১৬ মাস পরপর সরকার পরিবর্তন ইতালিতে

CNNWorld24
CNNWorld24 Dhaka
প্রকাশিত: 4:59 AM, February 2, 2021

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইতালির চিরচেনা রূপ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা। গেল ২৬ জানুয়ারি পদত্যাগ করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জুসেপ্পে কন্তে।

গেল দুই বছরে দেশটিতে এই নিয়ে  দুবার সরকার পরিবর্তন হলো। গেল ৩০ বছরে ইতালিতে ২০ টি সরকার ও ১৩ জন প্রধানমন্ত্রী দেখেছে ইতালির জনগণ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এখন পর্যন্ত ইতালিতে সরকার পরিবর্তন হয়েছে ৬৬ বার।

ঘন ঘন সরকার পরিবর্তন ইতালির রাজনৈতিক সংস্কৃতি হয়ে উঠেছে। এতে করে ইতালির বিকাশমান অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করেন বিশ্ব অর্থনীতির বিভিন্ন বিভাগ।

অপরদিকে গেল ৩০ বছরের মধ্যে পশ্চিম ইউরোপের দেশ স্পেন ,সুইডেন ও ফ্রান্সে সরকার প্রধান ছিলেন ৫ জন করে এবং জার্মানিতে সরকার প্রধান ছিলেন মাত্র ৩ জন। এই পরিসংখ্যান হতাশ করে দেয় ইতালিতে বসবাসকারী প্রতিটি মানুষকে।

২০১৮ সালের মার্চের সাধারণ নির্বাচনের পর ৫ স্টার পার্টি ও লেগ্গা নর্থ মিলিতভাবে সরকার গঠন করেন। পরের বছর লেগ্গা নর্থ সরকার থেকে তাদের সমর্থন প্রত্যাহার করে নেন।

জুসেপ্পে কন্তে পদত্যাগ করেন। কিন্তু ২ সপ্তাহের মাথায় ২০১৯ এর আগস্টে তিনি আবারও সরকার গঠন করতে সক্ষম হন। কিন্তু গত ২৬ জানুয়ারি জুসেপ্পে কন্তে আবার পদত্যাগ করে সরকার ভেঙ্গে দেন। এখন আবার ৩য় বার সরকার গঠন করতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন জুসেপ্পে কন্তে।

সদ্য পদত্যাগী প্রধানমন্ত্রী জুসেপ্পে কন্তে ইতালির ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্থান করে নিয়েছেন। ইতিমধ্যে বিভিন্ন জরিপে তা উঠে এসেছে। করোনাকালে তার সেবা প্রদান ছিল স্মরণ রাখার মতো। প্রবাসী বাংলাদেশীরাও চায় জুসেপ্পে কন্তে আবারও সরকার গঠন করবেন।

ইতালির রাজনীতি সবসময় অত্যন্ত অস্থির প্রকৃতির। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে এখন পর্যন্ত ইতালিতে ৬৬ টি সরকার পরিবর্তন হয়েছে। হাতেগোনা দুয়েকটি সরকার মেয়াদ পূর্ণ করতে সক্ষম হয়েছে। গড়ে ১৬ মাসে ইতালিতে একটি করে সরকার পরিবর্তন হয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে। এই অস্থিতিশীলতা, বারবার রাজনৈতিক পালা বদলে অতিষ্ঠ ইতালির সাধারণ মানুষ এবং বিচলিত প্রবাসী বাংলাদেশিরাও।