প্রতিবছর পেঁয়াজের দাম একই সময়ে কেন বাড়ছে?

Desk Reporter
Desk Reporter
প্রকাশিত: ১০:৪৩ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০২১

অর্থনীতি ডেস্ক: প্রতিবছর পেঁয়াজের দাম একই সময়ে কেন বাড়ছে? কয়েক বছর ধরেই একই সময়ে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। ব্যবসায়ীরা এর কারণ হিসেবে বলছেন, দেশের এই নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন ভারত। আর উৎপাদন বাড়ার পরেও দামবৃদ্ধির কারণ হিসেবে দুর্বল বাজার ব্যবস্থাপনা ও বাজার কাঠামোকে দায়ী করছেন কৃষি মন্ত্রণালয়। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি,সংকট তৈরী করে  ফায়দা লুটতে চায় একটি বিশেষ শ্রেণী।

হঠাৎ করেই নিত্যপণ্যের দাম বাড়লে কেনার আগে ভাবতে হয় ভোক্তাদের। তবে এর কারণ স্পষ্ট। সরকারী বিপণন সংস্থা টিসিবি’র হিসাবেই গত ১ মাসে পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে ২০-২৫ টাকা। কয়েক বছর ধরে এ সময়েই পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে আমদানি নির্ভরতাকে দায়ী করছেন কমিশন এজেন্ট এবং আমদানিকাররা। কমিশন এজেন্ট সহিদুল ইসলাম জানান, ভারতের রপ্তানীকারকরা যে বাজার নির্ধারণ করে, সে বাজারটাই বাংলাদেশে নির্ধারণ হয়। পেঁয়াজ আমদানিকারক মোশারফ শিকদার জানান, দেশে যে পরিমাণ উৎপাদন হয় সেটা যথেষ্ট নয়। আরেক পেঁয়াজ আমদানিকারক হাজী মো: মাজেদ জানান, ভারত থেকে পেঁয়াজ আনলে আমাদের দেশে দাম কম পড়ে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গত জুন পর্যন্ত ১ বছরে পেঁয়াজের চাহিদা-৩৫ লক্ষ মে:টনের বিপরীতে উৎপাদন সাড়ে ৩৩ লক্ষ মে: টন। যা আগের বছরের চেয়ে-৮ লক্ষ মে:টন বেশি।সংরক্ষণ দুর্বলতায় সর্বোচ্চ-২৫ শতাংশ নষ্ট ধরলেও টিকে যায়-২৫ লক্ষ মে:টনের বেশি। সেক্ষেত্রে আমদানি করতে হচ্ছে মাত্র-১০ লক্ষ টন। অথচ আমদানি প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রয়েছে দাবি করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছেন, ঘাটতি দেখিয়ে ফায়দা লুটতে চায় বিশেষ একটি শ্রেণী। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আইআইটি অণুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ এইচ এম সফিকুজ্জামান জানান, বাজারে পেঁয়াজের কোনো ঘাটতি নেই। যারা ঘাটতি বলেন তারা আসলে ব্যবসা করতে যায়।

 

কৃষি অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজারে চাহিদা-যোগান এবং উৎপাদনের সঠিক পরিসংখ্যান নেই। আর এ সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, আমদানি বন্ধেই রয়েছে এর আসল সমাধান। কৃষিবিদ অধ্যাপক ড. সদরুল আমিন জানান, আমাদের আসল উৎপাদন কত আর আমাদের চাহিদা কত এখানে একটু রঙ্গরস রয়েছে। কিছু সংখ্যক ব্যবসায়ীর কারসাজি আর কিছু সরকারী ব্যক্তি পর্যায়ের অনাগ্রহ। সমাধান হলো, আমাদের একটা প্যাকেজ আছে, তাহলো উৎপাদন করব আমদানি করব না। কৃষি মন্ত্রণালয় বলছেন, পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়লেও মৌসুমের শুরুতেই পেঁয়াজের নায্যমূল্য না পাওয়ায় আগ্রহ হারাচ্ছেন চাষীরা। আর এর  প্রভাব পড়ছে মৌসুমের শেষে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মেজবাহুল ইসলাম জানান, কৃষকদের মৌসুমে পেঁয়াজের দাম যদি-৪০ টাকা হয়, তাহলে তারা লাভ করতে পারবেন। কিন্তু আমরা মৌসুমে সেই দাম দিতে পারি না। যার কারনে পরবর্তী সময় বিভিন্ন হাত ঘুরতে ঘুরতেই এটার দাম বেড়ে যায়। পেঁয়াজের উৎপাদন বৃদ্ধিতে নেয়া ৪ বছর মেয়াদি পরিকল্পনায় চলতি অর্থবছরে বার্ষিক চাহিদা অপরিবর্তিত রাখা হলেও উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ঘাটতি ধরা হয়েছে প্রায়-৫ লক্ষ মে:টন।

কৃষি মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, সরকারী বিপণন সংস্থা টিসিবি, কমিশন এজেন্ট এবং আমদানিকাররা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আইআইটি অণুবিভাগ, কৃষি অর্থনীতিবিদদের মতামত সব কিছু বিচার বিশ্লেষণ করে সচেতন ভোক্তা সাধারনরা বলছেন যে,সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি,সংকট তৈরী করে  ফায়দা লুটতে চায় একটি বিশেষ শ্রেণী। এই বিশেষ শ্রেণী কারা ? সাধারন মানুষ সরকারের কাছে তা জানতে চায় ? এবং এই বিশেষ শ্রেণীর পেছনে কোন শ্রেণীর হাত আছে তাও জানতে চায় সাধারন ভোক্তারা । ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের এই নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন ভারত।এ বিষয়ে ভোক্তারা বলছেন,আমাদের দেশের পেঁয়াজের বাজার ভারত নিয়ন্ত্রন তাহলে আমাদের সরকারের দূর্বলতা কোথায়?