কামরুন্নাহারের বিচারিক ক্ষমতা সাময়িকভাবে প্রত্যাহার

Desk Reporter
Desk Reporter
প্রকাশিত: ৩:০৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৪, ২০২১

অনলাইন ডেস্ক: ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ৭-এর বিচারক বেগম মোসাঃ কামরুন্নাহারের বিচারিক ক্ষমতা সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে ধর্ষণের ৭২ ঘণ্টা পর মামলা দায়ের না করার বিষয়ে।

রোববার সকাল থেকে বিচারককে আদালতে না বসতেও নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি।

রোববার সকালে সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ও বিশেষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ বিচারপতিদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

“বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট থেকে আজ সকাল সাড়ে ৯টায় আইন মন্ত্রণালয়ে তার সকল বিচারিক ক্ষমতা সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করে তার বর্তমান চাকরি থেকে অপসারণ এবং তাকে আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত করার জন্য একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।”

এর আগে ১১ নভেম্বর দুই ছাত্রী ধর্ষণের মামলার রায় ঘোষণার পর পর্যবেক্ষণে পুলিশকে এ পরামর্শ দেন আদালত। ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল- ৭-এর বিচারক বেগম মোসা. কামরুন্নাহার আদালত এ মামলার রায় দেন। আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদসহ পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বিচারক খালাস দেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণ পর বিচারক বলেন, মামলার দুই ভিকটিম আগে থেকেই যৌনকর্মে অভ্যস্ত। তারা স্বেচ্ছায় হোটেলে গিয়ে সুইমিং করেছেন। ঘটনার ৩৮ দিন পর তারা বলে, আমরা ধর্ষণের শিকার হয়েছি। অহেতুক তদন্ত কর্মকর্তা আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছেন। আদালত ৯৪ কার্যদিবস নষ্ট হয়েছে। এরপর থেকে পুলিশকে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে আসছি। এছাড়া ধর্ষণের ৭২ ঘণ্টা পর কেউ মামলা করতে গেলে তা না নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।

ওই আলোচিত রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, তার রায়ের বিষয়বস্তু নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। তিনি পর্যবেক্ষণে যে বিবৃতি দিয়েছেন (৭২ ঘণ্টা পর ধর্ষণ মামলার কোনো এজাহার পুলিশ নিতে পারবে না) সে বিষয়ে বলতে পারি- এটা সম্পূর্ণ বেআইনি ও অসাংবিধানিক। এ কারণে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে আগামীকাল (রোববার) প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দিচ্ছি। বিচারককে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে।