“ধর্মগুরুর”যৌন অপরাধে ১০৭৫ বছর কারাদণ্ড !

CNNWorld24
CNNWorld24 Dhaka
প্রকাশিত: 8:38 PM, January 12, 2021

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ তুরস্কের এক টেলিভিশন উপস্থাপককে যৌন অপরাধের জন্য ১০৭৫ বছরেরও বেশি কারাদন্ডে দন্ডিত করা হয়েছে। তিনি মহিলাদের ‘বিড়ালছানা’ বলে সম্বোধন করতেন। তার নাম আদনান ওকতার। নারী ও শিশুদের উপর যৌন নির্যাতন, গুপ্তচরবৃত্তি ও জালিয়াতির একাধিক অভিযোগে তাকে তুরস্কের একটি ফৌজদারি আদালত এই সাজা দিয়েছে।

বিবিসি সূত্র জানায়, বিতর্কিত তুর্কি প্রচারক ও বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্থের লেখক আদনান ওকতার ওরফে হারুন ইয়াহিয়া টিভিতে ধর্মীয় ইস্যুতে বিতর্কিত বক্তব্য দিতেন। তিনি বিভিন্ন টকশোতে ‘ধর্মীয় মূল্যবোধ’ নিয়েও আলোচনা করেছিলেন। তবে, এই আলোচনায় স্বল্পবাসনা মহিলারা উপস্থিত থাকতেন। যারা সেই সময় চড়া মেক-আপে তার সাথে নাচতেনও। তিনি এই নারীগুলোকে তার পোষা বিড়ালছানা হিসাবেও পরিচয় দিতেন।

২০১৮ সালে, তার বিরুদ্ধে আবারও অপরাধমূলক সংগঠনের নেতৃত্ব দেওয়ার, নারী ও শিশুদের যৌন নির্যাতন করা, অস্ত্র দিয়ে লোকজনকে হুমকি দেওয়া, ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ করা, শিক্ষার অধিকার, নির্যাতন, পাচার, সামরিক গুপ্তচরবৃত্তি, জালিয়াতি এবং প্রতারণার অধিকার থেকে মানুষ বঞ্চিত করার অভিযোগ আনা হয়েছিল।

এরপরে পুলিশ ইস্তাম্বুলে তার বাসা থেকে আদনান ওকতারকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ২৩৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৭৮ জনকে পরে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আদনানও এই অপরাধের কথা স্বীকার করে জানিয়েছে যে তার এক হাজারেরও বেশি গার্ল ফ্রেন্ড রয়েছে। তিনি তাদের সাথে যৌন সম্পর্ক করার কথাও স্বীকার করেন। এরপরে বিচারক তাকে ১০৭৫ বছরের কারাদন্ডে দন্ডিত করেন।

তুরস্কের প্রধান গণমাধ্যম আদানলু জানিয়েছে যে ২০১৬ সালে আমেরিকা-ভিত্তিক একটি সংস্থার সাথে তুরস্কে “ক্যু” চালানোর জন্য ওকতার ব্যর্থ চেষ্টা করেছিল। “আমার এক হাজারেরও বেশি গার্ল ফ্রেন্ড  রয়েছে,” ডিসেম্বর ২০১৯ সালে ওকতার প্রিজাইডিং জজকে বলেছিলেন। আমি বিশেষভাবে যোগ্য আমি মনে করি কারণ নারীদের জন্য আমার মনে একটি বিশেষ জায়গা আছে।

১৯৯০ সালে, ওকতারের বিরুদ্ধে প্রথমে তার কাল্টসহ যৌন অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল। ডারউইনের বিবর্তন তত্ত্বের সমালোচনা করে তিনি ৭৭০ পৃষ্ঠার একটি বই লিখেছিলেন। বইটির নাম ‘দ্য এটলাস অফ ক্রিয়েশন’। তবে তিনি হারুন ‘ইয়াহিয়া’ নামে বইটি লিখেছেন। পুলিশ তার আস্তাবল থেকে ৬৯ হাজার গর্ভনিরোধক পিল উদ্ধার করেছে। তবে তিনি দাবি করেছেন যে এগুলো চর্মরোগ সংক্রান্ত মেয়েদের ঋতুস্রাব নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যবহৃত হয়।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান