অবশেষে ভারতের ১০ লক্ষ ভ্যাকসিন অক্টোবরেই পাচ্ছে বাংলাদেশ

Desk Reporter
Desk Reporter
প্রকাশিত: ১:৫৯ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৮, ২০২১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: অবশেষে ভারতের ১০ লক্ষ ভ্যাকসিন  অক্টোবরেই পাচ্ছে বাংলাদেশ।বাংলাদেশে ১০ লক্ষ ডোজ কোভিড-১৯ নোভেল করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন পাঠানোর অনুমতি পেয়েছেন ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট । ভারতীয় সরকারী কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সে দেশের বার্তা সংস্থা পিটিআই জানান, অক্টোবর মাসেই ভারত সরকারের ভ্যাকসিন মৈত্রী কর্মসূচীর আওতায় নেপাল ও মিয়ানমারেও ১০ লক্ষ ডোজ করে ভ্যাকসিন পাঠানোর অনুমতি দেয়া হয়েছে ।

দেশটির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের একজন উর্ধতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অক্টোবর মাসেই ‘ভ্যাকসিন মৈত্রী’ কর্মসূচীর আওতায় সেরাম ইনস্টিটিউট  মিয়ানমার, নেপাল এবং বাংলাদেশে কোভিশিল্ডের-১০ লক্ষ ডোজ ভ্যাকসিন  রপ্তানী করবে।

এছাড়াও ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরী ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিন ভ্যাকসিনের ১০ লক্ষ ডোজ ইরানে পাঠানো হবে।অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরী করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন পুনের প্ল্যান্টে উৎপাদন করে কোভিশিল্ড নামে বাজারজাত করছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী কোম্পানী সেরাম ইনস্টিটিউট।

এর আগে-২০ সেপ্টেম্বর ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছিল, অক্টোবর থেকেই তাদের উদ্বৃত্ত ভ্যাকসিন রপ্তানী আবারও শুরু করতে চায় ভারত।

ওই সময় ভ্যাকসিন রপ্তানী প্রসঙ্গে মান্দাভিয় জানায়, ‘ভ্যাকসিন মৈত্রী’ প্রকল্পের আওতায় এবং কোভ্যাক্সের বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতি পূরণে ভ্যাসিন রপ্তানী শুরু করবে ভারত।

তিনি আরও জানান,এটি আমাদের ‘বাসুদৈব কুটুম্বকম’ (সংস্কৃত এ শব্দের অর্থ পৃথিবী এক পরিবার)  আর এর নীতিমালার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, করোনা মহামারির বিরুদ্ধে যৌথ লড়াইয়ের জন্য বিশ্বের প্রতি ভারতের প্রতিশ্রুতি পূরণে এ রপ্তানী শুরু হবে।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারীর দেশ ভারত। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের তথ্যানুসারে যায়ী, ভারত এখন পর্যন্ত-৯০টিরও বেশি দেশে-৬ দশমিক-৬ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন রপ্তানী করেছে।

এছাড়াও চলতি বছর ডিসেম্বরের মধ্যেই-৯৪ কোটিরও বেশি মানুষকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েআছে ভারত সরকারের। এ পর্যন্ত দেশটি- ৬১ শতাংশ মানুষ অন্তত-১ ডোজ ভ্যাকসিনের আওতায় এসেছে।

ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের নিকট থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ৩ কোটি ডোজ করোনা ভাইরাসের টিকা ‘কোভিশিল্ড’ কিনতে গেল বছরের নভেম্বরে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি করে বাংলাদেশ। এরপর জানুয়ারীতে ৬০০ কোটি টাকার বেশি অগ্রিম হিসেবে দেয় সরকার, যা টিকার মোট দামের অর্ধেক।

চুক্তি অনুযায়ী প্রতি মাসে-৫০ লক্ষ ডোজ টিকা আসার কথা ছিল। -গত ২৫ জানুয়ারী প্রথম চালানে-৫০ লক্ষ  ডোজ এবং ২৩ ফেব্রুয়ারী দ্বিতীয় চালানে২০ লক্ষ ডোজ টিকা আসে বাংলাদেশে।

পাশা-পাশি ভারত সরকারের উপহার হিসেবে-২১ জানুয়ারী আরও ২০ লক্ষ ডোজ এবং ২৬ মার্চ ১২ লক্ষ ডোজ কোভিশিল্ড পেয়েছে বাংলাদেশ। মার্চে ভারতে করোনা ভ্যারাস মহামারি চরম আকার ধারণ করলে সেদেশের সরকার ভ্যাকসিন রপ্তানীতে নিষেধাজ্ঞা দেয়।

ফলে সঙ্কটে পড়ে বাংলাদেশ। পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন না থাকায় ২৫ এপ্রিল দেশে প্রথম ডোজ দেওয়া বন্ধ করে দিতে হয়। এক পর্যায়ে দ্বিতীয় ডোজ দেয়াও বন্ধ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত চীন থেকে সিনোফার্মের ভ্যাকসিন কেনার জন্য সরকার চুক্তিও করে।

সেই ভ্যাকসিনের পাশা-পাশি টিকার আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম কোভ্যাক্স থেকেও ভ্যাকসিন আসছে এখন। সে টিকা দিয়েই এখন আবার সারা দেশে টিকাদান কর্মসূচী চলছে।

গেল জুলাই মাসে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী বলেছেন,ভারতে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে তবে দ্রুত বাড়ছে ভ্যাকসিন উৎপাদন । আশা করছি খুব শীঘ্রই চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশকে ভারতীয় ভ্যাকসিন সরবরাহ করতে পারব।