মেহেরপুরে গম চাষে বাম্পার ফলনের আশা করছে কৃষকরা

Desk Reporter
Desk Reporter
প্রকাশিত: ১১:৫৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৪, ২০২২

আমিরুল ইসলাম অল্ডাম, মেহেরপুর, জেলা প্রতিনিধি ঃ মেহেরপুরের তুলনামূলক ভাবে বেড়েছে গম চাষ । অন্য বছরগুলোর তুলনায় এবার গম চাষে বাম্পার ফলনের আশা করছে কৃষকরা। অথচ আগের বছর গুলোতে
মেহেরপুরে গম ক্ষেতে বøাস্ট রোগের আক্রমণের কারণে কৃষি অফিস গম চাষের ব্যাপারে চাষিদের নিষেধ করেছিল।কৃষি অফিসের ভুল পরামর্শে গমের চাষের পরিবর্তে অনেকে বেশীর ভাগ পরিমাণ জমিতে চাষ হয়েছিল
মসুরী ও তামাক।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা নিরুৎসাহিত করার পরও ২০২০ সালে জেলায় ৩ হাজার ৯৯৫ হেক্টর জমিতে গম চাষ হয়েছিল।আগের বছরের মতো গমক্ষেতে বøাস্ট রোগ হতে পারে বলে আশঙ্কা ছিল। গত বছর এ জেলায় ১০
হাজার ৫৭৫ হেক্টর জমিতে গম চাষ হয়েছিল। গত মৌসুমে ঝুঁকি নিয়েও যারা গম চাষ করেছিল তারা যে আশা করে ছিলো তার অধিক বেশি ফলন হয়েছিল।

চলতি মৌসুমে জেলায় ১২ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে গম চাষ হয়েছে। গম চাষে বাম্পার ফলনের আশা চাষীদের।
গাংনী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে এ বছর রবি

মৌসুমে জেলায় ১২ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে গমের চাষ হয়েছে।এর মধ্যে মেহেরপুর সদরে ৪ হাজার ৫শ’ হেক্টর, গাংনী উপজেলায় ৬ হাজার ৫শ’ হেক্টর এবং মুজিবনগরে ১ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে গম চাষ হয়েছে।

গাংনী উপজেলার ধর্মচাকী গ্রামের কৃষক লিটন মাহমুদ জানান, গত বছর আমি ৫০ শতক জমিতে গম চাষ করেছিলাম তাতে ফলন হয়েছে ২১ মণ। আমি এ বছরে একই জমিতে গম চাষ করেছি আশা করি আগের চেয়ে এবছর ফলন ভাল হবে।

একই কথা জানালেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শুকুর আলী। গত বছর তিনি ৪০ শতক জমিতে গম চাষ করে ছিলেন তাতে ফলন পেয়েছেন ১৬ মণ,তিনি এবছর একই জমিতে গম চাষ করেছেন।আবহাওয়া ভাল হলে এবছর বাম্পার ফলনের আশা করছেন তিনি।একই গ্রামের আব্দুল কাদের জানান, ৫০ শতক জমিতে এবছর গম চাষ করেছেন ।

গাংনী উপজেলার ভোমরদহ গ্রামের মেম্বর শাবান আলী ও মেহেরপুর সদরের পিরোজপুর গ্রামের কৃষক আবুল হাসেম জানান, উচ্চ ফলনশীল জাতের বারি গম-৩৩ চাষ করেছেন।গমচাষের শুরু থেকেই বøাস্ট নামের ছত্রাক
জনিত রোগটির বিষয়ে এবার যথেষ্ট সজাগ আছেন তারা। তাই সময়মত জমির পরিচর্যা করাসহ বøাস্ট ছত্রাক থেকে বাঁচতে বালাইনাশক স্প্রে করবেন বলে জানান তারা।

মুজিবনগর উপজেলার ােমনাখালি গ্রামের কৃষক আমিরুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে কৃষি বিভাগের পরামর্শে জমিতে বারি-৩৩ জাতের গম চাষ করেছেন।মাঠে ফসলের অবস্থা ভাল। চাষকৃত জমিতে একর প্রতি ৪৫ থেকে ৫০ মণ গম পাওয়ার আশা করছেন।

মেহেরপুর জেলা কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার খা জানান, গত বছর মেহেরপুরসহ দেশের ৫টি জেলার গমক্ষেতে বøাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে গমের দানা পরিপূর্ণ না হয়ে চিটা দেখা দিয়েছিল।একারণে এবছর জেলায় গমক্ষেত গুলোতে এ রোগের আক্রমণের আশংঙ্কা থাকায় কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের গম চাষে প্রথম থেকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

কৃষি বিভাগের পরামর্শ উপেক্ষা করে গত বছর যেসব কৃষক গম চাষ করেছিল,কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের সময় মত গমক্ষেতে বিভিন্ন ধরনের ছত্রাকনাশক ওষুধ স্প্রে করায় ফলন ভাল হয়েছিল।তাই জেলার  গমক্ষেতগুলোতে এবার ছত্রাকের প্রকোপ দেখা যায়নি। জনশ্রæতি রয়েছে, চলতি মৌসুমে শীতের প্রকোপ বেশী তাই বেশী শীতে গম ক্ষেত ভাল হয়। তবে এ জেলায় গম ক্ষেতে বাম্পার ফলন হবে বলে তিনি আশা করছেন।

তিনি আরো জানান,গতবছর জেলায় মাত্র ১৭হেক্টর জমিতে এ রোগ দেখা দিয়েছিল।তবে এবছর বারী ৩০,ও কিছু নতুন বারী ৩৩ জাতের গম চাষ হয়েছে জেলায়।