জাতীয় পতাকা বিকৃতিকারীরা-জাতীয় বেঈমান-শাস্তি প্রয়োজন

CNNWorld24
CNNWorld24 Dhaka
প্রকাশিত: 7:59 AM, December 18, 2020

রানা চৌধুরীঃ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে মহান বিজয়ের দিন জাতীয় পতাকা বিকৃত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ক্ষোভে ফেটে পড়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ রংপুরবাসী। তবে বিষয়টি এখন আর রংপুরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটা এখন জাতীয় বিষয়।

পতাকা বিকৃতিকারীরা স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তির উত্তরসুরী।তারা জাতীয় পতাকা বিকৃতি করে স্বাধীন-সর্বভৌম বাংলাদেশের পবিত্র ভূমিতে আঘাত হেনেছে।পবিত্র সংবিধান লংঘনে হাত দিয়েছে।স্বাধীনতা পক্ষের শক্তি-দেশ প্রেমিকদের কলিজায় আঘাত করেছে।এরা দেশদ্রোহী,এরা পরাজিত শক্তির বংশধর।

স্বাধীনতার ৫০ বছরেও থেমে নেই এরা,তাইতো মাঝে-মাঝে তারা টোকা মেরে দেখে যে,বাংলার মুক্তি পাগল মানুগুরো ঘুমিয়ে পড়েছে নাকি? অসুভ শক্তির বীজ বোনার সময় এসেছে নাকি শাস্তি।পতাকা বিকৃতি করে তারা চুড়ান্ত সীমা লংঘন করেছে । তাদের অবশ্যই অবশ্যই আইনের আওতায় এনে প্রাপ্য শাম্তি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের পবিত্র দায়িত্ব বলে আমি মনে করি।

উল্লেখ্য ১৬-ডিসেম্বরে মহান বিজয়দিবসে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মৃতি প্রাঙ্গণে সবুজ সবুজ রঙের অভ্যন্তরে লাল বৃত্তের পরিবর্তে একটি আয়তক্ষেত্রাকার লাল আকার তৈরী করে শিক্ষকরা জাতীয় পতাকা বিকৃতি করেছে। এছাড়াও ওই দিন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মহান বিজয় দিবস পালন করেন। দিবসটি উপলক্ষে ক্যাম্পাসে কোনও আলোকসজ্জা করা হয়নি। ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ। এর আগে ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসেও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধীনে থাকা বধ্যভূমিতেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শ্রদ্ধা জানায়নি। উপাচার্যও ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত ছিলেন। এ নিয়েইে আছে বিতর্ক।

ছবিতে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক, সহকারী অধ্যাপক তাবিউর রহমান, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রধান, বাংলা বিভাগের প্রধান, ড. পরিমল চন্দ্র বর্মন, পরিচালক , অর্থ ও হিসাব বিভাগ, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং গণিত বিভাগের প্রধান শামীম হোসেন, ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক সোহাগ আলী, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের প্রভাষক, বিপণন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সমাজবিজ্ঞান প্রসাদ বিভাগের প্রভাষক প্রক্টর মাসুদুল হাসান, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক কাইয়ুম এবং রহমতউল্লাহ বিকৃত পতাকা ধারণ করে দাঁড়িয়ে আছে।

জাতীয় পতাকা বিকৃতিকারীরা জাতীয় বেঈমান, এরা শিক্ষা ও শিক্ষক নামের কলঙ্ক। এ অপরাধ ক্ষমার অযোগ্য।অপরাধীদের আইনের মধ্যদিয়ে শাম্তি নিশ্চিত করন এখন সময়ের দাবী এবং রাষ্ট্রের পবিত্র দায়িত্ব বলে আমি মনে করি।
লেখক:সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিষ্ট।