অস্ট্রেলিয়ার স্কুল মাঠে উল্কাপিণ্ড, মজার তথ্য উঠে এল NASA-র তদন্তে!

CNNWorld24
CNNWorld24 Dhaka
প্রকাশিত: 7:59 AM, February 4, 2021

উত্তর ক্যুইনসল্যান্ডের মাঠে উল্কাপাতের খবরটি হু-হু করে ছড়িয়ে পড়ে।আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মানুষজনের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয় এবং সেখানে পৌঁছায় পুলিশ।

অস্ট্রেলিয়া : অস্ট্রেলিয়ার উত্তর ক্যুইনসল্যান্ড। এখানকারই একটি স্কুলের মাঠে দেখা মিলে উল্কাপিণ্ডের। মাঠের সবুজ ঘাস চিরে বেশ কিছু দূর এগিয়েও গিয়েছে সেই জ্বলন্ত উল্কাপিণ্ড।আশপাশের ঘাসগুলি পুড়ে গিয়েছে। একটু দূরে একটি গর্ত আর দু’-তিনটি কালো রঙের পোড়া পাথরের মতো জিনিস। অল্প ধোঁয়াও রয়েছে। মুহূর্তের মধ্যে আশপাশের শহরে ছড়িয়ে পড়ে খবরটা। স্কুলের মাঠে উল্কাপিণ্ড! সব কিছু ঠিক আছে তো? সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতে শুরু করে ঘটনার ছবি।

স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থানে পৌঁছান। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য তোড়জোড় শুরু করে দেন বিজ্ঞানীদের একাংশ। কিন্তু তার পর আসল বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। যা সত্যিই হতাশ করে দেয় মহাকাশ-বিজ্ঞানীদের। আসলে সেটি উল্কা ছিল না। তাহলে কী ছিল? একবার বিশদে জেনে নেওয়া যাক!

উত্তর ক্যুইনসল্যান্ডের মাঠে উল্কাপাতের খবরটি হু-হু করে ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মানুষজনের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। পুলিশ পৌঁছায়। এমনকি সোমবার মহাকাশ সংস্থা NASA-র তরফেও অস্ট্রেলিয়ার ওই স্কুলকে রিপোর্ট দিতে বলা হয়। কিন্তু আসল ঘটনা জানার পর সবাই রীতিমতো হতবাক হন। আসলে এটি আর কিছুই নয়, স্কুলের প্রোজেক্ট মাত্র। স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরাই মাঠে এই কৃত্রিম উল্কাপাতের দৃশ্য তৈরি করেছিল!

এ নিয়ে পরের দিকে অস্ট্রেলিয়ান ক্রাশ ইনভেস্টিগেশন ইউনিটের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজেও একটি পোস্ট করা হয়। সেখানে এই উল্কাপাতের ছবিও শেয়ার করা হয়। আর কয়েকঘণ্টার মধ্যেই লাইক আর কমেন্টের ঝড় ওঠে। তবে ততক্ষণে অনেকে সত্যিটা জেনে গিয়েছেন। তাই নানা ধরনের মজার কমেন্টও দেখা গিয়েছে। এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, খুদেদের প্রচেষ্টা দারুণ। তবে আশপাশের লোকজনের জাজমেন্ট অত্যন্ত খারাপ।

এই বিষয়ে 7NEWS-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মালান্দা স্টেট স্কুলের প্রিন্সিপাল জানান, গোটা বিশ্ব থেকে একের পর এক প্রশ্ন আসতে শুরু করে। উল্কা পড়ার খবর শুনে NASA-র তরফেও রিপোর্ট চাওয়া হয়। আদতে ওখানে কোনও উল্কা নেই। স্কুলের জার্নালিজমের ছাত্র-ছাত্রীদের উল্কাপাত নিয়ে একটি প্রোজেক্ট করতে বলা হয়েছিল। এটা সেই অ্যাসাইনমেন্টেরই অংশ।এতে পুলিশকেও অংশ নেওয়ার জন্য বলা হয়েছিল। আসলে ছাত্র-ছাত্রীদের উল্কাপাতের বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।

তবে এই সামান্য বিষয় নিয়ে যা হল, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য! আসলে কাউকে না জানিয়েই কেউ একজন সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে দেয় ছবিটি। আর তার জেরেই শুরু হয় এত কাণ্ড!