চিরবিদায় নিলেন বলিউড ডিস্কো কিং বাপ্পি লাহিড়ী

Desk Reporter
Desk Reporter
প্রকাশিত: ২:২৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২২

গত শতাব্দীর আশি ও নব্বইয়ের দশকে ভারতে ডিস্কো সঙ্গীতকে শীর্ষে নিয়ে আসা গায়ক-গীতিকার বাপ্পি লাহিড়ী আর নেই।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, মঙ্গলবার মধ্যরাতে মুম্বাইয়ের জুহুর একটি বেসরকারি হাসপাতালে বাপ্পি লাহিড়ীর মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর।

গানের জগতে একের পর এক তারকা পতনে স্তব্ধ ভারত। ৬ ফেব্রুয়ারি লতা মঙ্গেশকরের পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রয়াত মুখার্জি।

এক মাসের বেশি সময় হাসপাতালে থাকার পর গত সোমবার দেশে ফিরেন বাপ্পি। কিন্তু আবারও তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসককে জানান। পরে তাকে মুম্বাইয়ের ক্রিটিশিয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. দীপক নামজোশি পিটিআইকে বলেন, “তার অনেক শারীরিক জটিলতা ছিল। তিনি ওএসএ বা অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ায় মারা গেছেন। ”

আনন্দবাজার লিখেন, গত বছরের এপ্রিলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন বাপ্পি লাহিড়ী। এ সময় তাকে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিছুদিন পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে আসেন।

বাপ্পী লাহিড়ী ১৯ বছর বয়সে চলচ্চিত্রে একজন সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে আবির্ভূত হন। তিনি ১৯৭৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘নান্না শিকারী’ চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালনা করেন। তৎকালীন বোম্বে (বর্তমানে মুম্বাই) চলচ্চিত্র শিল্পে তার কর্মজীবন ১৯৭০ এর দশকের শেষের দিকে শীর্ষে পৌঁছেছিল। , এবং এটি ১৯৮০ এবং ৯০ এর দশকে বাড়তে থাকে।

তিনি তৎকালীন হিন্দি ও বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় এবং সফল সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন। সিনেমা পাড়ার সবাই তাকে আদর করে ডাকতো ‘বাপিদা’।

একের পর এক সুপারহিট গান উপহার দিয়েছেন ভারতীয় সঙ্গীতের ডিস্কো কিং। তিনি ‘ডিস্কো ডান্সার’, ‘ডান্স ড্যান্স’, ‘হিম্মতওয়ালা’, ‘চলতে চলতে’, ‘শরাবি’, ‘সত্যমেব জয়তে’, ‘কমান্ডো’, ‘শোলা অর শবনম’-এর মতো হিন্দি সিনেমায় সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন।

এছাড়াও তিনি কলকাতার চলচ্চিত্র ‘আমার সঙ্গী’, ‘আশা ও ভালবাসা’, ‘আমার তুমি’, ‘আমার প্রেম’-এর জন্য গান রচনা করেছেন; গেয়েছেন একাধিক গান। ২০২০ সালে ‘বাগি-৩’ সিনেমার জন্য তার শেষ গান ‘ভানকাস’ গাওয়া হয়েছিল।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আবদুল জব্বারের গাওয়া ‘হাজার বছর পর ফিরে এলাম’ গানটির সুরকার ছিলেন বাপ্পি লাহিড়ী। গানটি লিখেছেন গীতিকার শ্যামল গুপ্ত, যিনি প্রয়াত সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের স্বামী।

বাপ্পি লাহিড়ীর জন্ম ১৯৫২ সালের ২৭ নভেম্বর জলপাইগুড়িতে। আসল নাম অলোকেশ লাহিড়ী। বাবা অপরেশ লাহিড়ী এবং মা বনসারি লাহিড়ী দুজনেই ছিলেন সঙ্গীত জগতের মানুষ। আরেক প্রবাদপ্রতিম ভারতীয় চলচ্চিত্র গায়ক, অভিনেতা কিশোর কুমার ছিলেন তার টুটু মা।

বাপ্পী লাহিড়ী তার পোশাকের সাথে বিভিন্ন সোনার অলঙ্কার পরতে পছন্দ করতেন; তিনি বলতেন, ‘আমার ঈশ্বরের নাম সোনা!’

গানের পাশাপাশি রাজনীতির মাঠেও পা রাখেন তিনি। কিন্তু অভিজ্ঞতা খুব একটা স্বস্তিদায়ক ছিল না। ২০১৪ সালে, তিনি পশ্চিমবঙ্গের শ্রীরামপুরে বিজেপির লোকসভা আসনে তৃণমূলের কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে হেরে যান।

বাপ্পী লাহিড়ীর মৃত্যুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টুইট করে শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম বাপ্পী লাহিড়ীর গান মনে রাখবে। প্রাণবন্ত এই শিল্পীর অনুপস্থিতি সবাই অনুভব করবেন।

ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের শিল্পী ও কলাকুশলীরাও এই জনপ্রিয় সুরের স্রষ্টাকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের তারকারাও তাদের প্রিয় ‘বাপিদা’র মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।