নিরাপত্তায় কোনো ছাড় হবেনা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে,

Desk Reporter
Desk Reporter
প্রকাশিত: ১২:২৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১০, ২০২১

 

নিউজ ডেস্ক: নিরাপত্তায় কোনো ছাড় হবেনা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে।পাবনার রূপপুর থেকে এক দিকে যেমন নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে, তেমনি অন্য দিকে হবে এটি বিজ্ঞানের উৎকর্ষের স্বাক্ষর রাখতে যাওয়া অন্যতম একটি গৌরবোজ্জ্বল স্থাপনা।

কেন্দ্রটি নির্মাণে নিরাপত্তার দিকগুলোকেই সবচে বেশি প্রাধান্য দেয়া হয়েছে জানিয়ে কর্তৃপক্ষ বলছেন, ব্যয় বাড়লেও এখানে কোনো ছাড় দেননি সরকার।

পাঁচ স্তর বিশিষ্ট প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নিরাপত্তাবলয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ-তো বটেই-৮ মাত্রার ভূমিকম্প এমনকি বিমান হামলাতেও টিকে থাকবে এ অত্যাধুনিক প্ল্যান্ট। এদিকে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটের পারমাণবিক চুল্লি বা রিঅ্যাক্টর প্রেসার ভেসেল বসানোর কাজও শুরু হচ্ছে আজ ১০ অক্টোবর রোববার। আর চুল্লি স্থাপন কাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রচলিত জীবাশ্ম জ্বালানী যেমন তেল-কয়লা বা গ্যাস থেকেও সরে এসে বাংলাদেশে পরমাণুর সূক্ষ্ম প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মহাযজ্ঞ শুরুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে একমাত্র এই প্রকল্পটি।

এ ধরনের বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ থেকে উৎপাদন পর্যন্ত প্রতিটি স্তরেই প্রয়োজন দূরদর্শী এবং বিজ্ঞানসম্মত সিদ্ধান্ত। আর প্রতিনিয়তই বদলাতে থাকা পরমাণু প্রযুক্তির আধুনিক সংস্করণ অর্থাৎ তৃতীয় প্রজন্মের চুল্লি বা রিঅ্যাক্টর  বসানো হচ্ছে এই রূপপুরে। এতে থাকবে পাঁচ স্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা।

 

নির্মাতারা বলছেন, নিরাপত্তার সব দিক নিশ্চিত করেই এ প্ল্যান্টের নকশা হয়েছে। আর এখানে ব্যবহৃত অন্যতম যান্ত্রিক সংযোজন ১২টি হাইড্রোঅ্যাকোমডেটরগুলো নিশ্চিত করবে কোনো দুর্বিপাকে প্ল্যান্টের নিজে থেকে চালু থাকার সক্ষমতা।

নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানী বাংলাদেশ লি: ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. শৌকত আকবর জানান, যতগুলো অক্সিডেন্ট-ইনসিডেন্ট ঘটেছে অন্য অন্য দেশে তার সবগুলোই মাথায় রেখেই ডিজাইন করা হয়েছে। এখন আমরা বলছি, বর্তমানে আধুনিক টেকনোলজি ব্যবহার করা হয়েছে। মানে হলো বর্তমান ধরে যেসব মেশিন যোগ করা হয়েছে কখনও যদি স্টেশন ব্লাকআউট হয়েও যায়, তবে ৭২ ঘণ্টা বাইরের কোনো সাহায্য ছাড়াই শুধু পানিপ্রবাহ ছাড়া চলার সক্ষমতা রয়েছে।

নিউক্লিয়ার ফুয়েল বা ইউরেনিয়ামের ফিশন প্রক্রিয়া থেকেই উৎপাদিত তেজস্ক্রিয়া বর্জ্য যাতে বাইরে না আসে, সে জন্যই প্ল্যান্টটির রিঅ্যাক্টর ভবনের অভ্যন্তরেই স্পেন্ট ফুয়েল রাখারও ব্যবস্থা থাকছে বলেও আশ্বস্ত করেছেন এ পরমাণু প্রকৌশলী।

আর এত সব নিরাপত্তা ব্যবস্থার বন্দোবস্ত করতে গিয়ে খরচ কিছুটা বাড়লেও বাংলাদেশ তাতে কার্পণ্য করেননি বলে দাবি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমানের।

তিনি জানান, দেখুন এটি নিয়ে আমরা খুব বেশি কথা বলি না কারণ হলো পৃথিবীব্যাপী এ ধরনের প্রজেক্ট নিয়ে পাবলিক করা হয় না, অনেক কিছুই। দেশের মানুষকে আমরা বলব, আমরা ন্যায়নীতি মেনেই দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়েই কিন্তু আমরা এ কাজটি করছি। মূলত নিরাপত্তাটাই হলো এ প্রকল্পের আসল দিক, যেটা দেখতে হয়। আমরা বলছি ব্যবহার হোক অথবা না হোক আমাদের দেশের মানুষের যেন কোন ধরনের সামান্যতমও ক্ষতি হোক সেটা হতে আমরা দেব না। আর যদি অতিরিক্ত টাকাও খরচ করতে হয় সেটা দিতে রাজি আছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ভূগর্বে এবং ওপরে মিলে রূপপুরে যেসব প্রযুক্তির প্রয়োগ করা হচ্ছে তাতে করে অন্তত শত বছর নিরাপদেই চলমান থাকবে এই প্ল্যান্টটি, বলছেন সংশ্লিষ্টরা।