জামিন বাতিল সংক্রান্ত হাইকোর্টের নির্দেশ আপিল বিভাগ স্থগিত করেছে

CNNWorld24
CNNWorld24 Dhaka
প্রকাশিত: 1:53 PM, January 5, 2021

নির্দিষ্ট সময়ের জন্য উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পরে অপব্যবহার না করা হলে কোনও অধস্তন আদালত জামিন বাতিল করতে পারবেন না। এ জাতীয় নির্দেশনা সংক্রান্ত আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেছে।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারী) রাষ্ট্রীয় আবেদনের জবাবে এই আদেশ দেয়।
২৩ অক্টোবর, ২০১৯ হাই কোর্ট চট্রগ্রামের ইব্রাহিম নামে একজনের জামিনে চার দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

নির্দেশাবলী হল- ১. হাইকোর্ট বিভাগের কোনও আসামি যদি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য জামিনে মুক্তি পান তবে নিম্ন আদালত জামিনের অপব্যবহারের নির্দিষ্ট অভিযোগ ব্যতীত তার জামিন বাতিল করতে পারবেন না।

২. নিম্ন আদালত নির্দিষ্ট সময়ের জন্য জামিনে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তির জামিন বাতিল করতে এবং হাইকোর্টের আদেশ দাখিল না করার জন্য তাকে কারাগারে প্রেরণ করতে পারবেন না।

৩. সংশ্লিষ্ট আসামি বা ব্যক্তির জামিন বাতিল করতে হলে তাকে যে রায় বা জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে তার উচ্চ আদালতের আপিল হওয়া অবধি অপেক্ষা করতে হবে।
৪.উচ্চ আদালত বিধি বা আপিল না করলে নিম্ন আদালত জামিন বাতিল করতে পারবেন না। তবে হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের শর্ত লঙ্ঘন হলেই জামিন বাতিল হতে পারে।

বিচারপতি মোঃ হাবিবুল গণি ও বিচারপতি বদরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায়ে এই চারটি বিষয় দিয়েছে।সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারকে বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রজ্ঞাপন জারি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

হাইকোর্ট জানিয়েছে যে ইদানীং লক্ষ্য করা গেছে যে উচ্চ আদালত থেকে ।জামিনের পরে যে আসামী নিয়মিত সংশ্লিষ্ট আদালতে (নিম্ন আদালত) হাজিরা দিচ্ছেন তাকে তার জামিন বাতিল করে কারাগারে প্রেরণ করা হচ্ছে।

জামিনের অপব্যবহার না হলেও এমনকি জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর হাইকোর্টের আদেশের অনুলিপি জমা না দেওয়ার কারণে জামিন বাতিল হচ্ছে। এটি প্রায়শই দেশের বিভিন্ন নিম্ন আদালত করে থাকে।এই প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে।

ফলস্বরূপ, হাইকোর্ট এবং মামলা দায়েরকারীরা আর্থিক ও শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আপিল করতে চলে গেছে। মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন আবেদনের শুনানি করেন।

শুনানি শেষে আপিল বিভাগের চার বিচারপতি হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করতে সম্মত হন। এরপরে প্রধান বিচারপতি নির্দেশনা স্থগিত করেন। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে।

তবে আসামির জামিন বহাল রাখা হয়েছে। আবু বকর চৌধুরী নামে এক ব্যক্তি তার আট বছরের ছেলেকে ধর্ষণের অভিযোগ এনেছে।২০১৮ সালের ১৬ মে চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানায় ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছিল।

মামলায় একই দিন পুলিশ ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করেছিল। ইব্রাহিম চট্টগ্রামের বিশেষ নারীও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে জামিনের আবেদন করেন। আদালত তাকে জামিন না দিলে তিনি হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেন।

হাইকোর্ট তাকে ওই বছরের ২ সেপ্টেম্বর ছয় মাসের জামিন মঞ্জুর করেন এবং একটি রুল জারি করেন। পরে তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়।

এরপরে ইব্রাহিম ১৯ জুন, ২০১৯ সালে চট্টগ্রামে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে পাঁচ নম্বর সহিংসতা দমন-সংক্রান্ত বিশেষ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন।

কিন্তু সেই আদালত তার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে তাকে আবার কারাগারে প্রেরণ করেছে। তারপরে তিনি হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেন। গত বছরের ২৬জুন তাকে তিন মাসের জামিন মঞ্জুর করেন হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে তিনি নারীও শিশু নির্যাতন দমন করার জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারককে তলব করেছিলেন।
বিচারক ১৪ জুলাই হাইকোর্টে হাজির হয়ে ইব্রাহিমকে কারাগারে প্রেরণের আদেশের ব্যাখ্যা দেন।

পরে ২১ শে জুলাই তিনি হাইকোর্টের কাছে লিখিতভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছিলেন। শুনানি শেষে আদালত ২০১ সালে চার দফা নির্দেশনা জারি করে। গত বছর রায় ঘোষণা করা হয়েছিল।