বাংলাদেশ একদিন যুদ্ধবিমান তৈরি করবে: প্রধানমন্ত্রী

CNNWorld24
CNNWorld24 Dhaka
প্রকাশিত: 7:09 PM, December 20, 2020

ফাইল ফটো

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৭৭ম বিমান বাহিনী একাডেমি কোর্সের সমাপনী দিনে বলেন, যুদ্ধবিমান তৈরির সক্ষমতা অর্জনে দেশ এগিয়ে যাবে।

রবিবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যশোর বিমান বাহিনী একাডেমিতে প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিমান বাহিনী প্রধান প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে যশোরে প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী ৭৭ তম বিমান বাহিনী একাডেমি কোর্সের ২৯ জন কর্মকর্তা ক্যাডেটদের ৭৭তম কোর্সের উড়ন্ত ব্যাজ এবং সম্মানসূচক তরোয়াল হস্তান্তর করেন।

এই বছর, কমিশন লাভ করেন ২০ মহিলা অফিসার ক্যাডেট সহ মোট ৬৭ কর্মকর্তা। এরপরে চৌকস সরকারী কর্মকর্তারা মনোরম ফ্লাইং পাসে সরকারপ্রধানকে অভিবাদন জানান।

পরে বিমানবাহিনী আয়োজিত শীতকালীন রাষ্ট্রপতি প্যারেড শুরু করেন। এ সময় নতুন কর্মকর্তারা একটি কুচকাওয়াজের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান। সামরিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে বক্তব্য রাখেন সরকার প্রধান। শুরুতে, তিনি করোনা মহামারীর কারণে সরাসরি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে না পারার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন।

সরকার প্রধান বলেছেন, “জাতির পিতা যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশ গড়েন এবং প্রতিরক্ষা নীতি নিয়ে দেশের পক্ষে যান।” এমনকি তখন বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের জন্য সুপারসনিক মিগ -২১ কিনেছিলেন। সীমিত আকারে হলেও, কেবল বিমানবাহিনীই নয়, জাতির পিতা যুদ্ধের পরে বাংলাদেশ গড়ার পাশাপাশি সশস্ত্রবাহিনীকে গড়ে তোলার পক্ষে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিলেন। ‘

বর্তমান সরকার বরাবরই বিমান বাহিনীর উন্নয়নে মনোযোগী বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিমান বাহিনীর সার্বিক উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।” কারণ আমরা এই বাহিনীটিকে আধুনিকীকরণ করতে চেয়েছিলাম। তদুপরি, যেহেতু আমরা ঘোষণা দিয়েছিলাম যে আমরা একটি প্রযুক্তি নির্ভর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ব, তাই আমরা প্রযুক্তি-ভিত্তিক একটি বাহিনী গঠনে বিশেষ মনোযোগ দিই। ‘

শেখ হাসিনা বলেন, বিমান বাহিনীকে আধুনিকায়নের জন্য বিভিন্ন প্রচেষ্টা করা হচ্ছে। যার মধ্যে তিনটি বাংলাদেশে এসেছিল। পাইলটদের দক্ষতা ও উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য আরও ৫টি সি-১৩০জেড বিমান যুক্ত করা হয়েছে এবং শিগগিরই আরো ৭ টি পিটি সিক্স সিমুলেটর যুক্ত করা হবে। এছাড়াও এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন, সাঁজোয়া বিমান বাহন ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা রাফটারগুলিও শীঘ্রই যুক্ত করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার ফোর্সেস গোল -২০৩০ বাস্তবায়নের জন্য উন্নত, আধুনিক ও আরও উন্নত উচ্চ-চালিত যুদ্ধ বিমান এবং অন্যান্য সরঞ্জাম সংগ্রহের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি আরও যোগ করেছেন: “করোনার ভাইরাসের কারণে আমরা এখনই এত টাকা ব্যয় করতে যাবো না। তবে বিমান বাহিনীকে আধুনিকীকরণের পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।”

বাংলাদেশের জন্য উচ্চাভিলাষ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় লালমনিরহাটে চালু করেছি। এই বিশ্ববিদ্যালয়টি বিমান চলাচল, বিমান নির্মাণ, গবেষণা, মহাকাশ বিজ্ঞান অনুশীলন করবে। যার মাধ্যমে আমি আশা করি যে একদিন আমরা থাকব এই বাংলাদেশে যুদ্ধবিমান, পরিবহন বিমান, হেলিকপ্টার তৈরি করতে সক্ষম – আমাদের দেশও একদিন মহাকাশে পৌঁছানোর প্রচেষ্টায় থাকবে। ‘

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিমান বাহিনীর জন্য হেলিকপ্টার সিমুলেটর প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট এবং এয়ার মাইন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের সাংগঠনিক কাঠামো ইতিমধ্যে সরকার অনুমোদন করেছে। তাঁর বিশ্বাস যে এয়ার ফোর্স ব্যবস্থাটি প্রতিষ্ঠায় আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

শেখ হাসিনা বলেন, সরকার এ ক্ষেত্রে সর্বদা সহযোগিতার জন্য বিমান বাহিনীর পাশে সর্বদা দাঁড়িয়েছেন।

তরুণ ক্যাডেটদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “একজন যুদ্ধজয়ী জাতি হিসাবে আমাদেরকে বিশ্বকে সাহসের সাথে চলতে হবে, মাথা উঁচু করে ধরে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেকে মানিয়ে নিতে হবে।” বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। যাতে বাংলাদেশ কোনওভাবেই পিছিয়ে না পড়ে। সেটা মাথায় রেখেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। ‘

তরুণ অফিসারদের উৎসাহিত করে শেখ হাসিনা বলেন, “এই আমাদের বাংলাদেশ যা আপনাদের মতো তরুণদের কাছে প্রত্যাশা করে। আপনি সেই আশা পূরণ করতে সক্ষম হবেন। বিমানের সংযুক্ত নতুন সদস্যদের অবশ্যই দেশপ্রেমের সাথে তাদের দায়িত্ব পালনে অবিচল থাকতে হবে। ‘