পার্বত্য জেলাগুলো এখন পিছিয়ে পড়া জেলা নয়: প্রধানমন্ত্রী

CNNWorld24
CNNWorld24 Dhaka
প্রকাশিত: 1:13 PM, December 2, 2020

নিউজ ডেস্কঃ পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের সব জায়গায় শান্তি বজায় রাখত বদ্ধপরিকর সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশা ব্যক্ত করেছেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষ জাতির পিতার সুখী, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির ২৩ তম বার্ষিকী উপলক্ষে জারি করা বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘকালীন জাতিগত সহিংসতা কোনও তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা ছাড়াই ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর এ ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত  হয়। দীর্ঘদিন ধরে চলমান জাতিগত সহিংসতা বন্ধ  হয়ে গেছে। পিছিয়ে পড়া ও অনুন্নত পাহাড়ি অঞ্চলে শান্তি ও বিকাশের ধারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এসময় , শেখ হাসিনা পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

পার্বত্য জেলাগুলির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের উন্নয়নে এবং পর্যটন শিল্পের প্রসার ঘটাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের সময়োচিত পদক্ষেপের ফলে পার্বত্য জেলা আজ একটি পেছনে পড়া শহর নয়। সরকার পার্বত্য অঞ্চলের পরিবারগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখন রাস্তা তৈরি করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, শিশুদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার জন্য টেকসই সামাজিক সেবা ছাড়াও, সরকার পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন অঞ্চলে ১০,৮৯০ পরিবারের মধ্যে সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সাল থেকে শান্তি চুক্তির আলোকে আওয়ামী লীগ সরকার পার্বত্য অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কাউন্সিল এবং তিনটি পার্বত্য জেলা পরিষদ গঠন করেছি। এই অঞ্চলটিতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, অবকাঠামো, মোবাইল নেটওয়ার্ক সহ সকল সেক্টরের উন্নয়নের জন্য ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী পার্বত্য জনগণের স্থায়ী ঠিকানা হিসাবে ঢাকার বেইলি রোডে ১৯৪ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি শৈল্পিক ও নান্দনিক জটিল নির্মাণের কথা উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেন, “আমরা রাঙ্গামাটিতে একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করেছি।” জমির বিরোধ নিষ্পত্তি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বোর্ডের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও সুসংহত করার জন্য সিএইচটি উন্নয়ন বোর্ড আইন -২০১৪ প্রণয়ন করা হয়েছে।

পাহাড়ি জনগণের উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই আধুনিকতার ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত পিছিয়ে পড়া পাহাড়ী উপজাতিদেরকে প্রথমে উন্নয়নের মূল ধারায় ফিরিয়ে এনেছিলেন। তিনি পাহাড়ি মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। আঞ্চলিক উন্নয়নের পাশাপাশি তিনি শিক্ষার ক্ষেত্রে পাহাড়ী শিক্ষার্থীদের জন্য সমান সুযোগও দিয়েছিলেন। ১৯৭৩ সালের জুনে বঙ্গবন্ধু কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং কারিগরি ইনস্টিটিউটে পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংরক্ষণের নির্দেশ দেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির ২৩ তম বার্ষিকী। ১৯৯ ৭ সালের এই দিনে সরকার ও জনসংহতি সমিতির মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ১৯৯৭ সালের ২ শে ডিসেম্বর তৎকালীন চিফ হুইপ আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ সরকারের পক্ষে একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করেন।

অন্যদিকে, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয়া লারমা ওরফে সন্তু লারমা উপস্থিত ছিলেন। সশস্ত্র প্রতিবাদকারীরা শান্তি চুক্তির মাধ্যমে প্রায় দুই দশক লড়াইয়ের পরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে পান সরকার তাদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন।