শিশু সামিউল হত্যার রায়- মা’সহ প্রেমিকের মৃত্যুদন্ডাদেশ

CNNWorld24
CNNWorld24 Dhaka
প্রকাশিত: 5:14 PM, December 20, 2020

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানী ঢাকা আদাবরের নবোদয় হাউজিংয়ে শিশু খন্দকার সামিউল আজিম ওয়াফি (৫) হত্যা মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাদের পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

রবিবার ঢাকা -৪ নং বিশেষ আদালতের বিচারক শেখ নাজমুল আলম দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।

সামিউলের মা আয়েশা হুমাইরা এশা ও তার অভিযুক্ত প্রেমিক শামসুজ্জামান আরিফ ওরফে বাক্কু (৪৩) মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। দুজনেই পলাতক। আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফারুক উজ্জামান ভূঁইয়া (টিপু) এ বিষয় নিশ্চিত করেন। আদালত এই দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ডে দন্ডিত করেন।

পিপি বলেন, মামলায় রায় ঘোষণার জন্য ৮ ডিসেম্বর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু রায় কার্যকর না হওয়ায় তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হয়।

এই মামলায় শিশু সামিউলের মা এশা জামিনে ছিলেন।তিনি ২৩ নভেম্বর আদালতে হাজির হননি। আদালত তার জামিন বাতিল করে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।অন্যদিকে, তার প্রেমিক শামসুজ্জামান গ্রেপ্তারের পরে হাই কোর্ট থেকে জামিন নিয়ে পলাতক রয়েছেন।

সামিউল হত্যা মামলার আসামিরা হলেন আয়েশা হুমাইরা এশা, শিশু সামিউলের মা এবং তার প্রেমিক শামসুজ্জামান আরিফ ওরফে বাক্কু (৪৩)।

মামলার ফাইল অনুসারে, শিশু সামিউল শামসুজ্জামান আরিফ ওরফে বক্কুর এবং সামিউলের মায়ের মধ্যে একটি অনৈতিক ঘটনা দেখে ফেলায় ২০১০ সালের ২৩ জুন শিশু সামিউলকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এর পরে তার মৃত দেহ লুকানোর জন্য ফ্রিজে রাখা হয়েছিল। পরে লাশটি একটি বস্তাতে ফেলে ওই বছরের ২৪ জুন রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়।একই দিনে সামিউলের মরদেহ প্যাকেট অবস্থায় আদাবরের নবোদয় আবাসন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।

নিহত সামিউল রাজধানীর মোহাম্মদপুর নবোদয় হাউজিংয়ের গ্রিনউড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে ইংরেজি মিডিয়াম প্লে ক্লাসের শিক্ষার্থী ছিল।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা সামিউল একইদিন আদাবর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। গ্রেপ্তারের পরে আসামি আয়েশা ও শামসুজ্জামান হত্যার সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদাবর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী শাহান হক ২৫ অক্টোবর, ২০১২ ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি আদালত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন। বিচার চলাকালীন আদাবর থানার ওসি কাজী শাহান হক ২৫ অক্টোবর, ২০১২ আয়শা এবং বাক্কুরের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি আদালত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। মামলার বিচার চলাকালীন আদালত ২২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন।