জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুঁকিতে নারী-শিশুরা

Desk Reporter
Desk Reporter
প্রকাশিত: ৬:৫৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২১

নিউজ ডেস্ক: জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ নারী-শিশুরা। তাছাড়া নারীর ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের বৈষম্যমূলক প্রভাবের ফলে সামাজিক উন্নয়ন ও রাজনীতিতে নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টিকে খর্ব করে।

কার্যকর জলবায়ু কর্মপরিকল্পনা তৈরীতে লৈঙ্গিক বিষয়গুলোর দিকে অবশ্যই মনোযোগী হতে হবে।জেন্ডারভিত্তিক বাজেট নিয়ে সরকারী মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের ধারণা আরও বেশি বাড়াতে হবে। জেন্ডার সংবেদশীল জলবায়ু বাজেট নিয়ে গভীর জ্ঞান প্রণয়নও এখন সময়ের দাবি।

১৪ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ‘স্টেকহোল্ডার কনসাল্টেশন অন বাংলাদেশ ক্লাইমেট বাজেট -২০২১-২২-’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে এসব কথা বলেন জলবায়ু বিশেষজ্ঞ- পরামর্শক- আলোচক- সাংবাদিক এবং স্টেকহোল্ডাররা।

অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ আয়োজিত-এ ওয়েবিনারে প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স এ্যান্ড ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক ড. মিজান আর খান-মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের  ডেপুটি সেক্রেটারি ফেরদৌসি বেগম- অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির।

এ ওয়েবিনারে বিশেষজ্ঞরা মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকেই জলবায়ু বাজেট বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেন যেখানে জলবায়ু ব্যয়ের প্রাসঙ্গিকতা এবং কার্যকারিতা বোঝার জন্যও বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন। এসময় গত বছরের তুলনায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের জন্য জলবায়ু বাজেট বরাদ্দ কমে যাওয়ায় তাঁরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশের-২৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জন্য-৮ শতাংশেরও কম বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে যা-২০২১-২০২২ অর্থবছরের মোট জাতীয় বাজেটের-৫৭.৩৩ শতাংশ অর্থাৎ -২৫,১২৪. ৯৮ -কোটি টাকা। কিন্তু এর মধ্যে অপারেটিং বাজেটের অধীনে-১০,২৮৬.১৭ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন বাজেটের অধীনে- ১৪.৮৩৮.৮১-কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। গত বছরের বরাদ্দের তুলনায় চলতি অর্থবছরের বাজেট-৭.৪৮ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে-৭.২৬ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জন্য বাজেট বরাদ্দ হয়-৩৭৯.২১ কোটি টাকা যা গত বছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায়-১৯.৮৩ কোটি টাকা কম। আর তাছাড়া আগের বছরের তুলনায় বাজেটে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে-৪২৭.১৯ কোটি টাকা ও মৎস্য এবং প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে-১১৩.৩২ কোটি টাকা কমেছে।

অপরদিকে বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়া শুরু হবার কারণে আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকেও জলবায়ু অর্থায়ন কমে যাবে বলে আশংকার কথা জানান অনুষ্ঠানে উপস্থিত নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল সাইন্স এ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট এর প্রফেসর ড. মিজান আর খান। তিনি বলেন, ‘জলবায়ু অর্থায়নের-৮৫ ভাগ বরাদ্দ আসে স্থানীয় খাত থেকে, তাই স্থানীয় খাতকে গুরুত্ব দিতে হবে। একি সাথে নিজেদের টাকা কিভাবে খরচ হচ্ছে তা সচ্ছতা ও জবাবদীহিতার মধ্যেও রাখতে হবে।