তুরস্কের নারীরা কোরআন হিফজ করছেন আড়াই মাসে

Desk Reporter
Desk Reporter
প্রকাশিত: ৯:০০ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২১

নিউজ ডেস্ক : তুরস্কের নারীরা কোরআন হিফজ করছেন আড়াই মাসে। তুরস্কে সরকারী উদ্যোগে ব্যাপকভাবে পবিত্র কোরআনুল কারিমের হিফজ প্রচেষ্টা চলছে। আর সে লক্ষে শিশু-কিশোর বয়সী ছেলে এবং মেয়েদের জন্য হিফজের অনেক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।

আর এবার অল্প সময়ে যে কোনো বয়সীদের জন্য হিফজের বিশেষায়িত প্রোগ্রামও চালু হয়েছে।

ইস্তাম্বুলের সাবাহাদ্দিন জেইম ইউনিভার্সিটির ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ বিশেষ পদ্ধতি অনুসরণ করেই মাত্র-৭৫ দিনে পবিত্র কোরআন হিফজের এ গ্রোগ্রাম শুরু করেন। আরবী সংগীতের বিশেষ ‘মাকামাত’সুর ও সম্মিলিত পাঠরীতি অনুসরণ করে মাত্র আড়াই মাসেই পুরো কোরআন শরীফ মুখস্ত করছেন সেখানকার শিক্ষার্থীরা।

সাধারণ শিশু-কিশোরদের-৩০ পারা বিশিষ্ট প্রায় ৬শ পৃষ্ঠার এ মহা গ্রন্থ মুখস্ত করতে ২-৩ বছর সময় লাগে। অবশ্য অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী ১ বছরেই তা মুখস্ত করে ফেলতে পারে। তবে পুরো প্রক্রিয়া অনেক পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের কাজ। আর সবার পক্ষে তা সম্ভবও হয় না।

সাবাহাদ্দিন জেইম ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. উজজান খাদার জানান, ‘এ প্রকল্পে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জড়িত। বিশেষত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সম্পর্ক এবং সচেতনতা এখানে তাৎপর্যপূর্ণ। তাই আমরা প্রথমে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্তীদের মাধ্যমে এ প্রকল্প শুরু করেছি। আরবী সংগীতে ব্যবহৃত ঐতিহ্যবাহী মাকাম সুর ধরে ও সম্মিলিত পাঠরীতি অনুসরণ করে শিক্ষার্থী পবিত্র কোরআন হিফজ করেন প্রথমে শিক্ষার্থী প্রতিদিন-১০ পৃষ্ঠা হিফজ করেন। মাস শেষে তা পুনরাবৃত্তি করে শোনান। ’

অধ্যাপক খাদার জানান, ‘তুরস্কসহ বিশ্বে প্রচলিত রীতি অনুসারে কম বয়সীরা একটি দীর্ঘ সময় ব্যয় করে পবিত্র কোরআনুল করিম হিফজ করে থাকেন। ব্যতিক্রমী পদ্ধতি হিসেবে অল্প সময়ে হিফজের এ পদ্ধতি বিশ্বে হয়ত এবারই প্রথম। ’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক কুলসুম আরসালান পবিত্র কোরআনুল কারিমের হিফজের শিক্ষকতা করেন। আর তিনি নতুন এ প্রোগ্রামে যুক্ত হয়ে খুবই উচ্ছ্বসিত। তাই অল্প সময়ের এ প্রকল্পে অবৈতনিক শিক্ষক হিসেবে তিনি অংশ নেন।

আরসালান জানান, ‘সাধারণত প্রতিদিন আমরা-১০ পৃষ্ঠা করে হিফজ করি। স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যেকের এক পৃষ্ঠা মুখস্থ করতে দু-ঘণ্টা সময় লাগে। তবে প্রথম দিকে আমাদের পদ্ধতি অনুসরণ করে এতে ৪৫- মি: সময় লাগত। এরপর এ সময় কমে এখন সময় লাগে মাত্র-২৫ মি:। শিক্ষার্থীদের আমরা সুরের সাথে পরিচিত করাই।আর এতে করে তাঁরা ক্লান্তিহীনভাবেই পড়তে পারেন। তাতে করে তাদের স্মৃতিশক্তি তীক্ষ্ণ হয়। মুখস্থের জন্য দেখার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। পাশা-পাশি শ্রুতিশক্তিও অনেক কার্যকরি। ’

 

আরসালান আররও জানান, ‘যেমন কেউ উচ্চস্বরে কোরআন পড়ে মুখস্থ করেন, যেন এতে শ্রবণশক্তিরও একটা সহায়তা থাকে। আমাদের এখানে-৩৫জন শিক্ষার্থী আছেন। আমিসহ মোট-৩৬জন। যার ফলে আমাদের মেধা বৃদ্ধি ও সুপ্ত প্রতিভার প্রকাশ পায়। মুখস্থ শক্তি অধিক স্থায়িত্ব হয়। আর তাছাড়া সবার আওয়াজ উদ্দীপনা তৈরী করে। আর এতে ক্লাসে নিবিড় পর্যবেক্ষণে পড়ায় তাদের ভুলের সম্ভাবনাও থাকে না। আর তাছাড়া অর্থ বোঝার সুযোগও থাকে। আমার তাই বিশ্বাস করি, ধর্মীয় শিক্ষায় এ পদ্ধতি অবশ্যই ব্যাপক সাফল্য বয়ে আনবে।

অন্যদিকে মাত্র-৩ মাসের কম সময়ে পবিত্র কোরআনুল করিম  হিফজ করায় শিক্ষার্থীদের মাঝেও অনেক আনন্দ ও উচ্ছ্বাস। কোরআনের হিফজে অংশ নেয়া শিক্ষার্থী গামজাহ তাশাকিরদাক উগলু জানান, ‘কোভিড-১৯ এর সময়ে মাত্র ৩ মাস সবচেয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শেখায় ব্যয় করেছি। অথচ করোনা শুরুর পর গত দেড় বছর অহেতুক কাজে ব্যয় করেছি আমরা। এর আগে আমি কল্পনাও করতে পারিনি যে, আমি কোরআন হিফজ করতে পারব। কারণ আমি যা পড়তাম তা আবার ভুলেই যেতাম। এখানে এসে বুঝতে পারি একাধারে বার বার পড়লে তা মনে থাকে। আর শিক্ষক আমাদের বার বার পড়ানোর নিয়ম করে দিয়েছেন। ফলে আমরা ৩ মাসের মধ্যে কোরআন মুখস্থ করতে পারছি। ’

মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সুমাইয়া বালগুন জানান, ‘প্রচলিত নিয়মে কোরআন শরীফ হিফজ করতে একটি দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করতে হয়।আর তাছাড়া এ সময় অন্য বিষয়ে পড়াশোনা করাও যায় না। তাই আমি এ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করি। যাতে করে গ্রীষ্মের ছুটিতে আমার কোরআন হিফজ সম্পন্ন হয়। ’

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি