওয়াশিংটনের গুরুত্বপূর্ণ ভবনেই আঘাত হানার জন্য বিশাল এবং নিয়ন্ত্রিত ক্ষেপণাস্ত্র হিসাবে। দুটি বিমান বিধ্বস্ত করা হয় নিউইয়র্কে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ার ভবনে। আর প্রথম বিমানটি আঘাত হানে নর্থ টাওয়ারে আমেরিকার পূর্বাঞ্চলীয় সময় সকাল ৮টা ৪৬ মি:। দ্বিতীয় বিমানটি বিধ্বস্ত করা হয় সাউথ টাওয়ারে ।এর অল্পক্ষণ পর, সকাল-৯টা ৩ মি: আগুন ধরে যায় দুটি ভবনেই। ভবন দুটির উপরতলায় মানুষজন আটকা পড়ে যায়। আর শহরের আকাশে ছড়িয়ে পড়ে ধোঁয়ার কুণ্ডলী। দুটি টাওয়ার ভবনই ছিল-১১০ তলা বিশিষ্ট।

মাত্র দু-ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি ভবনই বিশাল ধুলি কণার ঝড় তুলে মাটিতে আছড়ে গুঁড়িয়ে পড়ে।আর তৃতীয় বিমানটি পেন্টাগনের সদর দপ্তরের পশ্চিম অংশে আঘাত হানে স্থানীয় সময় সকাল ৯টা-৩৭ মি:। রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি’র উপকণ্ঠে ছিল আমেরিকান প্রতিরক্ষা বিভাগের বিশাল এ সদর দপ্তর পেন্টাগন ভবন। এরপর,সকাল-১০টা-৩ মি: চতুর্থ বিমানটি আছড়ে পড়েন পেনসিলভেনিয়ার একটি মাঠে। ছিনতাই হওয়া চতুর্থ বিমানের যাত্রীরা সব যখন  ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান,এর পর সেটি পেনসিলভেনিয়ায় বিধ্বস্ত হয়। ধারণা করা হয় যে, ছিনতাইকারীরা চতুর্থ বিমানটি দিয়ে ওয়াশিংটন ডিসিতে ক্যাপিটল ভবনের ওপর আঘাত হানতে চেয়েছিলেন।

কত মানুষ মারা গিয়েছিল?

এসব হামলায় সব মিলে মারা গিয়েছিল-২,৯৭৭ জন। এ হিসাবের মধ্যে-১৯ জন ছিনতাইকারী অন্তর্ভুক্ত নেই। নিহতদের বেশিরভাগ লোকই ছিল নিউইয়র্কের । ৪-টি বিমানের-২৪৬ জন যাত্রী এবং ক্রুর প্রত্যেকেই মারা যান। টুইন টাওয়ারের দুটি ভবনে মারা যান-২,৬০৬ জন -তাৎক্ষণিক ও পরে আঘাত থেকে-। পেন্টাগনের হামলায় প্রাণ হারান-১২৫ জন। সর্বকনিষ্ঠ নিহতের বয়স ছিল মাত্র দু’বছর। নাম ক্রিস্টিন লি হ্যানসন। তার বাবা মায়ের সাথে সে একটি বিমানের যাত্রী ছিল। নিহত সর্ব জ্যেষ্ঠ ব্যক্তির নাম রবার্ট নর্টন। যার বয়স ছিল-৮২। প্রথম বিমানটি যখন ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে আঘাত করেন, তখন ভেতরে আনুমানিক-১৭ হাজার ৪শ জন লোক ছিল।

নর্থ টাওয়ারের যে অংশে বিমানটি আঘাত করে, তার উপরের কোন তলার মানুষই প্রাণে বাঁচেননি। তবে সাউথ টাওয়ারের যেখানে বিমান আঘাত করে, তার উপরের অংশ থেকে-১৮ জন প্রাণ নিয়ে বেরুতে পেরেছিল। হতাহতদের মধ্যে- ৭৭টি ভিন্ন ভিন্ন দেশের মানুষ ছিলেন। নিউইয়র্ক শহরে যারা প্রথম ঘটনাস্থলে জরুরী অবস্থা মোকাবেলায় দৌঁড়ে যান, তাদের মধ্যে মারা যান- ৪৪১ জন। আর হাজার হাজার মানুষ আহত হন, যারা পরে নানানধরনের অসুস্থতার শিকার হন। যেমন দমকলকর্মীদের অনেকেই বিষাক্ত বর্জ্যের মধ্যে কাজ করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

উগ্র মতাদর্শের ইসলামীপন্থী সংগঠন আল-কায়দা আফগানিস্তান থেকে এ হামলার পরিকল্পনা করেছিল। আর ওসামা বিন লাদেনের নেতৃত্বাধীন এ গোষ্ঠী মুসলিম বিশ্বে সংঘাত সৃষ্টির জন্য দায়ী করেছিল আমেরিকা এবং তার মিত্র দেশগুলোকে।

ছিনতাইকারী ছিল মোট-১৯ জন। এদের মধ্যে ৩-টি দলে ছিল ৫-জন করে, যারা বিমান হামলা চালায় টুইন টাওয়ার ও পেন্টাগনে। আর যে বিমানটি পেনসিলভেনিয়ায় ভেঙ্গে পড়ে, তাতে ছিনতাইকারী দলে ছিল ৪জন। প্রত্যেক দলে ১ জন ছিনতাইকারীর বিমানচালক হিসাবে প্রশিক্ষণ ছিল। এ ছিনতাইকারীরা তাদের পাইলটের ট্রেনিং নেন খোদ আমেরিকার ফ্লাইং স্কুলে। পনের জন ছিনতাইকারী ছিলেন সৌদি-ওসামা বিন লাদেনের মত। দুইজন সংযুক্ত আরব আমিরাতের-১জন মিশরের এবং ১জন লেবাননের।

আমেরিকার প্রতিক্রিয়া:

ওই হামলার ১ মাসেরও কম সময় পর প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশ আফগানিস্তান আক্রমণ করেন আল-কায়দাকে নিশ্চিহ্ন করতে আর ওসামা বিন লাদেনকে খুঁজে বের করতে। আমেরিকার নেতৃত্বাধীন এ অভিযানে যোগ দেন আন্তর্জাতিক মিত্র জোট। আর যুদ্ধ শুরুর কয়েক বছর পর ২০১১-সালে মার্কিন সৈন্যরা অবশেষে ওসামা বিন লাদেনকে খুঁজে পায় প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানে এবং তাকে হত্যাও করে। নাইন ইলেভেন হামলার অভিযুক্ত পরিকল্পনাকারী, খালিদ শেখ মোহাম্মদকে পাকিস্তানে গ্রেপ্তারও করা হয় ২০০৩ সালে। এর পর থেকে তাকে গুয়ান্তানামো বে’র বন্দীশিবিরে আমেরিকার তত্ত্বাবধানে আটক রাখা হয়। বিচারের অপেক্ষায় তিনি এখনও আছেন।

নাইন ইলেভনের পর:১১ সেপ্টেম্বরের ওই হামলার পর থেকে বিশ্বব্যাপী বিমান ভ্রমণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নিউইয়র্কে হামলার স্থান-যেখানে টুইন টাওয়ার বিধ্বস্ত হয়েছিল-সেই ‘গ্রাউন্ড জিরো’র ধ্বংসস্তুপ পরিষ্কার করতে লেগেছিল ৮ মাসেরও সময় বেশি।আর  ওই স্থানে এখন তৈরী হয়েছে একটি যাদুঘর ও একটি স্মৃতিসৌধ। ভবনগুলো আবার নির্মিত হয়েছে, তবে ভিন্ন এক নকশায়। সেখানে মধ্যমণি হিসাবে নির্মিত হয়েছে ওয়ান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার বা -ফ্রিডম টাওয়ার- যা কিনা  উচ্চতায় আগের নর্থ টাওয়ারের চেয়েও বেশি। নর্থ টাওয়ারের উচ্চতা ছিল-১,৩৬৮-ফুট আর নতুন ফ্রিডম টাওয়ার এ উচ্চতা-১,৭৭৬ ফুট ।

পেন্টাগন পুনর্নিমাণে সময় লেগেছিল ১ বছরের কিছু কম। ২০০২-সালে অগাস্টের মধ্যেই পেন্টাগনের কর্মচারীরা আবার তারা তাদের কর্মস্থলে ফিরে আসেন।