রুখতে হবে ফসলি জমিতে পুকুর খননের দুর্বৃত্ত দানবদের-মানবসৃষ্ট দুর্যোগ ঝুঁকিতে চলনবিলের কৃষি ও কৃষক

CNNWorld24
CNNWorld24 Dhaka
প্রকাশিত: 7:42 PM, November 25, 2020

আবুল কালাম আজাদ: ’রুখতে হবে ফসলি জমিতে পুকুর খননের দুর্বৃত্ত দানবদের-মানবসৃষ্ট দুর্যোগ ঝুঁকিতে চলনবিলের কৃষি ও কৃষক’

#তেমনি দানবীয় পন্থায় বেপরোয়াভাবে কোন যাচাই না করে যেখানে সেখানে ফসলি জমি ধংস করে, নদী-জোলা – নালা-খাল , ব্রীজ-কালভাটের মুখ বন্ধ করে পানি নিস্কাষনের পথ রুদ্ধ করে পুকুর খনন করে মাছ চাষ করায় মানবসৃষ্ট ভয়াবহ দুর্যোগের ঝুঁকিতে পড়েছে চলনবিলের কৃষি ও কৃষক এবং স্বাস্থ্য ও পরিবেশ।।

#আসুন আমরা সবাই গর্জে উঠে ‘ পুকুর খননকে না’ বলি।পুকুর খননের দানবদের সামাজিকভাবে প্রতিরোধ করি।

কোন দুর্যোগের কথা উঠলেই সেখানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। যেখানে বাইরের সাহায্য-সহযোগিতা ছাড়া ক্ষতিগ্রস্থদের পুর্বের সাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়না।তাই দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্য পুর্ব প্রস্ততি, উদ্ধার,সাড়া প্রদান,জরুরী ত্রান, ক্ষয়ক্ষতির জরিপ এবং পুনর্বাসনের কথা চলে আসে।দুর্যোগের পরিভাষায় দুর্যোগ হচ্ছে দুই প্রকার- ক) প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর খ) মানবসৃষ্ট দুর্যোগ। পুর্ব প্রস্ততি থাকলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমানো যায় নির্মূল করা যায়না কিন্ত মানবসৃষ্ট অর্থাৎ মানুষ কর্তৃক সৃষ্ট দুর্যোগ যথাযথ ব্যবস্থা নিলে নির্মূল করা যায়।তেমনি দানবীয় পন্থায় বেপরোয়াভাবে কোন যাচাই না করে যেখানে সেখানে ফসলি জমি ধংস করে, নদী-জোলা – নালা-খাল , ব্রীজ-কালভাটের মুখ বন্ধ করে পানি নিস্কাষনের পথ বন্ধ করে পুকুর খনন করে মাছ চাষ করায় মানবসৃষ্ট ভয়াবহ দুর্যোগের ঝুঁকিতে পড়েছে চলনবিলের কৃষি ও কৃষক এবং স্বাস্থ্য ও পরিবেশ।এমনকি চলনবিলের তলাতেও পুকুর খনন করায় চলনবিলের স্বাভাবিক পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে এবং চলনবিলের সৌন্দর্য্য ও ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে। এই নিবন্ধে আজ আমি চলনবিলে কৃষিজমি ধংস করে পুকুর খননের মহামারীর প্রেক্ষপটের আলোকে কিছু লিখতে চাচ্ছি। জানিনা পাঠকদের হৃদয়ে যেতে পারবোকিনা। সরকার বা প্রশাসন কোন পদক্ষেপ নিবেকিনা।

মরনঘাতী কভিড-১৯ করোনা ভাইরাসের ন্যায় গোটা চলনবিল ব্যাপী ফসলের জমি ধংস করে সুবিধাবাদী একশ্রেনির ভ’মিখেকো প্রভাবশালী দানব সকল বাধাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একের পর এক পুকুর খনন করেই যাচ্ছে।কোন বাধাই মানতে রাজি নয় এই পুকুর খননে লিপ্ত দানবেরা উন্মত্ত হয়ে উঠেছে।

বিগত ২০০০ সালের দিকে নাটোর জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার চাপিলা ইউনিয়নের মহারাজপুর থেকে মাছ চাষের জন্য পুকুর খননের মহামারী কার্য্যক্রম শুরু হয়।পুকুরে মাছ চাষ অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় দেখাদেখি ফসলী জমিতে পুকুর খনন করে বানিজ্যিকভাবে মাছ চাষের বিস্তার লাভ করে।মাছচাষীরা মাছ বিক্রী করে লাভবান হয়ে নতুন নতুন ডিজাইনের অট্রালিকা নির্মান করছে এবং নতুন নতুন গাড়ির মালিক হচ্ছেন। এসব দেখে চাপিলা ও নাজিরপুর ইউনিয়নসহ উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নেই পুকুর খননের মহোৎসব লেগেযায়। দেখাদেখি চলনবিল অঞ্চলের সিংড়া, বড়াইগ্রাম, তাড়াশ , চাটমোহর সহ সর্বত্র জমির মালিকেরা জমি বিক্রি করে, বন্ধক রেখে, ব্যাংক, এনজিও, এবং গ্রমের সমিতি থেকে চরা সুদে ঋন নিয়ে মেতে উঠেছে অল্প দামে জমি কিনে নিয়ে ফসলী জমি ধংস করে পুকুর খনন কার্য্যক্রম প্রতিযোগিতায়। প্রতিযোগিতামুলক স্বাস্থ্য ও পরিবেশ, জীববৈচিত্র, জলাবদ্ধতা, ফসল চাষ,রাস্তার স্থায়ীত্ব, চলাচল, শিক্ষা এবং খাদ্যের ঝুঁকির কথা বিবেচনা না করে যত্রতত্র পুকুর খনন চলছে বছরের পর বছর। তুলসি নদী, মির্জামামুদ নদী , বোয়ালিয়া নদীসহ খাল-জোলা -নালা বন্ধ করে , ব্রীজ- কালভার্টের মুখ বন্ধ করে পুকুর খনন করা হচ্ছে। এতে অনাহুত জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।এসব এলাকার অন্যান্য ফসলী জমি , বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তা-ঘাট প্রায় সারাবছরই পানিতে ডুবে থাকে। পানি নিষ্কাষনের পথ বন্ধ করে পুকুর খননের কারনে জলাবদ্ধতাা স্থায়ী হওয়ায় আম,কাঁঠাল, সুপারি, নারিকেল, কুল, কলাগাছ, পেয়ারা, জামিরসহ সকলপ্রকার ফল ও কাঠের গাছ মরে যাচ্ছে।বাড়ির আঙিনায় , জমিতে কোনপ্রকার শাক-সব্জির আবাদ করতে পারছেনা কৃষক ও গৃহিনীরা। পানি পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। নানাধরনের পানিবাহিত রোগের বিস্তার হচ্ছে।পুকুর খননের আত্মঘাতি এই মহামারী অতি দ্রæতই চলনবিলের গুরুদাসপুর উপজেলাসহ বড়াইগ্রাম. সিংড়া, তাড়াশ, চাটমহোর, ভাঙুরা উপজেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। পুকুরের বেড়াজালে আবদ্ধ জমিগুলি জলাবদ্ধ থাকায় কোন ফসলই আবাদ করতে পারছেনা কৃষক।সারাবছরই ফেলে রাখতে হচ্ছে। এছাড়া পানি নিস্কাষনের পথ নদী, জলা, খাল, ব্রীজ- কালভার্টের মুখ বন্ধ করে পুকুর খনন করায় পানি নিস্কাষনে বাধাপ্রপ্ত হয়ে অকাল বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ফসল ডুবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।দানবীয়ভাবে পুকুর খননের বিরুপ প্রভাবে মানবসৃষ্ট দুর্যেগে চলনবিলের কৃষক-কৃষি, মানুষ , স্বাস্থ্য ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ঝুঁকিতে পড়েছে। চলাচল ও স্বাস্থ ঝুঁকিতে পড়েছে নারী ও শিশু, প্রবিন্ধী,বয়স্ক ব্যক্তি, শিক্ষার্থীসহ সকল শ্রেনি-পেশার মানুষ। বেকার হয়েছে কৃষি দিনমজুর এবং আদিবাসিনৃগোষ্ঠি পরিবার।দেখাদিয়েছে অর্থনৈতিক এবং খাদ্যের অভাব। বেড়েছে বিশুদ্ধও নিরাপদ পানিয়, পয়নিষ্কষন ব্যবস্থা ও চিকিৎসা সংকট। কাজের অভাবে ঋনগ্রস্থ মানুষ ঋনের কিস্তি দিতে না পারায় সুদে কারবারি এবং এনজিও-ও অত্যাচারের ভয়ে ভিটেমাটি ছেড়ে পালাচ্ছে।

২০১১ সালের পরিসংখ্যানে দেখাযায়, গুরুদাসপুর উপজেলায় মোট দিঘীর সংখ্যা-ছিল-৩২ টি, পুকুর ছিল- ৩, ৮৬৪ টি, মাছ চাষোর পুকুর ছিল ২,২৩৭টি । এসময় মোট আবাদী জমি ছিল ৪৪, ৬২০ একর। এরমধ্যে-এক ফসলী জমি-৮,৮৩১ একর, দুই ফসরি জমি- ২৯,৫০০ একর, এবং তিন ফসলি জমি-২,৯২২ একর, উঁচু জমি-৫,৮৭১ একর, মাঝারি জমি-২৪,১৫১ একর,সেচকৃত জমির পরিমান-৪৪,৬২০ একর, নীচু জমির পরিমান-৯,২৩৫ একর এবং অনাবাদি/ পতিত জমি ৩১ একর। মোট জলাশয়ের পরিমান ৩,৭৯৩ একর।

গুরুদাসপুর সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসের ১২ বছরের পরিসংখ্যানে দেখা যায়-২০০৮-২০০৯ বছরে পুকুর সংখ্যা-৪,১১০টি, আয়তন- ১,৩৫০ হেক্টর, ,২০১৯-২০ বছরে পুকুর সংখ্যা দেখানো হচ্ছে-৬,৩৬২ টি, জলায়তন- ২,২৩০ হেক্টর।কিন্তু ২০১৯-২০ সালে উপজেলায় বাস্তবে পুকুর সংখ্যা হয়েছে প্রায় ৯ হাজারেরও বেশী এবং জলায়তন প্রকৃতপক্ষে ৬ হাজার হেক্টরেরও বেশী হবে। অথচ পুকুর ও জলায়তনের সঠিক তথ্য উপজেলা মৎস অফিসে নাই।

নাটোর জেলা মৎস্য অফিসের ২০১৮-১৯ বছরের দেয়া তথ্যে দেখা যায় ২৭, ৪৯০ টি, জলায়তনের পরিমান-৮,৪৩৮ হেক্টর। উপজেলাভিত্তিক এর পরিমান হচ্ছে, নাটোর সদরে পুকুর সংখ্যা-৫,৪৮৭ টি, জলায়তন ১,৬৩৯ হেক্টর, সিংড়ায় পুকুর সংখ্যা-৫,৮৪৩টি, জলায়তন-২,২০৩ হেক্টর, গুরুদাসপুরে পুকুর সংখ্যা- ৬,৩৬২ টি জলায়তন- ২,২৩০ হেক্টর, বড়াইগ্রামে পুকুর সংখ্যা-৩,১২০টি, জলায়তন- ১,৯৩ হেক্টর, লালপুরে পুকুর সংখ্যা- ২,৭৭৮ টি, জলায়তন- ৮০০ হেক্টর, বাগাতিপাড়া পুকুর সংখ্যা- ১,৬৫২টি, জলায়তন- ৪১৭ হেক্টর এবং নলডাঙ্গায় পুকুর সংখ্যা- ২,২৪৮ টি , জলায়তন-৬০০ হেক্টর।

গুরুদাসপুর সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসের ১২ বছরের পুকুর এবং জলায়তনের বাৎসরিক প্রতিবেদন পরিসংখ্যান বিশ্লেষন করতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে মৎস্য অফিসের প্রতিবেদনেও তথ্য উপাত্তে ব্যাপকভাবে পুকুর চুরির ঘটনা ঘটেছে। মৎস্য অফিসের প্রতিবেদন তথ্য এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তব অবস্থার সাথে কোনই মিল নাই। মাঠ পর্যায়ে মৎস্য অফিসের দেয়া তথ্যের চেয়ে প্রকৃত পুকুর সংখ্যা এবং পরিমান অনেক বেশী হবে বলে বিভিন্ন গনমাধমের রিপোর্টে উল্লেখ করা হচ্ছে। এর কারন জানতে চাইলে গুরুদাসপুর সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার মো. আলমগীর হোসেন জানান, জনবল না থাকার কারনে মাঠ পর্যায়ে জরিপ করে পুকুর সংখ্যা এবং জলায়তনের সঠিক পরিসংখ্যান দেওয়া সম্ভব হচ্ছেনা। জনবল চেয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে বার বার চাহিদাপত্র দিয়েও কাজ হচ্ছেনা তাই বিভাগীয় ফর্মুলায় তথ্য তৈরী করে পাঠানো হচ্ছে। তিনি স্বীকার করেন, প্রতিবছর পুকুর খনন বাড়ছে জ্যামিতিক হারে রিপোর্ট দেয়া হেেচ্ছ গানিতিক হারে যা কাম্য নয়। ফলে সরকার সঠিক তথ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মাছ চাষে অনেক অর্জন থাকলেও প্রকৃত তথ্যের অভাবে সরকারের প্রকৃত অর্জন দেখাতে পারছেনা। তবে মৎস্য অফিসার আলমগীর হোসেন জানান, উপজেলায় পুকুরের প্রকৃত অবস্থা জানতে মাঠ পর্যয়ে জরিপের কাজ চলছে। করোনার কারনে জরিপের কাজ বন্ধ থেকে আবারো তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। শীঘ্রই জরিপ শেষ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিসে পুকুর খননের কারনে কি পরিমান কোন কোন শ্রেনির ফসলের জমি পুকুর গিলে খেয়েছে তার কোন তথ্য নাই। তারাও বিভগীয় ফর্মুলায় তথ্য তৈরী করে রিপোর্ট করছেন । অথচ বাস্তবে প্রতিবছরই ২/৩ শত হেক্টর ফসলী জমি পুকুরের পেটে যাচ্ছে। কমে যাচ্ছে ফসলী জমি। এ নিয়ে চলনবিলের সর্বত্র ব্যাপক হৈ চৈ চলছে ফসলের জমিতে পুকুর খনন বন্ধ কর ,বন্ধ কর বলে। তারপরও কৃষি বিভাগ এবং মৎস্য বিভাগ বছরের পর বছর ধরে প্রকৃত তথ্য গোপন করে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সরকারকে অন্ধকারে রেখেছেন দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

চলনবিল, নদী- নালা , পরিবেশ, জলাভুমি এবং জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আমি যতগুলি নিবন্ধ লিখেছি প্রত্যেকটা লেখাতেই অপরিকল্পিতভাবে যত্র-তত্র মুল্যবান ফসলি জমি ধংস করে অতি মুনাফার লোভে মাছ ছাষের জন্য পুকুর খননের বিরূপ প্রভাবের কথা তুলে ধরা হয়েছে। বেপরোয়াভাবে পুকুর খনন বন্ধ করে ফসরি জমি রক্ষা করার জন্য সরকার ও প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপের দাবি করা হয়েছে।একই দাবি করে দেশের জাতীয়,ও স্থানীয় পত্রপত্রিকাসহ বিভিন্ন মিডিয়াতে সংবাদ, নিবন্ধ,সম্পাদকীয়- উপ-সম্পাদকীয়, মতামত অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে ছাপা হয়েছে এবং হচ্ছে। পুকুর খননের মহামারী বন্ধের দাবিতে গুরুদাসপুর উপজেলাসহ চলনবিলের সিংড়া, তাড়াশ, চাটমোহরও বড়াইগ্রাম উপজেলার ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক, চলনবিল রক্ষা আন্দোলন কমিটি, নদী রক্ষা আন্দোলন কমিটি. পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন কমিটিসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক সংগঠন মানব বন্ধন,অবরোধ করেছে, সরকারের কাছে পুকুর খনন বন্ধে দাবী জানিয়ে স্মারকলিপি দিয়েছে।আমাদের নাটোর -৪ (বড়াইগ্রম-গুরুদাসপুর) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ অধ্যাপক মো. আব্দুল কুদ্দুস ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক- জনতার দাবির সাথে একাত্বতা ঘোষনা করে পুকুর খননের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করেন। তিনি নিজে মাঠে নেমে জনগনকে সাথে নিয়ে পুকুর খননের ভেকুসহ যন্ত্রপাতি সরঞ্জাম পেট্রল দিয়ে জ¦ালিয়ে দেন এবং প্রশাসনকে পুকুর খননকারীদের বিরুদ্ধে সরকারি নির্দেশনা মোতাকে আইনানুগ ব্যবস্থ নেওয়ার জন্য চাপ দিয়েও ব্যর্থ হচ্ছেন। কারন সরিষায় ভুত।

এখনই কঠোরভাবে রুখতে হবে ফসলের জমিতে পুকুর খননের অপ্রতিরোধ্য দানবদের। গড়ে তুলতে হবে সামাজিক প্রতিরোধ। মানবসৃষ্ট ভয়াবহ দুর্যোগের অনাকাংখিত ঝুঁকি থেকে বাঁচাতে হবে ক্ষতিগ্রস্থ চলনবিলের কৃষক-কৃষি,স্বাস্থ ও পরিবেশ এবং কৃষি অর্থনীেিত।মানবসৃষ্ট এই দুর্যোগ থেকে বাঁচতে হলে আগে জলাবদ্ধতা দুর করতে হবে। এজন্য জরুরী ভিত্তিতে যেসব নদী-জোলা, খাল ,ব্রীজ-কালভার্ট বন্ধ করে পানি নিষ্কাষনেরপথ দখল করে অবৈধ পুকুর খনন করেছে তা উদ্ধার এবং খনন ও সচল করে পানি নিস্কাষনের ব্যবস্থা করতে হবে। আসুন আমরা সবাই গর্জে উঠে ‘ পুকুর খননকে না’ বলি।পুকুর খননের দানবদের সামাজিকভাবে প্রতিরোধ করি।

মো. আবুল কালাম আজাদ # সভাপতি, চলনবিল প্রেসক্লাব, নাটোর ,এবং বার্তা সম্পাদক, দৈনিক দিবারাত্রী পত্রিকা