দেশে কর ফাঁকির পরিমাণ বছরে এক লাখ কোটি টাকা

CNNWorld24
CNNWorld24 Dhaka
প্রকাশিত: 5:32 PM, December 12, 2020

বাংলাদেশে কর ফাঁকির পরিমাণ বছরে এক লাখ কোটি টাকারও বেশি। যদিও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছ থেকে তথ্য এসেছে, এনবিআরের তদন্তে বলছে পরিমাণ কম। এছাড়াও, বহুজাতিক সংস্থাগুলি আমদানিকৃত পণ্যের কম দাম দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হ্রাস করছে। কর বিভাগের এই বিষয়গুলি সম্পর্কে কোনও সম্পূর্ণ তথ্য নেই। আর এ জন্য বিশ্লেষকরা কর্মকর্তাদের অযোগ্যতা ও দুর্নীতির পাশা-পাশি পুরানো কর আদায়ের ব্যবস্থাটিকে দায়ী করছেন।

ঢাকার রাস্তায় প্রচুর বিলাসবহুল গাড়ি এবং অত্যাধুনিক ভবনগুলি বলে যে অনেকে টাকার পাহাড় তৈরি করেছেন। প্রভাবশালী ব্যক্তিরা কর ফাঁকি দেওয়ার নামে জমি, ফ্ল্যাট, গাড়ি এবং সঞ্চয়পত্র কিনে, তবে তাদের বেশিরভাগই আয়কর রিটার্নে এই আয় বা সম্পদ দেখায় না। শুধু তাই নয়, আইনী আয়ের একটি বড় অংশ করের আওতায় আসে না। প্রকৃত অ্যাকাউন্টগুলি আড়াল করা, আমদানিকৃত পণ্যের কম দাম এবং স্থানান্তর মূল্য নির্ধারণ সহ বিভিন্ন উপায়ে রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ড। নাসিরউদ্দিন আহমেদ বলেন, বহুজাতিক সংস্থাগুলি সদর দফতরে প্রচুর অর্থ নিয়ে যায়। এ কারণেই আমরা আইন করেছি; তবে ধরার উপায় নেই। তিনি আরও জানান, ঢাকার কিছু লোক প্রচুর সম্পদ রয়েছে। তবে আমি তাদের কাছ থেকে সঠিকভাবে ট্যাক্স সংগ্রহ করতে পারি না। অর্থনীতিবিদরা বলছেন যে দুর্নীতি, অদক্ষতা, প্রশাসনিক ও আইনী দুর্বলতা এবং অটোমেশনের অভাব জিডিপির প্রায় ১০ শতাংশে কর আদায় থেকে বাধা দিচ্ছে।

পিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, “আমাদের বার্ষিক কর ফাঁকি জিডিপির দশ শতাংশ।” আমরা যদি নীতি, প্রশাসন এবং অটোমেশনের মাধ্যমে এই সমস্যাগুলি সমাধান করতে পারি তবে আমরা দ্বিগুণেরও বেশি সংগ্রহ করতে পারতাম। কর কর্মকর্তারা বলছেন, সীমিত জনশক্তি ও অপ্রতুল অবকাঠামোসহ সীমিত সংস্থার মধ্যে রাজস্ব ফাঁকি উন্মোচনের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে।

কর অঞ্চল -৪ অতিরিক্ত কমিশনার নাশিদ রিজওয়ানা মনির বলেন, আয়করের নিজস্ব কোনও পুলিশ সার্ভিস নেই। এনবিআরের কাছে কোনও বিষয় তদন্তের জন্য যে জাতীয় দক্ষ জনশক্তি প্রয়োজন তাও নেই।
প্রতিবেশী দেশ ভারত ও নেপালের ট্যাক্স-টু-জিডিপি অনুপাত রয়েছে ১৬ শতাংশেরও বেশি, যখন বাংলাদেশের রয়েছে মাত্র নয় শতাংশ।

গ্লোবাল ফিনান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি জিএফআইয়ের প্রতিবেদন অনুসারে, যুক্তরাজ্য ভিত্তিক মানি বিরোধী মানি লন্ডারিং সংস্থা ২০০৬ থেকে ২০১৫ দশকে বাংলাদেশ থেকে ৫৩০,০০০ কোটি টাকা পাচার হয়েছিল। দেশে কর ফাঁকির পরিমাণ বছরে একলাখ কোটি টাকা।