বাঁচার জন্য ফলে-জলে

CNNWorld24
CNNWorld24 Dhaka
প্রকাশিত: 11:38 AM, February 7, 2021

লাইফস্টাইল ডেস্ক: যদি জানতে চাই প্রিয় খাবার কী? আমাদের অনেকেরি উত্তর হবে বার্গার, পিজা -চিজি পাস্তা, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, -ফুচকা-চটপটি কারো বা আইসক্রিম।

অনেকের পছন্দের তালিকার শুরুতেই পোলাও বিরিয়ানি-কাচ্চি বা চিকেন ফ্রাইও আছে।কাউকে কি পাওয়া যাবে যিনি বলবেন তার প্রিয় খাবার ফল-সবজি? গেলেও সেই সংখ্যা খুবই কম এটাতো আমরা বুঝতেই পারছি।

জীবনটা আমাদের চলছে এভাবে, যেন আমরা খাওয়ার জন্যই বেঁচে আছি অথচ বিষয়টা হওয়ার কথা একেবারেই উল্টো।মানে বেঁচে থাকার জন্য -সুস্থ থাকার জন্যই আমাদের খাবার খেতে হবে। আর এজন্যই সবচেয়ে বেশি খেতে হবে ফল আর
প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি।

জেনে নেয়া যাক আমরা কোন রঙের ফল খেলে কি উপকারিতা পেয়ে থাকি:
লাল,
লাল ফল: তরমুজ, স্ট্রবেরি, চেরি, রেসবেরি, লাল আঙুর ও আপেল। প্রচুর পুষ্টি উপাদানে ভরপুর ভিটামিন এ ও সি সমৃদ্ধ এই ফলগুলো। এসব লাল ফলমূল প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রেখে সহজেই এড়াতে পারেন প্রোস্টেট ক্যান্সার, জরায়ু ও ফুসফুস ক্যান্সার। এছাড়াও লাল রঙের ফলমূল টিউমার বড় হতে দেয় না, হৃদরোগ প্রতিরোধ করে, রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখে,শরীরের জন্য ক্ষতিকারক এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় এবং গ্যাস্ট্রিকজনিত সমস্যা দূর করে।

সবুজ,
সবুজ রঙের ফল: লেবু, পেয়ারা, সবুজ আঙুর, আপেল, আমড়া, বরই, আমলকি, জলপাই এবং কাঁচা আম।এসব ফলঅ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ।এ সব ফলে রয়েছে ফাইবার, লিউটেইন, জিজানথিন, ক্যালসিয়াম, ফলেট, ভিটামিন সি ও বিটা ক্যারোটিন। এসব সবুজ ফল নিয়মিত খেলে ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস পায়, রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে, হজম ও অন্ত্রের ক্রিয়া সচল ও স্বাভাবিক থাকে। সবুজ শাক-সবজী শরীরকে বিষমুক্ত রাখে, ওজন কমায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ত্বক ও চুলকে সুন্দর রাখতে সাহায্য করে ।

হলুদ-কমলা,
হলুদ ও কমলা ফল: কলা, পাকা আম, কমলা, মালটা, হলুদ আপেল, , লেবু, জাম্বুরা, , পিচ, ফুট, কাঁঠাল, আনারস  এবং

পেঁপে,
দৃষ্টিশক্তি ভালো এবং হাড় সবল রাখতে এসব ফল উপকারী। ভিটামিন এ সমৃদ্ধ হওয়ায় এসব হলুদ ও কমলা রঙের খাবার রাতকানা রোগের ঝুঁকি কমাতে কার্যকর।

নীল-বেগুনী
নীলচে বা বেগুনী রঙের ফল: জাম, ব্ল্যাকবেরী , ব্লুবেরি, , কালো আঙুর, কালো জলপাই, শুকনো বরই, বেগুনী ডুমুর ও আলুবোখারা। এসব ফল থেকে আমরা ভিটামিন সি ও ফাইবার পাই।এফলগুলি প্রদাহ কমায়, শরীরকে ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শুষে নিতে সাহায্য করে, রেটিনাকে সুস্থ রাখে, শরীরে ক্যান্সার সেলের কার্যক্ষমতাকে কমিয়ে আনে এবং টিউমার বড় হতে দেয় না।

আজ থেকে হয়ে যাক আপনার ডায়েট চার্টে রঙ-বেরঙের এসব ফল-ফলাদি।দীর্ঘদিন সুস্থ থাকতে প্রতিদিন ৪০০ গ্রাম ফল-মূল খাওয়ার অভ্যাস করুন।আর এছাড়াও প্রতিদিন কমপক্ষে ৩ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করুন।আর হ্যাঁ যদি ডায়াবেটিস থাকে তাহলে ফলের ধরণ ও পরিমাণ বুঝতে অবশ্যই পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে ভূলবেন না।

মনে রাখা প্রয়োজন,সু-স্বাস্থ্যই সম্পদ- সু-স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল।