গুলিবিদ্ধ মেজর সিনহা পানি পানি বলে কাতরালেও পুলিশ দেয়নি

Desk Reporter
Desk Reporter
প্রকাশিত: ৭:৫৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২১
 কক্সবাজারে পুলিশের গুলিতে নিহত সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। ফাইল ফটো

অনলাইন ডেস্ক: ঘটনাস্থলের কাছে বায়তুল নূর জামে মসজিদের ইমাম হাফিজ শহিদুল ইসলাম বুধবার অবসরপ্রাপ্ত সেনা মেজর সিনহা মুহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার দ্বিতীয় পর্বের চতুর্থ দিনে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

হাফিজ শহিদুল ইসলাম আদালতকে বলেন, “পুলিশ চেকপোস্টে, বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের আইসি লিয়াকত অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহাকে তার গাড়ি থেকে নামতে বলেন। তিনি নামার সাথে সাথে পরপর দুই রাউন্ড গুলি চালান। এই সময়ে সিনহা নিচে পড়ে যান এবং পানি পানি করে কাতরাতে থাকেন।

শহিদুল ইসলাম বলেন, “কিছুক্ষণ পর ওসি প্রদীপ ঘটনাস্থলে আসেন। সেই সময় ওসি প্রদীপ আসামি লিয়াকত এবং নন্দ দুলালের সাথে কানে কানে কথা বলেন। পরে গুলিবিদ্ধ সিনহার পাঁজরে লাথি মেরে গালিগালাজ করে। পরে, ওসি প্রদীপ মোবাইল ফোনে কারও সাথে কথা বলেছিল এবং বলেছিল, “আমি এখন কি করব আমি লাশ ফেলে দিয়েছি” তিনি পরে সিনহার লাশ একটি ময়লার আবর্জনার গাড়িতে ফেলে দেন।

শহিদুল ইসলাম তার জবানবন্দিতে আরও বলেন,গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত অবস্থায় মেজর সিনহা সাহায্য চাইলেও পুলিশ সাহায্য করেনি।

ইমাম শহীদুল ইসলাম আদালতকে বলেন, তিনি মসজিদের ছাদ থেকে ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছেন।

তৃতীয় দফায় বাকি সাক্ষীদের সাক্ষ্য আগামী ২০, ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর শুরু হবে। মামলায় আরও ৭৭ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হবে।

দুপুর সোয়া দুইটায় আদালত থেকে বের হওয়ার পর বাদীর আইনজীবী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, ঘটনাস্থলের কাছে বায়তুল নূর জামে মসজিদের ইমাম শহীদুল ইসলামের সাক্ষ্য দিয়ে দ্বিতীয় দফার চতুর্থ দিন বুধবার সাক্ষ্য শেষ হয়েছে।

আইনজীবী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, আজ দ্বিতীয় দফার সাক্ষ্যগ্রহণের শেষ দিন। এদিন স্থানীয় মসজিদের ইমাম শহীদুল ইসলাম মসজিদের ছাদ থেকে পুরো ঘটনা আদালতে উপস্থাপন করেন। আমরা এতে সন্তুষ্ট।

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফরিদুল আলম বলেন, আজ সকাল ১০ টায় জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। সাক্ষী ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের সাক্ষ্য শেষ হয় দুপুর আড়াইটার দিকে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী রানা দাস গুপ্ত বলেন, “মসজিদের ছাদ থেকে মেরিন ড্রাইভ সড়কের দূরত্ব অনেক। মাঝখানে অনেক গাছপালা আছে। এই দূরত্ব থেকে কোন ঘটনা স্পষ্টভাবে দেখা যায় না; মূলত অশুভ অপরাধীচক্রের প্ররোচণায় কিছু সাক্ষী মিথ্যা সাক্ষ্য দিচ্ছেন।’

আজ সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে, কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে কারাগার ভ্যানে করে কড়া পুলিশি পাহারায় মামলার ১৫ জন আসামিকে আদালতে আনা হয়।

অবসরপ্রাপ্ত সেনা মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান গত বছরের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন।