বঙ্গবন্ধুর প্রতিটি রাজনৈতিক পদক্ষেপ ছিল সাংবিধানিক

Desk Reporter
Desk Reporter
প্রকাশিত: ১:৪৬ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৯, ২০২১

বঙ্গবন্ধুর প্রতিটি রাজনৈতিক পদক্ষেপ ছিল সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ। ১৯৭৬ সালে তার ছয় দফা ঘোষণা এবং ২৬ মার্চ, ১৯৭১ সালে তার স্বাধীনতার ঘোষণা একটি ত্রুটিহীন আইনি কাঠামোর মধ্যে ছিল।

শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের জাজেস স্পোর্টস কমপ্লেক্সে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এ মন্তব্য করেন।

বঙ্গভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

আইনমন্ত্রী বলেন, ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বাধীন দেশে প্রত্যাবর্তনের পর বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্র পরিচালনার যে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন তাও সাংবিধানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে নেওয়া হয়েছিল।

সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর সংবিধান প্রণয়নের পর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রতিষ্ঠা ছিল বঙ্গবন্ধুর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে। আইনের শাসনের প্রতি বঙ্গবন্ধুর গভীর আস্থা ও পরম শ্রদ্ধা ছিল। আর নতুন রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে তার ছিল নিখুঁত ও দূরদর্শী পরিকল্পনা। এজন্য তিনি একজন রাষ্ট্রনায়ক। সুশৃঙ্খলভাবে সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন বঙ্গবন্ধুর ছিল এবং তিনি এভাবে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠন করে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলেছেন।

তিনি বলেন, বাঙালি জাতির দুর্ভাগ্য, একাত্তরের পরাজিত শক্তি সেই অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরের অধ্যায় ছিল সামরিক শাসনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে হত্যা, রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠা এবং নির্বিচারে সংবিধান লঙ্ঘন। এ অধ্যায়ে মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়া তো দূরের কথা, ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ রুদ্ধ হয়ে গেল। বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারকে হত্যার পর একটি মামলাও না হলেও হত্যাকারীদের বিচার না করতে ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স নামে একটি কালো আইন প্রণয়ন করা হয়। ২১ বছর ধরে এদেশে সেই আইন বলবৎ ছিল।

সুপ্রিম কোর্টের ইতিহাস তুলে ধরে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের যাত্রা 1972 সালে হাইকোর্ট বিভাগে 10 জন এবং আপিল বিভাগে 3 জন বিচারপতি নিয়ে শুরু হলেও এখন প্রতিষ্ঠানটি রানীতে পরিণত হয়েছে। . সময়ের সাথে সাথে রাষ্ট্রের এই বিশাল অঙ্গটির কাজের পরিধি ও বৈচিত্র্য যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে জনবল ও সমাবেশের সংখ্যাও। বিচারকদের সুযোগ-সুবিধা ও স্বাধীনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের ৯৫ জন বিচারক নির্ভয়ে ও স্বাধীনভাবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এ এম আমিন উদ্দিন এবং বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্ট দিবস উদযাপন সংক্রান্ত বিচারক কমিটির চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।

25 অক্টোবর, 2016 তারিখে সুপ্রিম কোর্টের ফুল কোর্ট সভায়, প্রতি বছর 16 ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

একই দিনে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, ফুলকোর্টের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী যেদিন হাইকোর্টের কার্যক্রম প্রথম শুরু হয়েছিল (১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২) সেই দিন। ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট দিবস পালিত হবে।