স্বদেশ প্রত্যাবর্তন: “অন্ধকার থেকে আলোর পথে যাত্রা”

CNNWorld24
CNNWorld24 Dhaka
প্রকাশিত: 8:09 AM, January 10, 2021

বিশেষ প্রতিবেদকঃ ঐতিহাসিক ১০ জানুয়ারি আজ। । স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৯ তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পরে ১৯৭২ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানের বন্দীদশা থেকে মুক্তি দিয়ে রক্তে ভিজে যাওয়া বাংলার মাটিতে পা রাখেন। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামের বিজয় সম্পন্ন হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু নিজেই তাঁর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ‘অন্ধকার থেকে আলোর যাত্রা’ বলে বর্ণনা করেছিলেন।

১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালিদের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ধানমন্ডির তাঁর বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে। তিনি পাকিস্তানে বন্দী ছিলেন। বাঙালিরা যখন স্বাধীনতার জন্য লড়াই তখন বঙ্গবন্ধু ফাঁসীর আসামি হিসাবে মৃত্যুর প্রহর গুনছিলেন পাকিস্তানি কারাগারে প্রহসনের বিচারের। একাত্তরের ১৬ ই ডিসেম্বর বাঙালির চূড়ান্ত বিজয়ের পরে বিশ্ব নেতারা বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হন। আন্তর্জাতিক চাপে পরাজিত পাকিস্তানী সরকার অবশেষে সম্মানজনকভাবে বঙ্গবন্ধুকে বন্দীদশা থেকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছিল।

২৯০ দিন পাকিস্তানে বন্দী থাকার পরে অবশেষে লন্ডন-দিল্লি হয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারী ঢাকায় পৌঁছেছিলেন তিনি।

বঙ্গবন্ধু যেদিন আগ্রাসনমুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন, বাংলাদেশে এক উৎসবমুখর আমেজ ছিল। পুরো বাঙালি জাতি তাদের প্রিয় নেতার জন্য একটি স্বাধীন দেশের ভূখন্ডে পৌঁছতে দম ফেলার অপেক্ষায় ছিল। মানুষের ঢল বিমানবন্দর এলাকায় ছিল। বিমানবন্দর থেকে ঐতিহাসিক রেসকোর্স মাঠের রাস্তায় (এখন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ভিড় ছিল। স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখার সাথে সাথে বঙ্গবন্ধু আবেগে অভিভূত হয়েছিলেন। দীর্ঘ নয় মাস পাক আগ্রাসনকারী ও তাদের স্থানীয় মিত্রদের গণহত্যার সংবাদ শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। এদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের কয়েক লক্ষ জনতাকে ঘোষণা করেছিলেন, “রক্ত দিয়েও বাঙালি জাতির ভালোবাসার এই ঋণ আমি শোধ করে যাবো।”

তারপরে, প্রতি বছর কৃতজ্ঞ বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস বিভিন্ন আয়োজনের সাথে পালন করে আসছে। এবারও দিনটি আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হতে চলেছে।

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বক্তব্য দিয়েছেন।আওয়ামী লীগসহ রাজনৈতিক দল, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এই দিনটিতে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পুরো জাতি বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানাবে। তবে করোনার কারণে সবাই স্বাস্থ্য বিধি নিয়ম মেনে চলবে।

দিনের অংশ হিসাবে সকাল সাড়ে ৬ টায় আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবন এবং সারাদেশে এর সকল কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করবে। সকাল ৯ টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিকেল সাড়ে তিনটায় আওয়ামী লীগের একটি সীমিত সভা অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সম্মেলনে ভাষণ দেবেন।