বিশ্বে প্রথম বাংলাদেশ মাতৃগ্ধদু পানে- বাবাদেরও ভূমিকা রয়েছে

Desk Reporter
Desk Reporter
প্রকাশিত: ১:২৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩০, ২০২১

লাইফস্টাইল: বিশ্বে প্রথম বাংলাদেশ মাতৃগ্ধদু পানে,আছে বাবাদেরও ভূমিকা। মাতৃদুগ্ধ পানে বাংলাদেশ বিশ্বের ৯৮টি দেশের মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছে । সেক্ষেত্রে বাংলাদেশকে দেওয়া হয়েছে ‘সবুজ’রঙের মর্যাদা। ভারত এ তালিকায় রয়েছে ৭৯ নম্বরে।

মায়ের সুস্বাস্থ্য একটি সুস্থ জাতি গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, একজন সুস্থ মা-ই নিশ্চিত করতে পারেন একজন সুস্থ শিশুর জন্মদান । জন্মের পর একজন নবজাতকের সুস্থতা ও বিকাশের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় এবং অত্যাবশ্যক শিশুখাদ্য হচ্ছে মায়ের দুধ। সন্তানের জন্য মায়ের দুধের পর্যাপ্ত বা প্রয়োজনীয় সরবরাহ নিশ্চিত তখনই হয়, যখন একজন মা নিজেই সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হন।

শিশুকে মায়ের দুধ পান করানোর ক্ষেত্রে বিগত কয়েক দশকে বাংলাদেশের অগ্রগতি রীতিমত বিষ্ময়কর। সম্প্রতি প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ব্রেস্টফিডিং ট্রেন্ডস ইনিশিয়েটিভ -ডব্লিউবিটিআই-তথ্যানুযায়ী, শিশুকে বুকের দুধ পান করানোর ব্যাপারে বিশ্বে এখন সবার শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। মাতৃদুগ্ধের গুণাগুণ বিষয়ে দেশে মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবার ফলেই এমনটি সম্ভব হয়েছে। তবে মাতৃদুগ্ধের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পেলেও মায়ের সুস্বাস্থ্যের বিষয়ে এখনো মানুষের মাঝে অনেকটাই উদাসীনতা রয়েছে। ফলে দেশে এখনো মায়েদের একটা অনেক বড় অংশ পুষ্টিহীনতায় ভুগছেন বলে মনে করেন পুষ্টিবিদরা। আর সার্বিকভাবে জাতীয় স্বাস্থ্যের উন্নতিকল্পে এ বিষয়ে এখনই নজর দেওয়া অতীব জরুরী বলে মনে করেন তারা।

বিষয়টির ব্যাপারে  পুষ্টিবিদ ডা. তাসনিম হাসিন জানান, যারা সবে নতুন মা হয়েছেন, তাদের জন্য নিয়মিত সুষম খাবার গ্রহণ করাটা খুবই জরুরী। আর এক্ষেত্রে পরিবারের সদস্য, বিশেষ করে  স্বামীকে অবশ্যই সচেতন থাকতে হবে যেন কোন অবস্থাতেই প্রসূতি মা কোনো ধরনের অবহেলার শিকার না হয়।

মাতৃদুগ্ধ পান করানোর বিষয়ে সচেতনতা তৈরী করতে-১৯৯২ সাল থেকে বাংলাদেশেসহ বিশ্বে  পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ’। এরি ধারাবাহিকতায়িএ বছর আগস্টের প্রথম সপ্তাহ -১-৭ আগস্ট- বিশ্বের প্রায়-১২০-টি দেশে ‘বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ’ সফলভাবে উদযাপিত হয়েছে। এবারের ‘বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ’র মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘প্রটেক্ট ব্রেস্টফিডিং, এ শেয়ারড রেসপনসিবিলিটি’, অর্থাৎ ‘মাতৃদুগ্ধ দানের সুরক্ষা সবার সম্মিলিত দায়িত্ব’।

মূলত শিশুকে মাতৃদুগ্ধ পান করানো একটি সময় সাপেক্ষ প্রক্রিয়া কাজ ।আর এ দায়িত্ব শুধু মায়ের একার নয়। আর এমনিতেই পরিবারের সব কাজের বোঝাই থাকে নারীদের কাঁধে। এছাড়া সংসার ও কর্মক্ষেত্রের চাপ সামলিয়ে শিশুর যত্ন নিয়ে কর্মজীবী নারীদের জন্য যেন আরো কঠিন। তাই সংসারের অংশীদার হিসেবে শিশুর  মাতৃদুগ্ধ প্রাপ্তির জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরী করা পুরুষের দায়িত্ব। এ সময়টাতে স্ত্রীকে সার্বক্ষণিক সমর্থন ও উৎসাহ দেওয়া,আর যেকোনো প্রয়োজনে তাকে দ্রুত চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হতেও সাহায্য করতে হবে স্বামীদের।

 

এ বিষয়টি তুলে ধরেই এবছর ‘বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ’এর প্রতিপাদ্যে ‘শেয়ারড রেসপনসিবিলিটি’র প্রতি আলোকপাত করা হয়েছে। আসলেই- নবজাতকের জন্মের পর বাবাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও শিশু ও মায়ের যত্নে বাড়তি মনোযোগী হওয়া উচিত। মায়ের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করনে এসময় পুষ্টিকর খাবার বেশি বেশি করে খাওয়ানোর পরামর্শও দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

নবজাতকের মৃত্যুহার কমিয়ে আনতে এবং শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশে জন্মের এক ঘণ্টার মধ্য থেকেই শুরু করে পূর্ণ ৬ মাস বয়স পর্যন্ত কেবল মায়ের দুধই পান করানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন সু-চিকিৎসকরা। এরপর সন্তানের বয়স ২ বছর হওয়া পর্যন্ত মায়ের দুধের পাশা-পাশি বাড়তি খাবার হিসেবে ঘরে তৈরী খাবার চালিয়ে যাওয়া যেতে পারে বলেও মনে করেন তারা।

একাধিক জরিপে দেখা যায়, নবজাতকের জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যেই মায়ের দুধ পান করালে মৃত্যুর হার কমে যায়-৩১ শতাংশ। ৬ মাস পর্যন্ত মাতৃদুগ্ধ পানে শিশুর মৃত্যুঝুঁকি কমে আরও-১৩ শতাংশ । সঠিকভাবে মাতৃদুগ্ধ পান শিশুকে নিউমোনিয়া-ডায়রিয়া ও সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দিয়ে থাকে। এছাড়াও, শিশুর মস্তিষ্ক বিকাশ ও প্রয়োজনীয় ডি হরমোন তৈরীতেও সাহায্য করে থাকে।

 

শিশুর পুষ্টি চাহিদা মেটাতে যেসব উপাদান প্রয়োজন তা কেবল মায়ের দুধেই যেমন অ্যামাইনো অ্যাসিড-প্রোটিন-শর্করা ইত্যাদি সুষমভাবে বিদ্যমান। মাতৃদুগ্ধ পানে শিশুর দাঁত, হাড় ও অস্থির মজবুত গঠনে ভূমিকা রাখে।আর এক্ষেত্রে সুষম খাদ্য নিয়মিত ডিম- দুধ- দেশি ফল- মাছ- মাংস ডাল এবং হরলিকস মাদারস প্লাসের মতো বাড়তি পুষ্টিকর খাবার মায়ের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতে সাহায়তা করে।